Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’‘বাংলাকে না ভেঙেই গোর্খা সমস্যার সমাধান’, পাহাড় ও সমতলের মন জিততে উন্নয়নের ডালি শাহের

‘স্ত্রীর ব্যভিচার’ নিয়ে সিনেমা! ৬০ বছর ধরে সুপারডুপার হিটের তালিকায় দেব আনন্দের ‘গাইড’

১৯৬৫ সালে তাঁরই অভিনীত ছবি গাইড মুক্তি পাওয়ার পর যা ভারতীয় ক্ল্যাসিক সিনেমার বাক্সবন্দি হয়ে গিয়েছে। 

‘স্ত্রীর ব্যভিচার’ নিয়ে সিনেমা! ৬০ বছর ধরে সুপারডুপার হিটের তালিকায় দেব আনন্দের ‘গাইড’

৫০ লক্ষ টাকা বাজেটের সিনেমা ঘরে তুলল ১.৭৫ কোটি টাকা।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 17 October 2025 17:18

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইচ্ছা থাকলেও সত্যজিৎ রায় ভারতের প্রখ্যাত লেখক আরকে নারায়ণের সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাস দ্য গাইড নিয়ে সিনেমা তৈরি করতে পারেননি। কারণ তিনি উপন্যাসকে চিত্রনাট্যে বদলের ইচ্ছাপ্রকাশ করার আগেই সেই স্বত্ব কিনে নেন সুপারস্টার, এভারগ্রিন নায়ক-প্রযোজক দেব আনন্দ। পরে ১৯৬৫ সালে তাঁরই অভিনীত ছবি গাইড মুক্তি পাওয়ার পর যা ভারতীয় ক্ল্যাসিক সিনেমার বাক্সবন্দি হয়ে গিয়েছে। এই বছরই চলছে গাইড সিনেমার ৬০ বছর বয়স। এখনকার প্রজন্মের কাছে অপরিচিত মনে হলেও সেই আমলে এরকম কাহিনি নিয়ে ছবি তৈরি করা শুধু বিপদেরই ছিল না, বিদ্রোহের সমতুল। এই প্রথম ভারতীয় সিনেমা ব্যভিচারকে সিনেমার পর্দায় দেখল। সেই আমলে যা ভাবাই যেত না। প্রেম, ব্যভিচার, বিশ্বাসঘাতকতা, মন ভাঙা থেকে ঈশ্বরপ্রেমে উত্তীর্ণ হওয়ার পরতে পরতে চমক এই প্রথম দেখতে পেলেন দর্শকরা। ৫০ লক্ষ টাকা বাজেটের সিনেমা ঘরে তুলল ১.৭৫ কোটি টাকা। যা ভাবেননি খোদ দেব আনন্দও।

যদিও ব্যভিচার কিংবা সহবাস করা পরপুরুষের সঙ্গে মিলন এই ছবির বিষয়বস্তু নয়। গিরিশচন্দ্র ঘোষের লেখা বিল্বমঙ্গল নাটকের মতোই এখানে রূপৈশ্বর্যের প্রেম, ঈশ্বরচেতনা প্রেমে উত্তীর্ণ হয়ে যায়। তাই শেষ দৃশ্যে দেব আনন্দ অভিনীত নায়ক রাজু বলতে পারে, না সুখ হ্যায়, না দুখ হ্যায়, না দিন হ্যায়, না দুনিয়া, না ইনসান, না ভগবান, সির্ফ ম্যায় হুঁ, সির্ফ ম্যায়। এই ঈশ্বর ও পরমাত্মার মধ্যে আত্মোপলব্ধিতে উত্তরণ দর্শকদের মোহিত করে দিয়েছিল। আর সে কারণেই রিলিজের পরেই সুপারডুপার হিট হল ছবি। শচীন দেব বর্মনের সুরে প্রতিটি গান হল সুপারহিট। শুধু গান নয়, গানের কথাতেও বিপ্লব এনে দিলেন গীতিকার শৈলেন্দ্র। ...প্যায়ার করনে বালে, প্যার হি করেঙ্গে। জলনে বালে চাহে জল জল কর মরেঙ্গে।

