মাত্র দু’দিন আগে প্রকাশ্যে এসেছিল কোয়েল মল্লিক অভিনীত ‘মিতিন মাসি: একটি খুনের সন্ধানে’-র মোশন পোস্টার।

মিতিন মাসি।
শেষ আপডেট: 21 November 2025 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র দু’দিন আগে প্রকাশ্যে এসেছিল কোয়েল মল্লিক অভিনীত ‘মিতিন মাসি: একটি খুনের সন্ধানে’-র মোশন পোস্টার। সেই পোস্টার ঘোষণার পরই জানানো হয়, ২১ নভেম্বর আসবে অফিসিয়াল টিজার। প্রতিশ্রুত সময়েই অবশেষে মুক্তি পেল সেই প্রতীক্ষিত ঝলক—আর তা শুরু হতেই বোঝা গেল, এ শুধু গোয়েন্দা ছবির পথচলা নয়, বরং অ্যাকশন, উত্তেজনা আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধির এক চমকপ্রদ অভিযান।
মহিলা গোয়েন্দা চরিত্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি পাঠকের মন জুড়ে আছেন মিতিন মাসি। আর সেই মিতিনকে যখন প্রাণ দেন কোয়েল মল্লিক, তখন চরিত্রটি যেন মাংস-রক্তের মানুষ হয়ে ওঠে। বহুদিন পরে আবারও অ্যাকশন অবতারে কোয়েল—ঝরঝরে ডায়লগে, তীব্র চোখে, নিখুঁত তীক্ষ্ণতায় তিনি যেন প্রমাণ করলেন, “যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে”—এই প্রবাদ আজ বদলে দিতে পারেন তিনি একাই। তাই তো তিনি হেসে ফেলেন, “যে দাড়ি কামায়, সেও রাঁধে তো!”—এক নিমেষে ভেঙেচুরে দেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের স্বাচ্ছন্দ্যের দেওয়াল।
গল্পের শুরুতেই এক নারী ছুটে আসেন মিতিনের কাছে—স্বামী আচমকা উধাও। ধীরে ধীরে জানা যায়, নিখোঁজ স্বামী আসলে খুন হয়েছেন। কিন্তু কেন? কী এমন ছিল তাঁর জীবনে যা তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিল? সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রটির অকালপ্রয়াণ যেন আরও ঘন করে তোলে রহস্যের কুয়াশা। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে ভাঙা সম্পর্ক, ত্রিকোণ প্রেমের জট, অথবা হয়তো আরও অন্ধকার কোনও সত্য—যার কিনারা করতে পারে শুধু একজন, মিতিন।
এই ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় অধ্যায়—“Mitin – Ekti Khunir Sandhaney”—নির্দেশনার দায়িত্বে আগের মতোই অরিন্দম শীল। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের গল্প ‘মেঘের পরে মেঘ’ থেকে নির্মিত এই ছবির বুনোট বাস্তব, মানবিক, তীক্ষ্ণ। প্রতিটি চরিত্র যেন নিজের ভিতরে সযত্নে লুকিয়ে রেখেছে গোপন অস্পষ্টতা—যেখান থেকে জন্ম নিচ্ছে সন্দেহ, আর সেই সন্দেহই বারবার বদলে দিচ্ছে ঘটনাপ্রবাহের গতি।
কোয়েল ছাড়াও ছবিতে আছেন শুভ্রজিৎ দত্ত, লেখা চট্টোপাধ্যায়, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাফ ফিগার, রোশনি ভট্টাচার্য, গৌরব চক্রবর্তী, দুলাল লাহিড়ী, সঞ্জয় চৌধুরী—একগুচ্ছ প্রতিভাবান অভিনেতা, যারা নিজেদের চরিত্রে যোগ করেছেন গভীরতা ও সত্যতা। চিত্রগ্রহণে অনুপ সিংহ, সম্পাদনায় সংলাপ ভৌমিক, গল্প-স্ক্রিপ্ট ও সংলাপে পদ্মনাভ দাশগুপ্ত ও অরিন্দম শীল। সঙ্গীতে জিত্ গঙ্গোপাধ্যায়ের সুর আর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরে রথিজিৎ ভট্টাচার্য—সব মিলিয়ে এক নিখুঁত সিনেম্যাটিক পরিবেশ।
তবে এই ছবি শুধু রহস্যের কালি-কলমে লেখা দুঃসাহসিক তদন্ত নয়—এ গল্প মানুষের মনস্তত্ত্বের অন্ধকার দিক নিয়ে। বিশ্বাসঘাতকতা, ক্ষত, সম্পর্কের ভাঙচুর—এই সবই মিতিনের সামনে তুলে ধরে জীবন নামের সেই কঠিন সমীকরণ, যাকে সত্যিকারের সমাধানে পৌঁছতে লাগে হৃদয়ের দৃঢ়তা আর মাথার নির্ভুল সিদ্ধান্ত।
২৫ ডিসেম্বর—বড়দিনে মুক্তি পাবে ‘মিতিন— একটি খুনির সন্ধানে’। একই দিনে পর্দায় আসছে দেবের ‘প্রজাপতি ২’ এবং ‘লহ গৌরাঙ্গ রে’—ফলে বড়দিনের বক্স অফিসেও জমবে প্রবল প্রতিযোগিতা। তবে শেষ কথা সময়ই বলবে।
শুধু এটুকু নিশ্চিত—মিতিন যখন সত্যের সামনে দাঁড়ায়, তখন বিপদকেও আর বড় বলে মনে হয় না। আর দর্শক উইং-চেয়ারে বসে ঠিক সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকে—যখন অন্ধকার ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে সত্যের খোঁজ। এবারেও কি মিতিন আমাদের সত্যের আলো দেখাবেন? বড়দিনের সেলুলয়েডের আলো-আধাঁরে তারই উত্তর লুকিয়ে।