ভারতীয় সঙ্গীতে নক্ষত্র পতন। প্রয়াত কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও আশা ভোঁসলে
শেষ আপডেট: 12 April 2026 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সঙ্গীতে নক্ষত্র পতন। প্রয়াত কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)। দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। শেষ পর্যন্ত একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়াতই মৃত্যু হয় তাঁর (Asha Bhosle Death)। এই প্রয়াণে কার্যত শেষ হয়ে গেল হিন্দি ছবির স্বর্ণযুগের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
আশাজির প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta)। তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক জীবনের এক বিরাট অংশ ছিলেন আশাজি। তাঁর প্রয়াণে আমাদের সংস্কৃতির একটি সুর যেন থমকে গেল। নক্ষত্ররা যেমন আকাশ থেকে খসে পড়ে, উনিও তেমন ছিলেন।” অভিনেত্রীর মতে, শরীর ভালো না থাকায় হয়তো বিদায়ের সময় হয়েছিল, কিন্তু এই স্তরের শিল্পীদের মৃত্যু হয় না; তাঁরা অমর হয়ে থাকেন তাঁদের কীর্তি ও শিল্পের মাধ্যমে।
নিজের সৌভাগ্যের কথা উল্লেখ করে ঋতুপর্ণা বলেন, “আমার অন্যতম বড় প্রাপ্তি যে ওঁর গাওয়া একাধিক গানে আমি লিপ দিতে পেরেছিলাম। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উনি আমাদের বিনোদিত করে গিয়েছেন। উনি আক্ষরিক অর্থেই বিনোদনের শেষ কথা ছিলেন।”
১৯৪৩ সালে মাত্র ৯ বছর বয়সে দিদি লতা মঙ্গেশকরের হাত ধরে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন আশা। পাঁচের দশকে যখন দিদি লতা মঙ্গেশকর রাজত্ব করছেন, তখন আশাকে লড়াই করতে হয়েছে ‘লতার বোন’ পরিচয়ের সঙ্গে। শুরুতে তাঁকে মূলত ডান্স নাম্বার বা ক্যাবারে গানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু দমে না গিয়ে হেলেনের লিপে ‘পিয়া তু আব তো আ যা’ বা ‘দম মারো দম’-এর মতো গানের মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেন তিনি।
১৯৮১ সালে ‘উমরাও জান’ ছবির গজলে তাঁর সেই গাম্ভীর্য ও মাধুর্য সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছিল তিনি কেবল চটুল গানে সীমাবদ্ধ নন। এই ছবির জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও জয় করেন। এরপর ‘ইজাজত’ ছবির ‘মেরা কুছ সামান’ গানে তাঁর আবেগের গভীরতা বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করেছিল। ধীরে ধীরে ‘লতার বোন’ তকমা মুছে তিনি হয়ে ওঠেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী আশা ভোঁসলে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে শিল্পীর প্রয়াণে শোকবার্তা জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, আগামীকাল বিকেল ৪টেয় শিবাজী পার্কে এই কিংবদন্তি শিল্পীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।