জগজাকার্তায় এবারের ২০তম জগজা নেটপ্যাক এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল যেন হয়ে উঠল বাংলা সিনেমার জন্য এক স্মরণীয় সন্ধিক্ষণ।

জগজা ফেস্টিভ্যালে জয়ব্রত।
শেষ আপডেট: 3 December 2025 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জগজাকার্তায় এবারের ২০তম জগজা নেটপ্যাক এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল যেন হয়ে উঠল বাংলা সিনেমার জন্য এক স্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। অসংখ্য এশিয়ান ছবির ভিড়ে একমাত্র বাংলা ভাষার ছবি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ (The Academy of Fine Arts)—আর সেই নির্বাচনের গৌরব যেন আরও উজ্জ্বল হল প্রথম প্রদর্শনীর সাড়া দেখে।
প্রিমিয়ারের আগেই কানাঘুষো ছিল, হলভর্তি দর্শক হবে কি না। কিন্তু শো শুরু হতেই প্রমাণ মিলল—উত্সাহের কোনও ঘাটতি নেই। হাউসফুল স্ক্রিনিং, আর রাত বারোটা পর্যন্ত চলা প্রদর্শনীতে দর্শকদের চোখে মুখে একটাই আবেগ—উপভোগ। ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হলজুড়ে হাসির রোল, উচ্ছ্বাস, করতালির ঝড়। যে ভাষা সবাই বোঝেন না, সেই ভাষার ছবিও যে মন ছুঁয়ে যেতে পারে—বিদেশি দর্শকদের প্রতিটি প্রতিক্রিয়াই যেন তার প্রমাণ। ক্রেডিট রোল শেষ হলেও প্রায় কেউই আসন ছাড়েননি; এই দৃশ্য যে কোনও চলচ্চিত্র নির্মাতার কাছে অমূল্য।
স্ক্রিনিং শেষ হতেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ফেস্টিভ্যাল করিডর—সব জায়গায় একই আলোচনা, ছবিটি নিয়ে উত্সাহ থামছেই না। ইতিমধ্যেই উৎসব কর্তৃপক্ষের উপর অতিরিক্ত শো রাখার চাপ বাড়ছে। দুই আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ছবির টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বিদেশি ডিস্ট্রিবিউটরদেরও গভীর আগ্রহ—‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’কে আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি দেওয়ার আলোচনাও শুরু হয়েছে।
দর্শকদের অভিভূত প্রতিক্রিয়া দেখে আবেগাপ্লুত পরিচালক জয়ব্রত দাস বললেন,“ভাষার সীমারেখা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি দর্শকরা যেভাবে ছবির প্রতিটি মুহূর্তে সাড়া দিয়েছেন, সেটা অবিশ্বাস্য। শেষ পর্যন্ত কেউ হল ছাড়েননি—এই উষ্ণতা, এই ভালোবাসাই তো সিনেমার আসল শক্তি। শিল্প সব সীমা ছাড়িয়ে যায়।”
সব মিলিয়ে স্পষ্ট—এই বছরের জগজা ফেস্টিভ্যালের বড় চমক হয়ে উঠেছে ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’। নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলা স্বাধীন চলচ্চিত্রকে ঘিরে কৌতূহল বাড়ছে। প্রশ্ন একটাই—এত দূর যাত্রার পর, এবার কি বিশ্বমঞ্চে আরও বড় আকারে বিস্ফোরিত হবে বাংলা সিনেমার এই অপ্রত্যাশিত নক্ষত্র?