তিনটে দশক ছুঁইছুঁই পথচলার মধ্যে ২৩টা বছর যেন আলাদা করে বাঁধা—নাচের মুদ্রায়, মন্ত্রের ধ্বনিতে, আর একান্ত ঘরোয়া বিশ্বাসে।

শেষ আপডেট: 23 January 2026 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনটে দশক ছুঁইছুঁই পথচলার মধ্যে ২৩টা বছর যেন আলাদা করে বাঁধা—নাচের মুদ্রায়, মন্ত্রের ধ্বনিতে, আর একান্ত ঘরোয়া বিশ্বাসে। ইন্দ্রাণী দত্তের নাচের স্কুলে সরস্বতী পুজো মানে কেবল একটি দিন নয়, একটি উত্তরাধিকার। সময় বদলায়, ব্যস্ততা বাড়ে, কিন্তু বাগদেবীর আরাধনায় তাঁর ছন্দ একটুও ভাঙে না। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। হলুদ শাড়ি, মার্জিত সাজে, মা ও মেয়ে—ইন্দ্রাণী দত্ত আর রাজনন্দিনী পাল—একসঙ্গে দাঁড়িয়ে যেন এক ফ্রেমে ধরা পড়ল সময়ের ধারাবাহিকতা।(Rajnandini Paul, Saraswati Puja, Indrani Dutta)
বছরের পর বছর পুজো করতে করতে সব যেন নিজের জায়গা খুঁজে নিয়েছে। কারা আসবেন, কখন আসবেন—আগে থেকেই বলা থাকে। এক সময় দু’দিন আগে থেকেই সাজসজ্জার তোড়জোড় চলত, এখন শুটিংয়ের ফাঁকেই সব গুছিয়ে নেওয়া হয়। কোথা থেকে প্রসাদ আসবে, কী হবে ভোগ—একটা ফোন কলেই আজকাল সব হয়ে যায়। ছাত্রছাত্রীরাও নিজেদের কাজ সেরে সময় করে আসে। এই পুজো কাউকে থামিয়ে রাখে না, বরং সবাইকে এক জায়গায় এনে দেয়।
এই আয়োজনের সঙ্গী রাজনন্দিনী। মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করাটা তাঁর কাছে কর্তব্যের মতো নয়, স্বাভাবিক। নিজেই বলে ওঠে, মা এত দ্রুত আর নিখুঁতভাবে সব সামলে ফেলেন যে আলাদা করে কিছু করার থাকে না। কিন্তু ইন্দ্রাণী জানেন, মেয়ের অবদান কতখানি। গতকালই ‘বিজয়নগরের হীরে’ ছবির প্রিমিয়ার শেষে, আজ মুক্তির আগের উত্তেজনা নিয়েও রাজনন্দিনী কারও সঙ্গে ছবি তোলা বা কথা বলা না করে সোজা চলে এসেছে মায়ের কাছে—ঠাকুর আনতে সাহায্য করতে। ইন্দ্রাণী বলেন, ‘এই শিক্ষা তাঁকে দিতে হয়নি, রাজনন্দিনী নিজেই বুঝে নিয়েছে।’
সরস্বতী পুজো নিয়ে রাজনন্দিনীর স্মৃতি শুনলে বোঝা যায়, বয়স এখানে কেবল একটি সংখ্যা। ছোটবেলা থেকে যাদের সঙ্গে নাচ, তারাই আজও এই পুজোর চারপাশে। তাই তাঁর কাছে আজও পুজো মানে শৈশবের দিনগুলোই। অষ্টমীতে প্রথম শাড়ি পরার সেই স্মৃতি—বয়স তখন বারো কিংবা তেরো—রীতিমতো বায়না করে শাড়িতে নিজেকে জড়িয়ে নেওয়ার আনন্দ আজও তাঁর চোখে মুখে ভাসে।