আশা ভোঁসলে কয়েক দশকজুড়ে অসংখ্য অভিনেত্রীর কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। জীবনে ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে গেয়েছেন এই অভিনেত্রীর জন্য।

আশা ভোঁসলে
শেষ আপডেট: 12 April 2026 16:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। রবিবার বহু অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর, এমনটাই নিশ্চিত করেছেন পরিবার ও চিকিৎসকরা। সোমবার মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।
ছেলে আনন্দ ভোঁসলে জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ১১টা থেকে লোয়ার প্যারেলের কাসা গ্র্যান্ডে-তে রাখা হবে শিল্পীর দেহ, সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন অনুরাগীরা। বিকেল ৪টেয় শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণ শুধু শিল্পীর মৃত্যু নয়, শেষ হল এক সুবর্ণযুগের। কয়েক দশকজুড়ে অসংখ্য অভিনেত্রীর কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। জীবনে ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে গেয়েছেন হেলেনের জন্য। পঞ্চাশ থেকে সত্তরের দশকে বলিউডের ঝলমলে নাচের দৃশ্যে হেলেন যেমন অপরিহার্য ছিলেন, তেমনই তাঁর প্রাণ হয়ে উঠেছিল আশার কণ্ঠ।
এই যুগলবন্দি ভারতীয় সিনেমায় এক আলাদা ইতিহাস তৈরি করে। ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘ইয়ে মেরা দিল’, ‘ও হাসিনা জুলফোঁ ওয়ালি’, ‘আ জানে জান’, ‘মেহবুবা মেহবুবা’, ‘মেরা নাম চিন চিন চু’, ‘মনিকা ও মাই ডার্লিং’—এমন একের পর এক হিট গান আজও শ্রোতাদের মনে গেঁথে রয়েছে।
শুধু হেলেনই নন, রেখা, জিনাত আমন, পারভিন বাবি-সহ বহু অভিনেত্রীর কণ্ঠও হয়েছেন তিনি। তাঁর গাওয়া গানের সংখ্যা ১২ হাজারেরও বেশি, নানা ভাষা ও ঘরানায় বিস্তৃত এই ভাণ্ডার।
তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে সম্মান। গ্র্যামি মনোনয়ন অর্জন করেছেন। পদ্ম বিভূষণ, বঙ্গবিভূষণ ও মহারাষ্ট্র ভূষণ—একাধিক সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন এই সুরসম্রাজ্ঞী।
তাই আশা ভোঁসলের কণ্ঠ শুধু গান নয়, এক একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। তাঁর প্রয়াণে সুরের ভুবনে যে শূন্যতা তৈরি হল, তা পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁর গান বেঁচে থাকবে—চিরকাল, প্রজন্মের পর প্রজন্মে।