অমিতাভ-রেখার সম্পর্ক নিয়ে তখন সরগরম পুরো ইন্ডাস্ট্রি। শুধু তাই নয়, ছবির কাহিনিও যেন বাস্তব জীবনের সেই জটিল সম্পর্কের সরাসরি প্রতিফলন।

সিলসিলা
শেষ আপডেট: 22 October 2025 18:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী-স্ত্রীর রসায়নে তৃতীয় মানুষের আনাগোনা! বলিউডের ইতিহাসের (History of Bollywood) পাতা উল্টে দেখলে একের পর এক এমন সম্পর্কের সমীকরণ (love stories in bollywood) উঠে আসবে, তাতে অবাক বা আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তবে কিছু কিছু সম্পর্ক নিয়ে বরাবর কৌতূহল থেকে গেছে মানুষের।
সব কিছু ঠিক রেখে বিবাহিত জীবন এগিয়ে নিয়ে গেলেও কোথাও তাল কেটে গেছে, তা যখনই সামনে এসেছে - বলিউডপ্রেমীদের চোখের সামনে ভেসে এসেছে একটাই ছবি ‘সিলসিলা’র (Silsila) ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
ছবিটা যখন তৈরি হয়, সেই সময়টা বলিউডের জন্য ছিল এক অন্য অধ্যায়।
পরিচালক যশ চোপড়া যখন 'সিলসিলা'র জন্য অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন ও রেখাকে একসঙ্গে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন, তখন সেটাই ছিল দশকের সবচেয়ে বড় কাস্টিং-এর খেলা। কারণ, তখন অমিতাভ-রেখার সম্পর্ক নিয়ে সরগরম পুরো ইন্ডাস্ট্রি। শুধু তাই নয়, ছবির কাহিনিও যেন বাস্তব জীবনের সেই জটিল সম্পর্কের সরাসরি প্রতিফলন।

জয়াকে এই সিনেমার জন্য রাজি করানোটা খুব সহজ ছিল না। যশ চোপড়াকে তাই শরণাপন্ন হতে হয় অভিনেতা সঞ্জীব কুমারের। জয়ার ঘনিষ্ঠ পাত্র ছিলেন সঞ্জীব। সেই সূত্রেই জয়ার কাছ পর্যন্ত এই প্রস্তাব নিয়ে পৌঁছতে পেরেছিলেন পরিচালক।
সঞ্জীব কুমারের জীবনীকার হানিফ জাভেরি এক সাক্ষাৎকারে জানান, “যশ চোপড়া জানতেন সঞ্জীব কুমার জয়াকে নিজের বোন-ই মনে করতেন। তাই তিনি জয়ার কাছে অনুরোধটি রাখেন সঞ্জীবের মাধ্যমে। জয়া রাজি হন, তবে এক বিশেষ শর্তে - তিনি শুটিং সেটে সবসময় উপস্থিত থাকবেন, এমনকী যখন হয়তো তাঁর কোনও দৃশ্য থাকবে না তখনও।”
কারণটা কী? “অবশ্যই রেখা” বলেন হানিফ।
ছবির শুরুতে অমিতাভের বিপরীতে স্মিতা পাটিল ও পারভিন বাবিকে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যশ চোপড়ার অনুরোধে জয়া বচ্চন রাজি হন এবং সঞ্জীব কুমারই তাঁকে বোঝানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

সেই সময় অমিতাভকে ঘিরে নানা মুখরোচক খবর ছড়িয়েছিল। অমর সিং, যিনি একসময় বচ্চন পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, লেখক ইয়াসির উসমানের বই Rekha: The Untold Story-তে বলেন, “একবার শাবানা আজমির জন্মদিনে আমি জয়া ও অমিতাভকে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমরা সময়মতো পৌঁছই, কিন্তু ঘরে ঢুকতেই দেখি রেখা আগেই উপস্থিত। অমিতাভ রেখাকে দেখেই ঘর থেকে বেরিয়ে যান।”
রেখা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “অভিনয়ে আমি যা কিছু শিখেছি, তার শতভাগ কৃতিত্ব অমিতাভজির। আমি ওঁকে দেখেই সব শিখেছি। ওঁর উপস্থিতিই আমার জীবন ও কাজের দিশারি।”

তিনি আরও বলেন, “ভক্তরা জানতে চান, ‘সিলসিলা’র পর আমরা কেন আর একসঙ্গে কাজ করিনি। আমি শুধু এটাই বলব, সব কিছুই সঠিক সময়ে ঘটে। হয়তো এমন কোনও স্ক্রিপ্ট এখনও আসেনি যা আমাদের সঙ্গে মানানসই। আমি বিশ্বাস করি, ধৈর্যের ফল মিষ্টিই হয়।”