মাত্র ৯ বছর বয়সে গানের জগতে পা রাখা। ১৯৪৩ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে গান রেকর্ড। পঞ্চাশের দশকে যখন লতা মঙ্গেশকর হয়ে উঠছেন সুরকারদের প্রথম পছন্দ, তখন আশাকে লড়তে হয়েছে নিজের পরিচয়ের জন্য।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 12 April 2026 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সঙ্গীতের আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। প্রয়াত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)। তাঁর মৃত্যু এক যুগের অবসান, যে সময়ের কণ্ঠই গড়ে দিয়েছিল এ দেশের সঙ্গীতরুচি।
দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি ছিলেন সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাঁরা সময়কে শুধু অনুসরণ করেননি, বরং এক বেঞ্চমার্ক তৈরি করেছেন। দিদি লতা মঙ্গেশকর (Lata Mangeshkar)-এর সঙ্গে তাঁর নাম উচ্চারিত হয়েছে বারবার। পাশাপাশি মুকেশ (Mukesh), মহম্মদ রফি (Mohammed Rafi) এবং কিশোর কুমার (Kishore Kumar)-এর মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে মিলিয়েই তৈরি হয়েছিল সেই সোনালি অধ্যায়, যার শেষ প্রতিনিধি হিসেবেই বিদায় নিলেন আশা।
মাত্র ৯ বছর বয়সে গানের জগতে পা রাখা। ১৯৪৩ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে গান রেকর্ড। পঞ্চাশের দশকে যখন লতা মঙ্গেশকর হয়ে উঠছেন সুরকারদের প্রথম পছন্দ, তখন আশাকে লড়তে হয়েছে নিজের পরিচয়ের জন্য। শুরুতে তাঁকে মূলত নাচের গান বা ক্যাবারে ঘরানায় সীমাবদ্ধ রাখা হলেও, সময়ের সঙ্গে সেই গণ্ডি ভেঙে বেরিয়ে আসেন তিনি।
ষাট ও সত্তরের দশকে বলিউডে ডান্স নাম্বারের একচ্ছত্র সম্রাজ্ঞী হয়ে ওঠেন আশা ভোঁসলে। “পিয়া তু আব তো আ যা”, “ইয়ে মেরা দিল”, “দম মারো দম” বা “ও হাসিনা জুলফোঁয়ালি”—এই গানগুলি শুধু জনপ্রিয়ই নয়, এক একটি সময়ের পরিচয় বহন করে। বিশেষ করে পর্দায় হেলেনের উপস্থিতি মানেই প্রায় নিশ্চিত ছিল আশার কণ্ঠ।
তবে তাঁকে শুধু নাচের গানে সীমাবদ্ধ ভাবার ভুল ভেঙে দেন তিনি নিজেই। উমরাও জান ( Umrao Jaan)-এ তাঁর গাওয়া গজল প্রমাণ করে তাঁর কণ্ঠের গভীরতা ও শৈল্পিকতা। “দিল চিজ ক্যা হ্যায়” গানটি তাঁকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার। কয়েক বছর পর “মেরা কুছ সামান” গানটিও একইভাবে শ্রোতাদের মনে দাগ কাটে এবং আরও একবার জাতীয় সম্মানে ভূষিত হন তিনি।
কেরিয়ারের শুরুতে “লতার বোন” পরিচয়ে পরিচিত হলেও, সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেই হয়ে ওঠেন এক প্রতিষ্ঠান। বহুমুখী গায়কির মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন—একজন শিল্পীর পরিচয় তাঁর নিজস্বতায়।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শুধু একজন শিল্পীকে হারাল না দেশ, হারাল এক যুগের স্মৃতি। তাঁর কণ্ঠে থাকা আবেগ, উচ্ছ্বাস, ব্যথা আর জীবনের নানা রঙ—সব মিলিয়ে তিনি থেকে যাবেন ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে অমলিন হয়ে।