উত্তম-সুচিত্রার "রসায়ন" নিয়ে জল্পনার শেষ ছিল না। গসিপ পত্রিকা থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকান—সর্বত্র ঘুরে বেড়াত ‘কী চলছে ওদের মধ্যে’ প্রশ্নটা।

উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন ও সুপ্রিয়া দেবী
শেষ আপডেট: 18 June 2025 19:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় বাংলা সিনেমার আলোঝলমলে দুনিয়ায় ঘোরাফেরা করত তিনটি নাম—উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন ও সুপ্রিয়া দেবী। পর্দায় যেমন জ্বলজ্বল করত তাঁদের উপস্থিতি, তেমনই তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও চলত নানা ফিসফাস। বিশেষত উত্তম-সুচিত্রার "রসায়ন" নিয়ে জল্পনার শেষ ছিল না। গসিপ পত্রিকা থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকান—সর্বত্র ঘুরে বেড়াত ‘কী চলছে ওদের মধ্যে’ প্রশ্নটা।
তবে এই জল্পনার মাঝেই এক মিষ্টি সত্যি ছিল, যেটা নিজের আত্মজীবনীতে স্পষ্টভাবে লিখে গিয়েছেন সুপ্রিয়া দেবী। তিনি জানান, সুচিত্রার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল উত্তম কুমারের হাত ধরেই। আর এই বন্ধুত্বে কোনও তিক্ততা নয়, বরং ছিল নির্ভেজাল হাসি, ঠাট্টা, আর কিছু অবাক করা মুহূর্ত।
‘রাশভারি ম্যাডাম সেন’—সেটেই পরিচিত ছিলেন সুচিত্রা। কিন্তু বাস্তবে? সুচিত্রা ছিলেন ভীষণই রসিক, প্রাণবন্ত এক মানুষ। সুপ্রিয়ার ঝুলিতে ছিল সেই রসিকতার অসংখ্য নজির। যেমন একবার সকালে হঠাৎ সুচিত্রার ফোন। ফোনটা ধরেন সুপ্রিয়া। ওপাশ থেকে সরল স্বরে সুচিত্রার প্রশ্ন—"উতু আছে?" (হ্যাঁ, উত্তম কুমারকে ‘উতু’ বলেই ডাকতেন সুচিত্রা।)
উত্তম তখন বাড়িতে নেই শুনে সুচিত্রার জবাব, "ইসস, আজ খুব ইচ্ছে করছে উতুকে একটা চুমু খাই!"
সুপ্রিয়ার ঠোঁটে তখন দুষ্টু হাসি—"তাহলে আমি শুটিং ফ্লোরে ফোন করে বলে দিচ্ছি, কাজ শেষ করে তোমার বাড়ি যেন চলে যায়। চুমু খেয়ে নিও!" সুচিত্রা হতবাক! হেসে বললেন, "তোর হিংসে হচ্ছে না?" সুপ্রিয়ার উত্তর, "না রে! তোকে তো আমি চিনি, জানি তোর রসিকতার ধরন।"
এই বন্ধুত্বের গল্প শুটিং ফ্লোরের বাইরের। সাধারণের চোখে ধরা না দেওয়া সম্পর্ক, যাদের রসায়ন ছিল নিখাদ। সুচিত্রা নিজেই বিশ্বাস করতেন—তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন যদি খুব বেশি প্রকাশ্যে আসে, তবে তারকাদের ‘ম্যাজিক’ কমে যায়।