প্রসেনজিৎ বলেন, আবেগের মুহূর্তে অনেক কথাই বলা হয়ে যায়। তাঁর মতে, “৭২ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষমতা বা যোগ্যতা আমার আছে বলে মনে করি না”।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 12 April 2026 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিপাড়ার সাম্প্রতিক উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই 'ব্যান কালচার' আবারও উঠে এল আলোচনায়। সম্প্রতি এই বিষয় বিশেষ উদ্যোগ নিতে দেখা যায় অভিনেতা দেবেকে। নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর আবেদন জানান তিনি। ছুঁড়ে দেন ৭২ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জও। এই ‘৭২ ঘণ্টা’ মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে মুখ খুললেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। রবিবার আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং সংযত মন্তব্যের পক্ষেই সওয়াল করেন।
প্রসেনজিতের কথায়, ৭ এপ্রিলের বৈঠকে সকলেই উপস্থিত ছিলেন একটাই উদ্দেশ্যে—রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর সঠিক বিচার এবং শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই আবেগঘন পরিস্থিতিতেই ‘৭২ ঘণ্টা’র প্রসঙ্গ উঠে আসে, যা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন দেব (Dev)। তবে সে সময়ই তিনি ব্যক্তিগতভাবে দেবকে পরামর্শ দেন, কথাও হয়। তবে প্রসেনজিতের কথায়, গত দেড় দুই বছর ধরে এটা চলে আসছে। আইনি পথেও অনেক কিছু ঘটেছে। এটা নিয়ে আগেও বসা যেত।
প্রসেনজিৎ বলেন, আবেগের মুহূর্তে অনেক কথাই বলা হয়ে যায়। তাঁর মতে, “৭২ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষমতা বা যোগ্যতা আমার আছে বলে মনে করি না”।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “৭ এপ্রিলের মিটিংয়ে আমরা প্রত্যেকে সামিল হয়েছিলাম একটাই উদ্দেশে, রাহুলের মৃত্যুর সঠিক বিচার আর প্রত্যেক শিল্পী, টেকনিশিয়ান সহ যাঁরা এই পেশায় নিযুক্ত তাঁদের যথাযথ সুরক্ষা প্রদান। সেদিন প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন বিষয়টা উত্থাপন করা হয়। আমি দাদা হিসেবে বলেছিলাম। ”
এদিন তিনি আরও বলেন, “বিষয়গুলো প্রায় দেড় থেকে দুবছর ধরে চলছে। জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। আমাদের ফোরাম এবং আমি, রঞ্জিতদা তখনও ছিলাম। একটা জেনারেল মিটিং করে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে পারতাম। সোশাল মিডিয়ায় যাঁর উদ্দেশ্যে কিছু পোস্ট করা হচ্ছে আমার মনে হয় তাঁকে একবার জানানো উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার আগে দেবের একবার আমার অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। এটা ব্যক্তিগতভাবে আমার খারাপ লেগেছে। আমার কষ্ট হয়েছে, তবে প্রশ্ন করিনি। সবচেয়ে বড় কথা এই বিষয়টা ফেডারেশনের কাছে উত্থাপন করা উচিত ছিল। পাবলিক ফোরামে এই ধরনের ৭২ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ কতটা যুক্তিসঙ্গত আমি জানি না।”
এদিন প্রসেনজিৎ তাঁর মন্তব্যে ইঙ্গিত দেন, এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয় প্রকাশ্যে আনার আগে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির মধ্যে আলোচনা হওয়াই উচিত। ফেডারেশন বা আর্টিস্ট ফোরামের মতো প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোই সঠিক পথ—এমনটাই মত তাঁর।
সব মিলিয়ে, ‘৭২ ঘণ্টা’ বিতর্কে সরাসরি বিরোধিতার সুর না থাকলেও, প্রসেনজিতের বক্তব্যে স্পষ্ট—তিনি তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত বা প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জের বদলে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার পক্ষপাতী। টলিপাড়ার বর্তমান সংকটের সময়ে এই সংযত অবস্থানই হয়তো ইন্ডাস্ট্রির জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বলেই মনে করছেন তিনি।