বিকেল পাঁচটায় টেকনিশিয়ানদের পক্ষ থেকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে রুদ্রনীল ঘোষকে নিয়ে একের পর এক তীব্র অভিযোগ সামনে আনেন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। অভিযোগ— টাকা মেটাননি।

শেষ আপডেট: 21 November 2025 20:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিকেল পাঁচটায় টেকনিশিয়ানদের পক্ষ থেকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে রুদ্রনীল ঘোষকে নিয়ে একের পর এক তীব্র অভিযোগ সামনে আনেন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। অভিযোগ— টাকা মেটাননি।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি স্বরূপ ঘোষ। তিনি সরাসরি আঙুল তুললেন রুদ্রনীলের দিকে: “আপনি আচরি ধর্ম শিখাও অপরে” — এই কথায় যা বোঝাতে চাইলেন, তা স্পষ্ট: কলাকুশলীদের টাকা না মেটানো নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ। ফেডারেশনের অভিযোগ, গত প্রায় দুই বছর ধরে রুদ্রনীল ঘোষের প্রোডাকশন সংস্থা ফেডারেশনের টেকনিশিয়ানদের প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার বকেয়া মেটায়নি। ফেডারেশন বারবার মেল পাঠিয়েছে, যোগাযোগ করেছে — কিন্তু ফল শূন্য।
সমস্যাটা জটিল—ফেডারেশনের তরফে দাবি, ওয়েব সিরিজ ‘মাতঙ্গী’ যৌথ প্রযোজনা হওয়ায় রুদ্রনীলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ক্যামেলিয়া প্রোডাকশন এই বকেয়া অর্থ দেবে। কিন্তু ক্যামেলিয়া প্রোডাকশনের দাবি আলাদা: তাদের মতে রুদ্রনীল ঘোষের প্রোডাকশন সংস্থার সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল, তা পূর্ণ করা হয়নি; বিভিন্ন ক্লজ ভাঙার কাগজপত্রও রয়েছে; তাই বকেয়ার দায়ভার তাদের নয়। শেষ পর্যন্ত ফেডারেশনের কাছে জানানো হয় — পুরো টাকা দেবে ওয়ার্কশপ প্রোডাকশন অ্যান্ড অ্যালায়েড প্রাইভেট লিমিটেড।
এতেই শেষ নয়—সামনে আরও এক অভিযোগ জমা পড়ে। ফেডারেশন দফতরে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন অঙ্কুশ আগরওয়াল নামক ব্যক্তি ; অভিযো জমা পড়েছে ১৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি ওটিটি সিরিজের শুটিং ২০২২-২০২৩ সালে করা ওয়ার্কশপ প্রোডাকশন অ্যান্ড অ্যালায়েড প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে। সেখানে বলা হয়েছে, অঙ্কুশ আগরওয়াল ও প্রান্তিক গায়েন নামে দুই ব্যক্তি প্রায় ১৯,২৫,০০০ (উনিশ লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা রুদ্রনীলের প্রোডাকশন সংস্থাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা ফেরত পাননি বলে অভিযোগ। অঙ্কুশ মেল মারফত ফেডারেশনকে অনুরোধ করেছেন, রুদ্রনীলের বিরুদ্ধে “প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ” নিতে।
আরেকটি তিক্ত বিষয়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুদ্রনীলের একটি পোস্ট নিয়ে তোলা প্রশ্ন। প্রায় এক বছর আগে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে একটি ছবির শুটিং কবে যেন থামানো হয়; ফেডারেশনের বক্তব্য অনুযায়ী, “কারো নির্দেশে” টেকনিশিয়ানরা শুটিং বন্ধ করে দেয়।
সেই প্রতিবাদের জেরে পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে টানাপড়েন হয়—অনেক শুটিং থামে। ফেডারেশনের আইনেমতো, অনেককে তখন ব্ল্যাক-লিস্টেড বলা হয়। রুদ্রনীলের বক্তব্যের সারমর্ম—তিনি ইশারা করেছেন যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ‘মাতব্বররা’ নিজেদের ইচ্ছামতো নিয়ম চালাচ্ছেন, Competition Commission of India (CCI)–র বিধি ভেঙে এবং “নিজস্ব আইন” বানিয়ে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন; ফলে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উত্পাদন সংখ্যা বছরে ১০০টির কাছাকাছি থেকে কমে এসেছে মাত্র ৪০–এ। ফলত ৬০% কাজ বন্ধ, অর্থাৎ ৬০% কলাকুশলীর রোজগার কাটা পড়েছে—এই আক্ষেপটি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্চারণ করেছেন এবং একই সঙ্গে শোরগোল তুলে দিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের এই “অবৈধ” নিয়মের কারণে ভারত বা বিশ্বের অনেক পরিচালক-প্রযোজক বাংলা সিনেমায় শুটিং করতে আসছেন না।
রুদ্রনীলের পোস্টের ভাষ্য অনুযায়ী—“কারো নির্দেশে” শুটিং বন্ধ করা হয়েছে, কলাকুশলীরা ‘বয়কট’ করানো হয়েছে, আর সেই জন্য তাদের ও পরিবার-পরিজনরা পেটের ভাত হারাচ্ছেন। পোস্টে কটু-উক্তি, এমনকি ব্যক্তিগত আঘাত ছিল, বলে মনে করছেন ফেডারেশনের অনেকে। “ইচ্ছামতো অজুহাতে কাজ কেড়ে ব্যান করা হয়” বলে অভিযোগ ছিল রুদ্রর।
ফেডারেশনের কর্মীরা অনেকেই ক্ষোভে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় রুদ্রনীল যে ভাষায় কলাকুশলীদের ‘অপমান’ করেছেন, সেটা গায়ে মাখার মতো। স্বরূপ বিশ্বাস প্রেস কনফারেন্সে বলেন, ‘আমরা মর্মাহত — কারণ আজ রুদ্রনীল যেভাবে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছেন, সেটি কলাকুশলীদের কাঁধে চড়ে হয়েছে।