কালীপুজোয় আর কিছু লাগুক না লাগুক, জবা ফুল লাগবেই। রক্তজবা উৎসর্গ করা হয় মা কালীর পায়ে।

মায়ের পায়ের জবা হয়ে ওঠ না ফুটে মন!
শেষ আপডেট: 17 October 2025 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বল রে জবা বল, কোন সাধনায় পেলি শ্যামামায়ের চরণতল! কিংবা মায়ের পায়ের জবা হয়ে ওঠ না ফুটে না মন! কোথাও তিনি রণচণ্ডী, কোথাও তিনিই দয়াময়ী। হাতে তাঁর খড়্গ। গলায় তাঁর মুণ্ডমালা। কালীপুজোয় আর কিছু লাগুক না লাগুক, জবা ফুল লাগবেই। রক্তজবা উৎসর্গ করা হয় মা কালীর পায়ে। কিন্তু জবা ফুলই কেন? আরও তো অনেক ফুল রয়েছে! জানেন এর পিছনের রহস্য?
মনে করা হয় জবা ফুলের পাপড়ি অনেকটা দেবী কালীর লোলজিহ্বার মতো। তেমনই টকটকে লাল। যা উগ্রতার প্রতীক বলে পরিচিত। দেবী কালীও উগ্র। পাপের বিনাশ করেও ক্ষান্ত হন না তিনি। দেবীর পুজোয় লাল জবা ফুল লাগে। লাল রং শক্তি ও শৌর্যের প্রতীক। জবা ফুলের লাল। সেই কারণেও দেবীর পুজোয় ব্যবহার করা হয় জবা ফুল।
প্রচলিত একটি কাহিনি হচ্ছে, নানা পুজোয় নানা ফুল ব্যবহার করা হলেও, জবা ফুল কোনও পুজোতেই ব্যবহার করা হত না। তাই মনে দুঃখ নিয়ে দেবীর শরণাপন্ন হন জবা। মাকে বলে, ‘মা আমার না আছে রূপ, না আছে গন্ধ, তাই কোনও পুজোতেও আমাকে ব্যবহার করা হয় না’। এই শুনে মা বলেন ‘যাঁদের কেউ নেই, তাঁদের মা আছে। আজ থেকে আমার পুজোয় অপরিহার্য হবে জবা ফুল।’ সেই থেকেই লাল জবা ফুল হয়ে ওঠে সৃজন ও শৌর্যের প্রতীক, দেবী কালিকার প্রতিনিধি। তাই কালী পুজোয় আর কিছু থাকুক না থাকুক জবা ফুল লাগবেই।
লাল রং ঋতুচক্রের প্রতীক এবং ঋতুচক্র সৃজনের, তাই লাল রং দ্বারা অনন্ত সৃজনকে নির্দিষ্ট করা হয়। এই কারণেই রক্ত জবা কালীপুজোয় অপরিহার্য। লাল রং শৌর্যের প্রতীক। অসুরদলনী, রক্তবীজবিনাশিনী মায়ের শৌর্যের কথা সর্বজনবিদিত। অতএব আর গলায় যে রক্তজবার অঙ্গ ভূষণ হবে এইতো স্বাভাবিক। আবার লাল রং ভালবাসা, স্নেহের প্রতীক। মা অর্থই হল জগতব্যাপী ভালবাসা।
হিন্দুধর্মে ১০৮ সংখ্যাটি অতি পবিত্র। হিন্দুধর্মে ১০৮ সংখ্যাটি দ্বারা ব্রহ্মকে প্রকাশ করা হয়। তাই হিন্দুধর্মে ১০৮ সংখ্যাটির এত গুরুত্ব। বর্ণমালায় যে সব বর্ণ পরপর সাজানো আছে, বর্ণমালায় তাদের অবস্থান অনুযায়ী ব্রহ্মের ‘ব’ ২৩ নম্বর বর্ণ। ‘র’ ২৭ নম্বর, ‘হ’ ৩৩ এবং ‘ম’ ২৫ নম্বর। ২৩, ২৭, ৩৩ আর ২৫ রোগ করলে দাঁড়ায় ১০৮।
আর একটি মতে, প্রাচীন সংস্কৃত ভাষায় ৫৪টি অক্ষর ছিল। প্রতিটি বর্ণের পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ, অর্থাৎ শিব ও শক্তি বর্তমান। সেই অনুযায়ী ৫৪x২= ১০৮। প্রাচীন মুহূর্ত শাস্ত্র অনুসারে, সময়কে ১০৮টি উপলব্ধিতে বিভাজিত করা হয়। ৩৬ অতীত, ৩৬ বর্তমান, ৩৬ ভবিষ্যৎ। হিন্দুধর্মের পঞ্চদেবদেবী, যাঁরা শাস্ত্রানুসারে সর্বাগ্রে পূজিত (গণেশ, বিষ্ণু, শিব, কৌশিকী বা চণ্ডী এবং সূর্য বা আদিত্য), প্রত্যেকেরই অষ্টোত্তর শতনাম সংকীর্তন করা হয়ে থাকে। বৌদ্ধধর্মে বলা রয়েছে, জপমালার একটি সূত্রতে ১০৮টি পুঁতি থাকে। একটি সূত্র হল- ৬ x ৩ x ২ x ৩= ১০৮, অর্থাৎ ৬ হল মানুষের ছটি ইন্দ্রিয় (চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক ও চিন্তা), ৩ হল ত্রিকাল (অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ), ২ হৃদয়ের দু’টি অবস্থা (নির্মল ও কলুষিত) এবং ৩ হল মানুষের মনের অবস্থা (ইচ্ছা, অনিচ্ছা ও উদাসীনতা)। জপের মূল উদ্দেশ্য হল ইন্দ্রিয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা, মনের পরিচালনা করা এবং কালের ঊর্ধ্বে নিজের হৃদয়কে প্রতিস্থাপন করা।