মারাঠি ছবির গান দিয়ে শুরু, এরপর ধীরে ধীরে হিন্দি ছবিতে প্রতিষ্ঠা। ২০টিরও বেশি ভাষায় ১১ হাজারেরও বেশি গান—সংখ্যার নিরিখে যেমন বিস্ময়কর, তেমনই বৈচিত্র্যের দিক থেকেও অনন্য।

আশা ভোঁসলে
শেষ আপডেট: 12 April 2026 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সঙ্গীতে নক্ষত্র পতন। প্রয়াত কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। শেষ পর্যন্ত একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়াতই মৃত্যু হয় তাঁর।
এই প্রয়াণে কার্যত শেষ হয়ে গেল হিন্দি ছবির স্বর্ণযুগের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম আশার। বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী। অল্প বয়সেই বাবাকে হারাতে হয় তাঁকে। মাত্র ৯ বছর বয়সে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে গান ও অভিনয়ের জগতে পা রাখেন দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে।
মারাঠি ছবির গান দিয়ে শুরু, এরপর ধীরে ধীরে হিন্দি ছবিতে প্রতিষ্ঠা। ‘মাঝা বল’ ও ‘চুনরিয়া’ ছবিতে তাঁর প্রাথমিক কাজ ভবিষ্যতের এক বিশাল যাত্রার ভিত গড়ে দেয়। সেই শুরু, তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি।
২০১১ সালে তাঁর নাম ওঠে বিশ্বরেকর্ডের খাতায়। সঙ্গীতের ইতিহাসে সর্বাধিক গান রেকর্ড করার কৃতিত্ব পান। ২০টিরও বেশি ভাষায় ১১ হাজারেরও বেশি গান—সংখ্যার নিরিখে যেমন বিস্ময়কর, তেমনই বৈচিত্র্যের দিক থেকেও অনন্য। গজল, শাস্ত্রীয়, আধুনিক কিংবা ক্যাবারে—সব ঘরানাতেই সাবলীল ছিলেন তিনি।
হিন্দি ছবির জগতে ও.পি. নায়ার থেকে আর.ডি. বর্মন—বহু সুরকারের সঙ্গে তাঁর কাজ কিংবদন্তি হয়ে আছে। আর.ডি. বর্মনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কও গড়ে ওঠে, পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’—এমন অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন।
‘উমরাও জান’ ও ‘ইজাজত’ ছবির গানে তাঁর অনবদ্য কণ্ঠস্বর এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার। পাশাপাশি দাদাসাহেব ফালকে সম্মান, পদ্মশ্রী ও পদ্ম বিভূষণ—একাধিক সম্মানে ভূষিত হন তিনি।
শেষ বয়সেও থেমে থাকেননি। নতুন সঙ্গীতচর্চা, এমনকি অভিনয় হাতেখড়ি—সবেতেই সমান উৎসাহ ছিল।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মুম্বইয়ে সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য। কিন্তু গানেই বেঁচে থাকবেন আশা ভোঁসলে—রেডিওতে, স্মৃতিতে, আর অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে।