তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য সম্মান এসেছে ঝুলিতে। পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে (Dadasaheb Phalke Award) এবং পদ্ম ভূষণ (Padma Vibhushan)-এর মতো দেশের সর্বোচ্চ সম্মান। পাশাপাশি একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কারেও সম্মানিত হয়েছেন তিনি।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 12 April 2026 13:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক যুগের অবসান। প্রয়াত কিংবদন্তি প্লেব্যাক শিল্পী আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল (Breach Candy Hospital)-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। রবিবার বেলাতে মিলল শোকের খবর। হাসপাতালে এই মুহূর্তে বাড়ছে ভিড়। ভিতরেই রয়েছেন আনন্দ ভোঁসলে।
পরিবার সূত্রে খবর, ১১ এপ্রিল আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হন আশা ভোঁসলে। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। রাত পোহাতেই মিলল দুঃসংবাদ। আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত তাঁর মরদেহ রাখা হবে তাঁর বাসভবনে, যাতে অনুরাগীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। বিকেল ৪টেয় শিবাজী পার্ক (Shivaji Park)-এ সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য।
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম আশা ভোঁসলের। অল্প বয়সেই সঙ্গীত জগতে পা রেখে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের অন্যতম স্তম্ভ। হিন্দি, মারাঠি, বাংলা, গুজরাতি-সহ একাধিক ভাষায় হাজার হাজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়েছে প্রেম, বেদনা, উচ্ছ্বাস—জীবনের প্রতিটি অনুভূতি।
তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য সম্মান এসেছে ঝুলিতে। পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে (Dadasaheb Phalke Award) এবং পদ্ম ভূষণ (Padma Vibhushan)-এর মতো দেশের সর্বোচ্চ সম্মান। পাশাপাশি একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কারেও সম্মানিত হয়েছেন তিনি।
“পিয়া তু আব তো আ যা”, “দম মারো দম”, “চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে”, “ঝুমকা গিরা রে”, “ইয়ে মেরা দিল”, “দিল চিজ ক্যা হ্যায়”—এমন অসংখ্য কালজয়ী গানে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন শ্রোতাদের হৃদয়ে। উমরাও জান (Umrao Jaan)-এর গজল হোক বা ইজাজত (Ijaazat)-এর সংবেদনশীল সুর—প্রতিটি ঘরানায় তাঁর সাবলীল উপস্থিতি তাঁকে করে তুলেছিল অনন্য।
ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল নানা চড়াই-উতরাই। অল্প বয়সে গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে বিয়ে, যা সুখের হয়নি। পরবর্তীতে সুরকার আর.ডি বর্মন (R. D. Burman)-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং বিবাহ ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। তাঁদের যুগলবন্দি উপহার দিয়েছে অসংখ্য অমর সৃষ্টি।
কয়েকদিন আগেই তাঁর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছিল। নাতনি (Zanai Bhosle) সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন, ক্লান্তি ও সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি এবং পরিবারের গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছিলেন।
আজ তাঁর প্রয়াণে স্তব্ধ সঙ্গীত দুনিয়া। শুধু একজন শিল্পীর বিদায় নয়, হারিয়ে গেল এক অমূল্য সময়, এক অদ্বিতীয় কণ্ঠস্বর। তবু তাঁর গান, তাঁর সুর, তাঁর উত্তরাধিকার—চিরকাল বেঁচে থাকবে ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে।