ব্যান কালচারের (Ban Culture) বদলে কীভাবে কাজের পরিমাণ বাড়ানো যায় তা নিয়ে ভাবার পরামর্শ দিয়ে অভিনেতা বলেন, "এটা নিয়ে কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন।" যেহেতু সামনে নির্বাচন, তিনি এবং ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত তাই এখনই এবিষয়ে বেশি কথা বলতে চাননি।

দেব-স্বরূপ বিশ্বাস
শেষ আপডেট: 9 April 2026 21:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুলের মৃত্যুতে (Rahul Banerjee Death) টলিপাড়ায় অচলাবস্থার মধ্যেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে 'ব্যান কালচার' (Ban Culture) প্রসঙ্গ। গত কয়েকদিনে পরপর বৈঠক হয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম, ইম্পা, ফেডারেশনের। সেইসময়েও দেব (Actor Dev) স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “এবার ‘ব্যান কালচার’ বন্ধ হোক।” তাঁর কথায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) আশ্বাস দিয়েছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন কাজের বাইরে রয়েছেন, তাঁদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হবে, এবং সেই প্রক্রিয়ায় স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)-এর সঙ্গে আলোচনা হবে। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কী জানালেন অভিনেতা-সাংসদ দেব?
এদিন দেব স্পষ্ট জানান, "আমি চাই না কেউ কাজ হারাক। ব্যান শব্দটাকে ব্যান করতে হবে। টেকনিশিয়ানরা কী দোষ করেছেন? তাঁদের কর্মসংস্থান কী করে হয় আমাদের সেই কথা ভাবতে হবে।"
ব্যান কালচারের (Ban Culture) বদলে কীভাবে কাজের পরিমাণ বাড়ানো যায় তা নিয়ে ভাবার পরামর্শ দিয়ে অভিনেতা বলেন, "এটা নিয়ে কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন।" যেহেতু সামনে নির্বাচন, তিনি এবং ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত তাই এখনই এবিষয়ে বেশি কথা বলতে চাননি। তবে ৪ মে ভোটের রেজাল্ট বেরনোর পর এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশাবাদী দেব।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে আরও একবার চোখে পড়ল দেব-স্বরূপ সংঘাত। অভিনেতা-সাংসদের স্পষ্ট কথা, "যাঁরা ব্যান কালচার নিয়ে আসছে আমরা তাঁদের ব্যান করতে রাজি আছি। কেউ যদি কাজ করতে চায় তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হোক।"
ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের (Swarup Biswas) প্রসঙ্গ আসতেই দেব বলেন, সমস্যা বাড়ানো নয়, সমস্যা সমাধান করার জন্য বিভিন্ন পদে কাউকে না কাউকে বসানো হয়েছে।
কয়েকদিন আগে আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে অনির্বাণ ভট্টাচার্যর মতো অভিনেতার ব্যান হওয়া নিয়ে দেব-স্বরূপ বিশ্বাসের ভিন্ন মন্তব্যের 'ঠান্ডা লড়াই' দেখা গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে দেব বলেন, "অনির্বাণ যখন ব্যান ছিল, আমি কাজ করেছি ওর সঙ্গে। রঘু ডাকাত ওর শেষ ছবি।"
ব্যান ওঠানোর দাবিতে দেব আরও যুক্তি দেন, একজন ছবিতে যদি একজন অভিনেতা কাজ করেন, সেখানে থাকেন ১০০ টেকনিশিয়ান। এরম তিনটে ছবি হওয়া মানে ৩০০ জনের কর্মসংস্থান।
এদিকে বৃহস্পতিবারই ডিরেক্টরদের সংগঠনের তরফে এক গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠানো হয় প্রসেনজিৎকে। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়, তাঁরা সিসিআই-তে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। শুধু তাই নয়, পৃথকভাবে দায়ের হওয়া ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাগুলিও তুলে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন তাঁরা। তবে এই সিদ্ধান্ত শর্তসাপেক্ষ—যে সব নিষেধাজ্ঞা এতদিন ধরে পরিচালক ও অভিনেতাদের কাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেগুলি সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার নিশ্চয়তা চাইছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, দেবের দেওয়া ৭২ ঘণ্টা সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামিকাল অর্থাৎ শুক্রবার। তবে আগামিকাল নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকবেন বলে তড়িঘড়ি আজই আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠক সারা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেব।