এদিন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও সংস্থাকে তারা বয়কট কিংবা ব্যান করছেন না। তবে অভিযুক্ত লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে যুক্ত সেখানে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন শিল্পীরা।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 12 April 2026 17:19
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই টলিপাড়ার অন্দরমহলে দানা বেঁধেছে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং ক্ষোভ। শুটিং ফ্লোরে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই নড়েচড়ে বসেছে শিল্পী মহল। একের পর এক বৈঠকে বসে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে। সেই প্রেক্ষিতেই রবিবার ফের বৈঠক ডাকে আর্টিস্ট ফোরাম।
এর আগে ৭ এপ্রিলের বৈঠকেই শিল্পীদের বিমা, নিরাপত্তা এবং আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়া দুই ধারাবাহিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। যার পর থেকেই ওই দুই ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত বহু শিল্পী ও কলাকুশলী কাজ হারানোর আশঙ্কায় পড়েছিলেন। তার মাঝে সেই বিষয়ও বৈঠকে বসে আর্টিস্ট ফোরাম। বিকল্প কোনও ব্যবস্থার চেষ্টা হচ্ছে বলেও জানান হয়েছিল। এরপর রবিবারের বৈঠকে এই বিষয়টি ফের উঠে আসে আলোচনায়, তবে এবার খানিকটা অন্যভাবে বিষয়টি দেখছে ফোরাম।
এদিন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও সংস্থাকে তারা বয়কট কিংবা ব্যান করছেন না। তবে অভিযুক্ত লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে যুক্ত সেখানে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন শিল্পীরা।
এদিন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, প্রথম থেকেই চেষ্টা করা হচ্ছিল, যাঁদের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁদের অন্য প্রজেক্টে যুক্ত করার। বিভিন্ন প্রযোজক ও চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলে অন্তত কিছু মানুষের কাজের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এদিন তিনি স্পষ্ট করেন, ফোরামের লক্ষ্য শুধু বিকল্প কাজ দেওয়া নয়, বরং বন্ধ হয়ে যাওয়া ধারাবাহিকগুলিকেই কীভাবে ফের চালু করা যায়, সেই পথ খোঁজা। কারণ এই ধারাবাহিকগুলির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বহু মানুষ, পাশাপাশি দর্শকরাও সেগুলি নিয়মিত দেখছিলেন। ফলে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার বদলে কাজ চালিয়ে যাওয়ার দিকেই ঝুঁকছে ফোরাম।
তবে এই আলোচনার পাশাপাশি উঠে এসেছে শিল্পীদের ভয়ের কথাও। সাম্প্রতিক ঘটনার পর একাংশ শিল্পী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা এখন এই দুই অভিযুক্তের সঙ্গে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা এতটাই গভীর যে, প্রয়োজনে অন্য কাউকে দিয়ে এই সিরিয়ালের কাজ করানো হলে আপত্তি তুলবে না আর্টিস্ট ফোরাম।
এই প্রসঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় (Shantilal Mukherjee) জানান, শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব দ্রুত কার্যকর সমাধান বের করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে—শিল্পীদের ‘নিষিদ্ধ’ করা। অতীতে নানা কারণে শিল্পীদের ব্যান করার নজির রয়েছে টলিপাড়ায়। তবে সেই বিষয়ে ইতিমধ্যেই আলোকপাত করেছে আর্টিস্ট ফোরাম। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে কোনও শিল্পীকে নিষিদ্ধ না করার দিকেই এগোতে চায় ফোরাম, যদি না তিনি গুরুতর কোনও নিয়মভঙ্গ করেন।
সব মিলিয়ে, রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া সংকটময় পরিস্থিতিতে টলিপাড়া এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে কাজ চালু রাখা, অন্যদিকে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজেই এগোতে চাইছে ইন্ডাস্ট্রি। এখন নজর, এই আলোচনার বাস্তব প্রয়োগে—কত দ্রুত শিল্পীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়, সেটাই দেখার।