বিয়ের পর সংসার গড়ে ওঠে, তিন সন্তানের মা হন আশা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্কেও ফাটল ধরে।

আশা ভোঁসলে
শেষ আপডেট: 12 April 2026 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ১৬ বছর বয়সে নেওয়া এক সিদ্ধান্ত— বদলে দিয়েছিল গোটা জীবন। সুরের জগতের কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোসলে (Asha Bhosle)-র ব্যক্তিগত জীবন একেবারে সিনেমার গল্পের মতো। প্রেম, বিদ্রোহ, ভাঙন আর নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর কাহিনি।
কিশোরী বয়স থেকেই নিজের মতো চলার মানসিকতা ছিল তাঁর। সেই সময়ে তাঁর জীবনে আসেন গণপতরাও ভোঁসলে, যিনি বয়সে অনেকটাই বড় এবং দিদি লতা মঙ্গেশকরের (Lata Mangeshkar) সচিব হিসেবে কাজ করতেন। দিদির বাড়িতে যাতায়াতের সূত্রেই আলাপ, তারপর ধীরে ধীরে সম্পর্কের গভীরতা। শেষমেশ মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাঁকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি— যা পরিবারকে কার্যত স্তম্ভিত করে দেয়।
এই বিয়ে মোটেও মেনে নিতে পারেনি পরিবার, বিশেষ করে দিদি লতা। সম্পর্কের এই টানাপোড়েন তৈরি করে দূরত্ব। এক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন দুই বোনের মধ্যে কথাবার্তাও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সাহায্য ছাড়াই নতুন জীবন শুরু করতে বাধ্য হন তিনি। মানসিক দিক থেকেও সেই সময়টা ছিল অত্যন্ত কঠিন— একাকীত্ব, চাপ আর অনিশ্চয়তায় ভরা।

বিয়ের পর সংসার গড়ে ওঠে, তিন সন্তানের মা হন আশা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্কেও ফাটল ধরে। ধীরে ধীরে তিক্ত হয়ে ওঠে দাম্পত্য এবং শেষমেশ বিচ্ছেদ আসে। জীবনের এই অধ্যায় ছিল তাঁর কাছে মারাত্মক চাপের কিন্তু একই সঙ্গে নতুন করে নিজেকে গড়ে তোলাও শুরু করেন।
ব্যক্তিগত জীবনের এই ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে তিনি এগিয়ে গিয়েছেন সুরের জগতে। তাঁর কণ্ঠে অসংখ্য কালজয়ী গান আজও সমান জনপ্রিয়। জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা যেন তাঁকে আরও শক্ত করেছে, আরও সমৃদ্ধ করেছে তাঁর শিল্পীসত্তাকে।
একদিকে কিশোরী বয়সের আবেগী সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে ভাঙনের যন্ত্রণা— সব মিলিয়ে তাঁর জীবনের এই অধ্যায় আজও সমান প্রাসঙ্গিক। কারণ, এর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এক মহিলার নিজের মতো করে বাঁচার সাহস আর বারবার উঠে দাঁড়ানোর গল্প।