গান যে তিনি অসাধারণ গাইবেন, তা জানতেন সকলে। কিন্তু তাও এই সময়ে এক মজার বাজি লড়েন সুরকার আর ডি বর্মন।

বাঁ দিকে আশা ও আরডি, ডানদিকের ছবি আশা ও রফি ওই গানের রেকর্ডিংয়ে
শেষ আপডেট: 12 April 2026 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। তাঁর গানের কথা বলতে গেলে তালিকা শেষ করা যাবে না। পুরনো থেকে আধুনিক, সব গানই সমানভাবে জনপ্রিয় আজও। অসংখ্য গানের মধ্যে ‘আজা আজা ম্যায় হুঁ পেয়ার তেরা’। ১৯৬৬ সালের ছবি ‘তিসরি মঞ্জিলে’র এই গানের নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ গল্প।
এই গানটি গেয়েছিলেন আশা ভোঁসলে ও মহম্মদ রফি। গানের কথা লিখেছিলেন মজরুহ সুলতানপুরী। এক অনুষ্ঠানে এসে আশা নিজেই জানিয়েছিলেন, গানটি হাতে পাওয়ার পর টানা চার-পাঁচ দিন রিহার্সাল করেছিলেন তিনি। বিশেষ করে ‘ও আ আজা, আহ আহ আজা...’ অংশটি। কারণ সেটি গাইতে গিয়ে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল তাঁকে।
এতটাই মন দিয়ে অনুশীলন করছিলেন যে, গাড়িতে বসে গাইতে গাইতে হাঁফাতে শুরু করেন। তাঁর ড্রাইভার পর্যন্ত ভেবেছিলেন, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও।
গান যে তিনি অসাধারণ গাইবেন, তা জানতেন সকলে। কিন্তু তাও এই সময়ে এক মজার বাজি লড়েন সুরকার আর ডি বর্মন। কে ভাল গাইবে, সে নিয়ে লড়াই। তিনি ৫০০ টাকার বাজি ধরেন আশা ভোঁসলের পক্ষে। অন্যদিকে নাসির খান ছিলেন রফির পক্ষে।
এই গান রেকর্ডিংয়ের দিন আশা ভোঁসলে ভীষণ নার্ভাস ছিলেন। তখন তাঁকে উৎসাহ জোগাতে এগিয়ে আসেন দিদি লতা। পরে আশা জানান, মহম্মদ রফি গানটির কঠিন অংশটি গেয়েছিলেন গলা থেকে, আর তিনি গেয়েছিলেন পেটে ভর দিয়ে।
শেষ পর্যন্ত শ্রোতাদের মন জয় করেন আশা ভোঁসলে। তাঁর গাওয়া অংশই বেশি প্রশংসা কুড়োয়, আর বাজিতে জিতে যান পঞ্চম। সেই ৫০০ টাকার বাজি আজ সঙ্গীতের ইতিহাসে এক মজার অধ্যায় হয়ে রয়ে গিয়েছে।
আজ যখন আশা ভোঁসলে আর নেই, তখন তাঁর গাওয়া এই গানগুলোই যেন আরও বেশি করে ফিরে আসছে স্মৃতিতে। শুধু সুর নয়, প্রতিটি গানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমনই অজস্র গল্প। আর সেখানেই তিনি অমর—প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।