দেব আনন্দ অভিনীত প্রথম রঙিন ছবি গাইড। শুধু এটাই এই সিনেমার বিশেষত্ব নয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গাইড সিনেমা হল, ছয়ের দশকে মুক্তিপ্রাপ্ত সব ছবির পথপ্রদর্শক। যার হেঁটে যাওয়া পথ দিয়ে পরবর্তীতে এগিয়ে এসেছে ভারতীয় সিনেমা। ভারতীয় সিনেমায় গাইড সিনেমা ছিল এক পরিবর্তনের মাধ্যম। দেবদাসীর কন্যা, অন্যের নিঃসঙ্গ, একাকিত্বে ভোগা নর্তকী, যার ঘুঙুর পরার অনুমতি নেই, তার মুক্তির ছবি। ওয়াহিদা রহমান অভিনীত নায়িকা রোজির সঙ্গে প্রেম দেব আনন্দ অভিনীত রাজুর। যাকে ভারতীয় দর্শকরা হজম করতে পারেননি। অনেক ঝড়-ঝাপটা সামলে দেব আনন্দ এই সিনেমাকে পূর্ণ করেছিলন। সাধারণত নায়ক-নায়িকার খুনসুটি, বাগান-বৃষ্টিতে গান, এক পিস খলনায়ক ও এক পিস কৌতুকাভিনেতার কাতুকুতু দেওয়া হাসির বাইরে বিজয় আনন্দ (দেব আনন্দের ভাই) এই ছবি বানিয়েছিলেন।

লন্ডনে গিয়ে এই বইটি পড়েন দেব। তারপরেই ঠিক করে ফেলেন এই গল্প নিয়ে ছবি করতেই হবে। ফিরেই রাজ খোসলাকে প্রস্তাব দিলেন পরিচালনার। কিন্তু, দেবের পছন্দের নায়িকা ওয়াহিদা দিলেন বাধা। সোলওয়া সাল ছবির সময় খোসলার সঙ্গে তাঁর মতান্তরের কারণে জানিয়ে দিলেন, কাজ করবেন না। তখন দেব তাঁর ছোট ভাই বিজয় আনন্দকে পরিচালনার কথা বলেন। কিন্তু বিজয় গোল্ডি আনন্দ ওয়াহিদাকে নিতে রাজি নন। কারণ চরিত্রটি নৃত্যশিল্পীর। সায়রা বানু পরে দাবি করেছিলেন, তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। বিজয় বৈজয়ন্তীমালার নাম করলেও দেব ওয়াহিদাকে নিয়ে অনড় ছিলেন।

এই একই সময়ে ওয়াহিদা নীলকমল নামে আর একটি শুটিং করছিলেন। তার পরিচালক রাম মাহেশ্বরী একদিন নায়িকাকে বলেন, আপনি আমাকে মেরে ফেলবেন। কারণ আমার ছবিতে আপনার চরিত্রের নাম সীতা। যে স্বামীঅন্ত প্রাণ। আর গাইডে আপনি রোজি, যে দেবদাসী, নর্তকী এবং স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া এক স্ত্রী। আমি সত্যিই মরে যাব...।

প্রথমে এসডি বর্মনের সঙ্গে গীতিকার হিসেবে নেওয়া হয়েছিল হসরত জয়পুরীকে। কিন্তু, তাঁর গান পছন্দ হল না আনন্দ-ভাইদের। তখন শৈলেন্দ্রকে বলা হল। তিনি সুযোগ বুঝে হাঁক দিলেন বিরাট দর। শচীনকর্তা ও শৈলেন্দ্র জুড়িদারিতে তৈরি হল একের পর এক যুগান্তকারী গান। আজ ফির জিনে কি তামান্না হ্যায়, গাতা রহে মেরা দিল, ক্যায়া কে ক্যায়া হো গয়া কিংবা তেরে মেরে সপনে...।

কিন্তু, সিনেমার মুক্তির আগেই দেশের তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের কাছে এসে পৌঁছল বস্তা বস্তা চিঠি। যার বিষয় হল- এই ছবির কাহিনি হল একটি ব্যভিচার, পরস্ত্রীকে নিয়ে। এই ছবিকে কোনওভাবেই যেন সেন্সর বোর্ডের অনুমতি না দেওয়া হয়। নবকেতন প্রযোজনা সংস্থা ডিস্ট্রিবিউটর খুঁজতে গিয়ে পাগল হয়ে গেল। কেউ দায়িত্ব নিতে রাজি নন। সব বাধা কাটিয়ে যখন রিলিজ করল তখন দেশের দর্শকরা মাথায় করে নিলেন গাইডকে। সেই বছর একসঙ্গে সাতটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতল। তার মধ্যে সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা নায়ক, সেরা নায়িকার সম্মান জুটল। শুধু তাই নয়, অস্কারের জন্য ভারতের সরকারি এন্ট্রি পেল গাইড।

২০০৮ সালে গাইডকে কান চলচ্চিত্রোৎসবে প্রথম ভারতীয় ছবি হিসেবে ক্ল্যাসিক বিভাগে স্থান দেওয়া হয়। প্রবীণ দেব আনন্দ কানের মতো সুবিখ্যাত উৎসবের রেড কার্পেটে পা রাখলেন। গাইড তিনি একবার বলেছিলেন, এটাকে তৈরি করা ছিল পাগলের কাণ্ড। কিন্তু এটাও ঠিক যে, সমস্ত মহান জিনিসের পিছনে একটা পাগলামি থাকে। আমরাও সেই সময় ছবি করার পাগলামিতে ভুগছিলাম। 


```