গোয়েন্দা কাহিনি হলেও মূল আধার হাস্যরস। রবি ঘোষ নিজের টিপিক্যাল কমেডি ইমেজ ছেড়ে বেরোননি। মজার গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

ভগবান দাস রবি ঘোষ। গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 27 May 2025 16:30
আটের দশকে ফেলুদা আর ব্যোমকেশ বক্সীর কাহিনির বাইরে কলকাতা দূরদর্শনে একাধিক গোয়েন্দা গল্পের বাংলা সিরিয়াল শুরু হয়েছিল। সাহিত্যিকদের লেখা গল্পে বা মৌলিক গল্প নিয়েও ছোট পর্দায় শুরু হয় এমন সব রহস্য রোমাঞ্চ সিরিয়াল। ১৯৮৮ সালে রবি ঘোষ টেলিভিশনে অভিনয় করতে এসেছিলেন গোয়েন্দা ভগবান দাসের চরিত্রে। আজ বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে গেছে রবি ঘোষ অভিনীত এই ধারাবাহিক।
তখন তো মেগা সিরিয়ালের যুগ শুরু হয়নি। সপ্তাহে একদিন করেই ১৪-১৫ পর্বের ধারাবাহিক কয়েক মাস ধরে দেখানো হত। সে কারণে টিআরপির তাড়া না থাকায়, অনেক সময় নিয়ে ফিল্মের আকারে বানানো হত সিরিয়ালগুলো।

ডিডি ন্যাশনালে হিন্দিতে যেমন জনপ্রিয় হয়েছিল রজিত কাপুরের 'ব্যোমকেশ বক্সী' সিরিয়াল তেমন বাংলাতেও কলকাতা দূরদর্শনে নানা গোয়েন্দা গল্পের ধারাবাহিক শুরু হয়। প্রথমেই মনে পড়ে 'বিচিত্র তদন্ত' ধারাবাহিকের কথা। আর্থার কোনান ডয়েলের অমর সৃষ্টি শার্লক হোমসের কাহিনিকে বাঙালির ধাঁচে ঢেলে তৈরি করা হয় গোয়েন্দা চরিত্র ঘনশ্যাম নন্দীকে। 'বিচিত্র তদন্ত'র নাম তখনকার দর্শক মনে রাখলেও এক ব্যর্থ ও হতাশাব্যঞ্জক প্রযোজনা ছিল।
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনি নিয়ে হিট সিরিয়াল ছিল 'কানামাছি'। অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়না দাস ও অনিল চট্টোপাধ্যায় ছিলেন এই সিরিয়ালে। অসাধারণ পরিচালনা ও প্রযোজনা ছিল এটির ।
সমরেশ বসুর 'গোগোল' নিয়ে সিরিয়াল হলেও তা তেমন চলেনি।

১৯৮৮ সালে কলকাতা দূরদর্শনে এল 'গোয়েন্দা ভগবান দাস'। নামভূমিকায় রবি ঘোষ। গোয়েন্দা কাহিনি হলেও মূল আধার হাস্যরস। রবি ঘোষ নিজের টিপিক্যাল কমেডি ইমেজ ছেড়ে বেরোননি। মজার গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
সিরিয়ালের শীর্ষসঙ্গীত 'আয়া ভগবান দাস' বেশ হিট করেছিল তখন। পরিচালনার মান দুর্বল হলেও অভিনয় গুণে রবি ঘোষ কিছুটা হলেও জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন।
কিন্তু এই ধারাবাহিকের হাস্যরস শেষ অবধি সস্তার ভাড়ামি হয়ে গিয়েছিল। রবি ঘোষের মতো কিংবদন্তি অভিনেতার এ হেন দুর্গতি দেখে হাসির বদলে দুঃখটাই বেশি হয়েছিল দর্শকের। দুর্বল চিত্রনাট্য হওয়াতে রবি ঘোষ একা আর টানতে পারেননি এই সিরিয়াল।
![]()
গোয়েন্দা মানে বাঙালির কাছে তখন ফেলুদা বা ব্যোমকেশের ব্যক্তিত্ব। কিন্তু গোয়েন্দা যেখানে ভাঁড় সেখানে রহস্য আর রহস্য থাকে না।
সব মিলিয়ে 'গোয়েন্দা ভগবান দাস' দর্শকের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। সমালোচকদের তীব্র সমালোচনায় রবি ঘোষের গোয়েন্দা ভগবান দাস কয়েক মাসেই বন্ধ হয়ে যায়। হিন্দি সিরিয়ালের পাশে মার খাচ্ছিল এই বাংলা সিরিয়ালগুলো। অর্থের খামতি বা স্পনসরের ঝামেলা- পরিচালক, প্রযোজকরা বললেও তাঁদের সৃজনশীল কাজের অভাব ফুটে উঠত সিরিয়ালে। তবে এখনকার দিনে যে সিরিয়াল হয় তার থেকে এই সিরিয়ালের মান অনেক উন্নত ছিল।
রবি ঘোষের শেষ সিরিয়াল ছিল 'গোপাল ভাঁড়'। এটি কিন্তু হিট করেছিল। যদিও এই সিরিয়াল করতে করতেই রবি ঘোষ মারা যান। তাঁর শূন্য আসনে গোপাল ভাঁড় সেজেছিলেন বিভু ভট্টাচার্য।