গাজিয়াবাদের বহুতল থেকে পড়ে তিন বোনের রহস্যজনক মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন। প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রতীকী ছবি (এআই দিয়ে তৈরি)
শেষ আপডেট: 4 February 2026 14:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে (Ghaziabad) তিন কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই খুলছে জট। বুধবার ভোররাতে ন'তলার বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তিন বোন—পাখি (১২), প্রাচী (১৪) ও বিশিকা (১৬)-র। প্রথমে ঘটনাটিকে ‘ত্রিমুখী আত্মহত্যা’ বলা হলেও, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে সামনে এসেছে অন্য ছবি: এক বোন ঝাঁপ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল, বাকি দু’জন তাকে টানতে গিয়ে একসঙ্গে পড়ে যায়।
ঘটনাস্থল ভারত সিটি (Bharat City) আবাসন। প্রতিবেশী অরুণ সিং (Arun Singh) জানান, রাত দু’টো নাগাদ তিনি নিজের বারান্দায় আসেন। অন্ধকারে দেখেন, একজন রেলিংয়ে বসে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিছুক্ষণ পর আরেকজন এসে তাকে টেনে নামায়। অরুণ ভেবেছিলেন, দাম্পত্য কলহের ঘটনা। কিন্তু মিনিট কয়েকের মধ্যেই আবার রেলিংয়ে ওঠে সে। তখন একটি ছোট মেয়ে এসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। ফোন আনতে যাওয়ার আগেই তিনজন একসঙ্গে মাথার দিক দিয়ে নীচে পড়ে যায়। তাঁর কথায়, ‘একজন ঝাঁপ দিতে চাইছিল, বাকি দু’জন বাঁচাতে চেষ্টা করছিল—শেষ পর্যন্ত তিনজনই পড়ে গেল।’
বন্ধ দরজা, উঁচু রেলিং আর সেই নোট
পুলিশ জানাচ্ছে, মেয়েরা বারান্দার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়। জানালার রেলিং মেঝে থেকে প্রায় চার ফুট উঁচু। একটি দু’ধাপের স্টুল ব্যবহার করে তারা রেলিংয়ে ওঠে বলে অনুমান। দরজা ভাঙতে ভাঙতেই সব শেষ। ঘটনাস্থল থেকে একটি পকেট ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। আট পাতার সেই ডায়েরির কথা উল্লেখ করে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। লেখা ছিল—‘এই ডায়েরিতে যা লেখা আছে সব পড়ে নিও, সব সত্যি। এখনই পড়ো। খুব সরি। সরি, পাপা।’ শেষে আঁকা ছিল কাঁদতে থাকা ইমোজি। ডায়েরিতে তাদের গেমিং ও মোবাইল ব্যবহারের বিস্তারিত নোট ছিল।
কোরিয়ান গেম, আসক্তি আর বিচ্ছিন্নতা
তদন্তকারীদের দাবি, মেয়েরা একটি অনলাইন কোরিয়ান টাস্ক-ভিত্তিক গেমে (Korean task-based game) মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। বাবা চেতন কুমার (Chetan Kumar) কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা বলত—কোরিয়াই আমাদের জীবন, কোরিয়াই আমাদের সবচেয়ে বড় ভালবাসা।’ মেয়েরা কোরিয়ান নামও ব্যবহার করত বলে পরিবারের দাবি। মেজো বোন প্রাচীকেই নেতৃত্বদানকারী হিসেবে দেখা হত। জানা যাচ্ছে, গত দু’বছর ধরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল। ব্যক্তিগত ফোন ছিল না; বাবার ফোনেই ব্যবহার সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল।
দেরিতে অ্যাম্বুল্যান্স, প্রশ্নের মুখে ব্যবস্থা
অরুণ সিংয়ের অভিযোগ, পুলিশ ও অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছতে প্রায় এক ঘণ্টা লেগেছে। তিনি বলেন, ‘যেখানে দশ মিনিটে খাবার পৌঁছয়, সেখানে অ্যাম্বুল্যান্স এল এক ঘণ্টায়।’ এই দেরি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত এখন ডায়েরি, নোট ও ডিজিটাল কার্যকলাপ ঘিরে।
গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: এই খবরটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি মানসিক সংকটে থাকেন, দয়া করে নিকটবর্তী সাহায্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। মনে রাখুন, সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়।