দ্য ওয়ালের তরফেই ফোন যেতেই তুললেন ঐন্দ্রিলার মা শিখা শর্মা। গলায় ওমের পরশ, খানিক যেন স্তিমিত। পারস্পতিক কুশল বিনিময়ের পরেই গলা ধরে এল তাঁর।

শেষ আপডেট: 20 November 2025 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীত এখনও জাঁকিয়ে পড়েনি। হলুদ-তেল গায়ে মেখে উষ্ণ রোদের আরাম নেওয়ার দিন এখনও বাকি। কল্লোলিনী তিলোত্তমা যখন হাফ হাতা-ফুল হাতার অঙ্কে খানিক গড়মিল করে ফেলছে ঠিক তখনই ক্যালেন্ডার জানান দিল আজ ২০ নভেম্বর। ঐ এরকমই এক আধো শীত তিন বছর আগে এই দিনেই কেড়ে নিয়েছিল ঐন্দ্রিলাকে। কবি নাজিম হিকমত বলেছেন, বিংশ শতকে শোকের আয়ু বড় জোর এক বছর... সত্যিই কি তাই? কেমন আছে ঐন্দ্রিলার পরিবার?
দ্য ওয়ালের তরফেই ফোন যেতেই তুললেন ঐন্দ্রিলার মা শিখা শর্মা। গলায় ওমের পরশ, খানিক যেন স্তিমিত। পারস্পতিক কুশল বিনিময়ের পরেই গলা ধরে এল তাঁর। মিষ্টিহীন তিনটে বছর, নেহাত কম সময় নয়! বললেন, "শরীরটা আগের থেকে ভাল আমার। এই কিছু দিন হল মুম্বই থেকে ফিরেছি। ক্যানসারের ট্রিটমেন্ট এই মুহূর্তে না চললেও, তিন মাস পর আবার যেতে হবে ওখানে।" ক্যানসার মেয়েকে কেড়েছে, তাঁর শরীরেও একাধিক বার থাবা বসালেও লড়াই জারি রেখেছেন শিখাদেবী।
ঐন্দ্রিলা সাজতে ভালবাসতেন। ছোট থেকেই নাচ-গানে ছিল আগ্রহ। অন্যদিকে বড় মেয়ে ঐশ্বর্যা একেবারে অন্য ধাঁচের। ডাক্তারির ছাত্রী, পড়াশোনাতেও তুখর। তবে ঐন্দ্রিলা চলে যাওয়ার পর বোনের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রযোজনা সংস্থা খুলেছেন ঐশ্বর্যা। নিজেও অভিনয় করেন।
শিখাদেবী বললেন, "মিষ্টি (ঐন্দ্রিলার ডাকনাম)র খুব ইচ্ছে ছিল। বড় মেয়েটা ওই স্বপ্নটাকেই বাঁচিয়ে রাখে। শোক দূর হয় না, হালকা হয় সময়ের দাবি মেনে। তবু বিশেষ দিনগুলো মনে করিয়ে দেয় ক্ষতের কথা। যে ক্ষততে প্রলেপ পড়ে না। সঙ্গী করেই পার হয়ে যায় বাকি জীবনটা। কলকাতায় আসার পরিমাণ কমেছে তাঁদের। বহরমপুরের বাড়িতেই থাকেন আজকাল। মিষ্টি-হীন তিলোত্তমা বড় ফাঁকা! ঠিক যেমন তাঁদের মন জুড়েও আজও রাজত্ব চালায় এক অপরিসীম নিঃসঙ্গতা।
ঠিক ছিল ২০২৩ সালে বিয়ে হবে ঐন্দ্রিলার। প্রেমিক সব্যসাচী ইণ্ডাস্ট্রিরই মানুষ। স্বপ্ন অধরা থেকে গিয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এর পর আর কোনওদিনই সেভাবে মুখ খোলেননি সব্যসাচী। ঐন্দ্রিলার শোককে অস্ত্র বানিয়ে ময়দানে নামার নোংরা প্রবৃত্তি হয়নি তাঁর। সামাজিক মাধ্যম থেকে তাই আজও তিনি বহুদূরে। এর আগে অবশ্য দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন আজও যোগাযোগ আছে ঐন্দ্রিলার বাবা-মায়ের সঙ্গে। জানিয়েছিলেন, জীবন থেকে থাকে না। ঠিক যেমন থেমে থাকেনি ঐন্দ্রিলার প্রযোজনা সংস্থা খোলার স্বপ্ন। ছুটছে দুর্বার গতিতে... কবি তো বলেই গিয়েছেন, “আর সব মরে, স্বপ্ন মরে না, অমরত্বের অন্য নাম হয়।"