দু'বার জাতীয় পুরস্কার, দাদাসাহেব ফালকে সম্মান এবং দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ পদ্ম বিভূষণে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। বয়স ৯০ পেরিয়েও মঞ্চে গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করার নজির গড়েছেন।

আশা ভোঁসলে
শেষ আপডেট: 12 April 2026 14:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। ৯২ বছর বয়সে রবিবার মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তি গায়িকা। শনিবার তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে।
চিকিৎসক প্রতীত সামদানী জানিয়েছেন, একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বহু অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার ফলেই মৃত্যু হয় শিল্পীর। মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতিমন্ত্রী আশিস শেলার হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
সোমবার বিকেল ৪ টেয় মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য। এর আগে, সোমবার সকাল ১১টা থেকে তাঁর বাসভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন অনুরাগীরা। জানান তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে।
শনিবার তাঁর অসুস্থতার খবর সামনে আসে বেলা গড়ালে। নাতনি জনাই ভোঁসলে জানিয়েছিলেন, প্রবল ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে দিদিমাকে। তখনও পরিবার আশাবাদী ছিল, চিকিৎসায় সাড়া দেবেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
প্রায় আট দশকের দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে অসংখ্য অমর গান উপহার দিয়েছেন। চল্লিশের দশকে মারাঠি ছবির গান দিয়ে শুরু। তারপর হিন্দি, বাংলা-সহ একাধিক ভাষায় তাঁর কণ্ঠ ছড়িয়ে পড়েছে। একসময় তাঁকে কেবল চটুল গানের গায়িকা বলে ভাবা হলেও, পরে গজল থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত—সব ক্ষেত্রেই নিজের মুন্সিয়ানা প্রমাণ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী ছিলেন তিনি। তবু সঙ্গীতকে জীবনভর আঁকড়ে রেখেছিলেন। তাঁর নিজের কথায়, সঙ্গীতই শ্বাসপ্রশ্বাস।
দু'বার জাতীয় পুরস্কার, দাদাসাহেব ফালকে সম্মান এবং দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ পদ্ম বিভূষণে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। বয়স ৯০ পেরিয়েও মঞ্চে গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করার নজির গড়েছেন।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সঙ্গীতজগতে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল। তাঁর কণ্ঠ, তাঁর গান—চিরকাল বেঁচে থাকবে শ্রোতাদের মনে।