করোনা-পরবর্তী আর্থিক সংকটের কারণে মেয়েদের স্কুলেও পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। বাবার কাছ থেকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার হুমকিও পাওয়া যাচ্ছিল বলে ডায়েরিতে উল্লেখ।

গাজিয়াবাদকাণ্ড নিয়ে সোনু সুদ
শেষ আপডেট: 5 February 2026 19:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজিয়াবাদে তিন নাবালিকা মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় (Ghaziabad Triple Suicide Case) গোটা দেশ শোকাহত। মৃত্যুর আগে পাখি (১২), প্রাচি (১৪), বিষিকার লিখে যাওয়া ৮ পাতার চিঠিতে উঠে এসেছে কোরিয়ান সিরিজ, কে-পপ এবং অনলাইন গেমের প্রতি ভয়াবহ আসক্তির কথা। এই ঘটনার পর শিশুদের অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল-ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করলেন অভিনেতা সোনু সুদ (Sonu Sood)।
সোনু সুদ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'গাজিয়াবাদে তিনটি নিষ্পাপ প্রাণ হারাল (Ghaziabad Triple Suicide Case)। না কোনও হিংসায়, না দারিদ্র্যে। তারা হারল ডিজিটাল আসক্তির অদৃশ্য চাপের কাছে। আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি, পড়াশোনার বাইরে ১৬ বছরের নীচে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন গেমিং নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।” তাঁর পরামর্শ, 'শিশুরা অ্যালগরিদম বোঝে না তাদের প্রয়োজন বড়দের গাইডেন্স (Childhood needs guidance, not algorithms), যত্ন এবং তাঁরা যেন মানসিকভাবে পাশে থাকে।' তাই দেরি হওয়ার আগেই অভিভাবকদের সতর্ক করেছেন তিনি।
সোনু (Sonu Sood) তাঁর ভিডিও বার্তায় সমস্ত বাবা-মাকে অনুরোধ করেন, সন্তানদের পাশে থাকার জন্য।
কী ঘটেছিল সেই রাতে
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোররাতে গাজিয়াবাদে ভারত সিটির একটি ফ্ল্যাটের ন'তলা থেকে তিন বোন একে একে ঝাঁপ দেয়। পরিবার দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়।
Three young girls lost their lives in Ghaziabad today. 💔⁰Not to violence.⁰Not to poverty.⁰But to the unseen pressure of online gaming and digital addiction.
I’ve raised my voice before, and I’ll say it again.⁰Social media and online gaming must be restricted for children…— sonu sood (@SonuSood) February 4, 2026
পরে তাঁদের ঘর থেকে উদ্ধার হয় একটি আট পাতার পকেট ডায়েরি। সেখানে লেখা, “কোরিয়া ছিল আমাদের জীবন। কীভাবে আমাদের থেকে কোরিয়া কেড়ে নেবে? আমরা পরিবারকে এতটা ভালবাসতাম না, যতটা কোরিয়ান অভিনেতা আর কে-পপ গ্রুপকে ভালবাসতাম।”
ডায়েরিতে আরও জানা যায়, তিন বোন সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয় ছিল এবং নিজেদের কোরিয়ান নাম দিয়েছিল- মারিয়া, আলিজা ও সিন্ডি।
পরিবারের আর্থিক সংকটও ছিল বড় কারণ
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাদের বাবা পেশায় স্টক ট্রেডার চেতন কুমারের উপর প্রায় ২ কোটি টাকার ঋণের চাপ ছিল। বিদ্যুতের বিল দিতে না পেরে মেয়েদের ফোনও বিক্রি করতে হয়েছিল। করোনা-পরবর্তী আর্থিক সংকটের কারণে মেয়েদের স্কুলেও পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। বাবার কাছ থেকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার হুমকিও পাওয়া যাচ্ছিল বলে ডায়েরিতে উল্লেখ।
ডায়েরিতে কোরিয়ান বিনোদনের পাশাপাশি থাই, জাপানি ও চাইনিজ ফিল্ম নিয়েও তাঁদের আগ্রহের কথা লেখা ছিল।