গাজিয়াবাদের ন’তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে ৩ বোনের মৃত্যুতে সামনে আসছে পারিবারিক অশান্তি ও ‘গেমে আসক্তি’র তত্ত্ব। বাবার দুই বিয়ে, সংসারের টানাপোড়েন ও মানসিক চাপ নিয়ে বাড়ছে রহস্য।
.jpeg.webp)
এআই দিয়ে তৈরি
শেষ আপডেট: 4 February 2026 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে (Ghaziabad) তিন বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ধীরে ধীরে সামনে আসছে জটিল পারিবারিক সমস্যার কথা। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এই ঘটনা শুধু একটি ‘আত্মহত্যা’ নয়, বরং বহু স্তরের সামাজিক ও মানসিক সংকটের প্রতিফলন।
এক পরিবার, দুই স্ত্রী, পাঁচ সন্তান
পেশায় ব্যবসায়ী চেতন কুমারের প্রথম বিয়ের পর কোনও সন্তান হয়নি। সে স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর সেখান থেকে তিন সন্তান জন্ম নেয়। তখনই প্রথম স্ত্রীও অন্তঃসত্ত্বা হন এবং দুই সন্তান হয় তাঁদের। দুই স্ত্রী ও তাঁদের পাঁচ সন্তান—সবাই একসঙ্গে থাকতেন গাজিয়াবাদের সাহিবাবাদ (Sahibabad) এলাকার ভারত সিটি (Bharat City) আবাসনে, একটি ন’তলা ফ্ল্যাটে।
বুধবার ভোররাতে যে তিন কিশোরী ন’তলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দেয়, তাদের মধ্যে একজন প্রথম স্ত্রীর মেয়ে এবং বাকি দুই দ্বিতীয় স্ত্রীর।
পুলিশ জানিয়েছে, রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে তিন বোন একসঙ্গে ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে নীচে পড়ে যায়। অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁদের লোনি (Loni) এলাকার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
‘কোরিয়ান অনলাইন গেমে’র প্রভাব? তদন্তে কী মিলছে
ঘটনার পরই সামনে আসে একটি বিতর্কিত তথ্য—তিন বোন নাকি একটি কোরিয়ান টাস্ক-ভিত্তিক অনলাইন গেমে (Korean task-based online game) আসক্ত ছিলেন, যার শেষ ধাপ ছিল আত্মহত্যা। পুলিশ সূত্রে খবর, পরিবার সম্প্রতি তাঁদের মোবাইল ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছিল। তার জেরেই মানসিক চাপ বাড়তে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান।
ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ নিমিষ পাতিল (Nimish Patil) জানান, কিশোরীরা দীর্ঘ সময় ধরে কোরিয়ান কনটেন্টে প্রভাবিত ছিলেন এবং কোভিড পর্ব থেকে অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। একই কথা জানান কিশোরীদের বাবাও। পরিবারের তরফে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা তাঁদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল হয়তো।
তবে পুলিশের শীর্ষ কর্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট অনলাইন গেমের সঙ্গে আত্মহত্যার সরাসরি যোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত চলছে, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডায়েরি, সুইসাইড নোট আর প্রশ্নের পাহাড়
তদন্তকারীরা তিন বোনের ঘর থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছেন। তার ভেতরে লেখা ছিল, ‘এই ডায়েরিতে যা লেখা আছে, সব এখানেই’ সঙ্গে একটি কান্নার ইমোজি। পাওয়া গিয়েছে হাতে লেখা একটি ক্ষমাপ্রার্থনাও, ‘সরি পাপা, আই অ্যাম রিয়ালি সরি’।
ঘরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু ছবি উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, তিন বোন প্রায় সব কাজ একসঙ্গে করতেন—খাওয়া, পড়াশোনা, এমনকি ঘুমও। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, গত দু’বছর ধরে তাঁদের স্কুলে যাওয়া অনিয়মিত ছিল, কার্যত বন্ধই ছিল বলা যায়।
বাবা চেতন কুমার জানিয়েছেন, ফরেনসিক টিম তাঁকে অনলাইন গেমের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বলেছে। যদিও পুলিশ বারবার বলছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক স্তরে। চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না।
এই ঘটনায় গাজিয়াবাদ জুড়ে প্রশ্ন উঠছে—পারিবারিক কাঠামো, কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন আসক্তি আর নজরদারির অভাব—সব মিলিয়ে কোথায় ব্যর্থ হল সমাজ? উত্তর মেলেনি।