‘কোরিয়ান লাভ গেম’ নামে একটি টাস্ক-ভিত্তিক গেমেও তারা জড়িয়ে পড়েছিল বলে সন্দেহ পুলিশি সূত্রের। ধারণা করা হচ্ছে, এই গেমে দেওয়া শেষ টাস্কই তাদের চরম সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়।

গাজিয়াবাদে তিন বোনের মৃত্যু
শেষ আপডেট: 5 February 2026 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজিয়াবাদে তিন বোনের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পরিবার, পড়াশোনা এমনকি নিজের জীবনের উপরেও কোরিয়া ও কোরিয়ান পপ কালচারকে প্রাধান্য দিত তিন নাবালিকাই (Details From Diary In Ghaziabad Deaths)। শেষ পর্যন্ত সেই অস্বাভাবিক আসক্তিই যেন তাদের জীবনে নিয়ে এল ভয়াবহ পরিণতি। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর তাদের ঘর থেকে উদ্ধার হয় আট পাতা লেখা একটি ডায়েরি, যেখানে ছিল তিন বোনের (Ghaziabad Three Sisters Deaths) ভাবনা, ক্ষোভ ও কোরিয়ান সংস্কৃতির (Korean Culture) প্রতি অন্ধ ভালবাসার কথা।
বুধবার গভীর রাতে, প্রায় ২.১৫ নাগাদ, বিল্ডিংয়ের ন'তলার ফ্ল্যাটের জানালা থেকে একে একে ঝাঁপ দেয় তিন বোন। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় ঘটনাটি কেউ টের পাননি শুরুতে। মেয়েদের চিৎকার শুনে বাবা-মা দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। প্রতিবেশীরাও দৌড়ে আসেন কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়।
ডায়েরিতে লেখা ছিল, “কোরিয়ান ছিল আমাদের জীবন। কীভাবে ভাবলে আমাদের সেখান থেকে বের করে আনতে পারবে? তোমরা বুঝতেই পারোনি আমরা কতটা ভালোবাসি।” তাদের বক্তব্য, মা-বাবা মোবাইলের ব্যবহার এবং কোরিয়ান কনটেন্ট দেখা বন্ধ করতে বলায় তাদের দমবন্ধ লাগছিল। আরও দাবি করেছে, কোরিয়ান ড্রামা, অভিনেতা ও কে-পপ ব্যান্ডদের (Korean and K-Pop) প্রতি তাদের ভালবাসা পরিবারের কেউই বুঝতে চাননি। ডায়েরিতে কোরিয়ার পাশাপাশি থাই, জাপানি, চিনের গান-ছবি, এমনকি ডোরেমন, পেপা পিগ, এলসা-অ্যারিয়েলের মতো চরিত্রের তালিকাও পাওয়া গেছে।
এছাড়া ‘কোরিয়ান লাভ গেম’ নামে একটি টাস্ক-ভিত্তিক গেমেও (Task Based Korean Game) তারা জড়িয়ে পড়েছিল বলে সন্দেহ পুলিশি সূত্রের। ধারণা করা হচ্ছে, এই গেমে দেওয়া শেষ টাস্কই তাদের চরম সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয় (Ghaziabad Three Sisters Deaths)।
ডায়েরিতে আরও জানা যায়, পরিবার ‘দেবু’ নামে আরও এক ছোট বোনকে তাদের মতো কোরিয়ান সংস্কৃতিতে আগ্রহী হতে দেয়নি। এতে তিন বোন প্রচণ্ড রেগে যায় এবং দেবুকে দূরে সরিয়ে দেয়। তারা লিখেছে, “তুমি বললে দেবুকে পড়াতে, কিন্তু আমরা চাইতাম সে আমাদের মতো হোক। তাই তাকে শত্রু ভেবেছিলাম।”
তিনজনেরই বিশ্বাস ছিল, বড় হয়ে ভারতীয় নয়, কোরিয়ান ছেলেকেই বিয়ে করবে তারা। পরিবারের আপত্তি তারা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেনি।
আর্থিক সমস্যার কারণে করোনার পর দু'বছর স্কুলে না যাওয়ায় তারা প্রায় সারাদিনই মোবাইলে ডুবে থাকত। এতে বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে গিয়ে ভার্চুয়াল চরিত্র, গেম ও বিদেশি কনটেন্টে অতিমাত্রায় ডুবে যায়।
পুলিশ ডায়েরি, মোবাইল ফোন ও গেম সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের অবাধ স্ক্রিনটাইম, নেশার মতো গেম খেলা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞানতাই এমন বিপদ ডেকে আনতে পারে।