মঙ্গলবারের বৈঠক ছিল সেই অস্থিরতারই প্রতিফলন। সেখানে একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তেমনই আলোচনায় উঠে এসেছে বহুদিন ধরে চলতে থাকা ‘নিষিদ্ধ’ বিষয়টিও।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 8 April 2026 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আউটডোর শুটিংয়ের মঞ্চে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunodoy Banerjee Death) মৃত্যু টলিউডকে (Tollywood) যেন এক ধাক্কায় বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে এনেছে। এই ঘটনার অভিঘাতে শুধু শোক নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে জমে থাকা নানা প্রশ্ন, ক্ষোভ এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাও নতুন করে সামনে এসেছে। শিল্পী থেকে টেকনিশিয়ান—সকলেই একসুরে নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং ন্যায়ের দাবিতে সরব হয়েছেন।
মঙ্গলবারের বৈঠক ছিল সেই অস্থিরতারই প্রতিফলন। সেখানে একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তেমনই আলোচনায় উঠে এসেছে বহুদিন ধরে চলতে থাকা ‘নিষিদ্ধ’ বিষয়টিও। অতীতে বিভিন্ন কারণে কাজ হারানো শিল্পীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই প্রশ্ন ঘিরে এদিন আলোচনা হয়।
এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন অভিনেতা-প্রযোজক দেব। বৈঠক শেষে তিনি জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই নিষিদ্ধ শিল্পীদের নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হবে। সেই আলোচনায় থাকবেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। দেবের কথায়, কাজ থেকে দূরে থাকা শুধু পেশাগত ক্ষতি নয়, তা মানসিক যন্ত্রণারও কারণ—আর সেই দিকটি মাথায় রেখেই দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
তবে বিষয়টি এত সহজে মিটবে না, এমনটা মনে করছেন না অনেকেই। কারণ, বৈঠকের পরই স্বরূপ বিশ্বাসের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায়, এই দ্বন্দ্বের শিকড় অনেক গভীরে। তাঁর বক্তব্য, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কলাকুশলীরা নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করে চলেছেন। আদালতের দ্বারস্থ হওয়া থেকে শুরু করে আর্থিক সঙ্কট—সবই সহ্য করতে হয়েছে তাঁদের। সেই লড়াইয়ের সময় ইন্ডাস্ট্রির একাংশের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে টলিউডের বর্তমান ছবিটা—একদিকে ঐক্যের ডাক, অন্যদিকে পুরনো ক্ষত এবং অবিশ্বাস। তবে আশার কথা, অন্তত আলোচনার টেবিলে সব পক্ষই এখন মুখোমুখি। আর সেই বৈঠক থেকেই হয়তো মিলবে সমাধান সূত্র।
এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর কাড়ে দেবের একটি পোস্ট। যেখানে তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে মনে করিয়ে দেন ৭২ ঘণ্টার কথা। এখন দেখার, এই বিষয় অন্দরমহলের বৈঠকে কতটা সমাধানসূত্র মেলে।