গাজিয়াবাদে দুই বছর ধরে ঘরবন্দি ছিল তিন বোন। ফোন থেকে দূরে রাখা যেত না একজনকেও। একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যু ঘিরে ঘনাচ্ছে রহস্য।

গাজিয়াবাদের ওই ফ্ল্যাট
শেষ আপডেট: 4 February 2026 14:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজিয়াবাদে (Ghaziabad) নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মারা গেল তিন বোন। এই আত্মহত্যার ঘটনায় সামনে এল ভয়ঙ্কর তথ্য। দাবি, বোনেরা যে অনলাইন টাস্ক-বেসড গেমে (Online Task-Based Game) আসক্ত ছিল, সেই গেমের ‘ফাইনাল গোল’ নাকি আত্মহত্যা- এমনটাই অভিযোগ তাঁদের বাবা চেতন কুমারের (Chetan Kumar)। পরিবারের অভিযোগ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নাকি ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া নির্দেশাবলীকে সে ভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন।
‘দুই-দেড় বছর ধরে খেলত, ঘর থেকে বেরোতেই চাইত না’
চেতন জানান, তাঁর তিন মেয়ের প্রথমজনের বয়স ১৫, দ্বিতীয়জনের ১৪ ও তৃতীয়জনের ১১ বছর। তিন মেয়েই প্রায় আড়াই বছর ধরে এই গেম খেলত। ধীরে ধীরে পরিবার থেকে সরে গিয়ে নিজেদের ঘরেই থাকতে শুরু করেছিল। কেউ ঢুকলেই ফোন লুকিয়ে ফেলত। চেতনের দাবি, গেমের কাঠামো ছিল— একজন ‘ইনস্ট্রাক্টর’, বাকিরা অনুসারী। তদন্তকারীদের কথায়, উদ্ধার হওয়া ফোনে নাকি ‘ফাইনাল টাস্ক’ হিসেবে আত্মহত্যার নির্দেশ ছিল।
চেতনের কথায়, “ওরা বলত ‘পাপা, কোরিয়ান ছাড়ব না। কোরিয়ান আমাদের লাইফ। আমাদের সবকিছু। আলাদা করতে পারবে না। লাগলে জীবন দেব।’ নোটটা দেখে এসেছি। অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিন মেয়েকে একসঙ্গে হারিয়ে তিনি অভিভাবকদের প্রতি আবেদন জানান, সন্তানদের গেমিং অভ্যাস অবশ্যই নজরে রাখা উচিত।
ফোন হাতে, ‘জল খেতে যাচ্ছি’, তারপর…
তিন নাবালিকার বাবার বয়ানে জানা যায়, ঘটনার রাতে দম্পতি আলাদা ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। তিন বোন জল খাওয়ার অছিলায় বেরিয়ে আসে। সেই সময়ও ফোন ছিল হাতে। কিছুক্ষণ পরই তারা ফোন ছুড়ে ফেলে দেয়, তারপর একে একে ঝাঁপ দেয়। রাত প্রায় ১.৪৫ নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। পরে পুলিশ ফোনগুলি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
‘সরি পাপা’, আট পাতার নোট ও কাঁদো ইমোজি
জল খাবে বলে বেরনোর সময় তিন বোন দরজা লাগিয়ে দেয় যাতে কেউ বাঁচানোর চেষ্টা পর্যন্ত না করতে পারে। প্রতিবেশীরা ঝাঁপানোর শব্দে জেগে ওঠেন। ঘটনাস্থল অর্থাৎ শালিমার গার্ডেনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (ACP) অতুল কুমার সিং (Atul Kumar Singh) বলেন, “তিন মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এরা তিনজনই চেতন কুমারের কন্যা।”
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায় তিনটি দেহ পাশাপাশি পড়ে, পাশে তাদের মা ভুলভাল বকছেন, প্রতিবেশীরা স্তব্ধ। নোটে লেখা— “রিড নাও। আই অ্যাম রিয়্যালি সরি। সরি পাপা।” সঙ্গে আঁকা কাঁদো ইমোজি। আট পাতার ওই নোটে গেমিং ও মোবাইল ব্যবহারের বিশদ বিবরণ রয়েছে।
পরিবার জানায়, তিন বোন অত্যধিক কোরিয়ান কালচারে (Korean Culture) আচ্ছন্ন ছিল। এমনকি নিজেদের কোরিয়ান নামও রেখেছিল। মাঝের বোন প্রাচী ছিল ভার্চুয়াল দলের ‘নেতা’। কোভিডের সময় থেকে শুরু হওয়া নেশা বাড়তে বাড়তে চরমে পৌঁছয়। স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় তাদের।
‘কোনও নির্দিষ্ট গেমের নাম নেই, কিন্তু প্রভাব স্পষ্ট’
ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) নিমিশ পটেল (Nimish Patel) জানান, এখনও নির্দিষ্ট কোনও গেমের নাম পাওয়া যায়নি। তবে আত্মহত্যা-নোটে কোরিয়ান প্রভাব স্পষ্ট। কয়েক দিন ধরে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল, যা ওদের মানসিকভাবে নাড়া দেয়।
ঘরে আরও একটি লেখা মিলেছে, যেখানে বলা হয়, “আমি খুবই একা।” পুলিশ জানায়, চেতন কুমার একই বাড়ির দুই বোনকে বিয়ে করেছিলেন। মৃতদের মধ্যে দু’জন এক বোনের মেয়ে, তৃতীয়জন সৎবোন।
গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: এই খবরটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি মানসিক সংকটে থাকেন, দয়া করে নিকটবর্তী সাহায্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। মনে রাখুন, সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়।