প্রশ্ন হল কে অধিকারী হবে তাঁর সম্পত্তির? দুই স্ত্রী ও ছয় সন্তানের মধ্যে সমবণ্টন নাকি অন্য কোনও হিসেব রয়েছে এর মধ্যে?

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 27 November 2025 22:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত হয়েছেন ধর্মেন্দ্র (Dharmendra)। ৮৯ বছর বয়সে মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। রেখে গিয়েছেন তাঁর কাজ। একই সঙ্গে রেখে গিয়েছেন বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি (Dharmendra property share)। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ধর্মেন্দ্রর সম্পত্তির পরিমাণ ৪৫০ কোটির কাছাকাছি। বিলাসবহুল ফার্মহাউজ, রেস্তরাঁর ব্যবসা, একই সঙ্গে দীর্ঘ অভিনয় কেরিয়ার-- সব মিলিয়ে টাকার সংখ্যা বিপুল। প্রশ্ন হল কে অধিকারী হবে তাঁর সম্পত্তির? দুই স্ত্রী ও ছয় সন্তানের মধ্যে সমবণ্টন নাকি অন্য কোনও হিসেব রয়েছে এর মধ্যে?
দুই বিয়ে ও সন্তান (Dharmendra marriage and children)
মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯৫৪ সালে পরিবারের সম্মতিতে প্রকাশ কউরকে বিয়ে করেন হি-ম্যান। সেই বিয়েতে তাঁদের চার সন্তান। সানি, ববি, বিজেতা ও অজিতা।প্রকাশের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে থাকাকালীনই ধর্মেন্দ্র মন দিয়ে ফেলেন হেমা মালিনীকে। যদিও বিয়ের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্ত্রী প্রকাশ! শোনা যায়, ধর্মেন্দ্রকে বিবাহবিচ্ছেদ দিতে রাজি ছিলেন না তিনি। হিন্দু বিবাহ নীতি অনুযায়ী (হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট) এক স্ত্রী বর্তমান থাকাকালীন অন্য একজন পুরুষ অন্য মহিলাকে বিয়ে করতে পারেন না। বহুবিবাহ নিষিদ্ধ! শোনা যায়, হেমাকে বিয়ে করবেন বলে নিজের ধর্মও পরিবর্তন করেন ধর্মেন্দ্র। গ্রহণ করেন ইসলাম। শরিয়ৎ অনুযায়ী, পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে পারেন। সেই মর্মেই নাকি বিয়ে হয় দু'জনের। নতুন নাম হয় দিলাওয়ার খান ও আয়েষা বিবি। যদিও পরবর্তীতে এই নাম কেউই ব্যবহার করেননি। এমনকি আচার-উপাচার পালনের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন দেখা যায়নি। হেমাকে বিয়ের এক বছরের মধ্যেই জন্ম নেয় ধর্মেন্দ্র-হেমার মেয়ে এষা। এরও কিছু বছর পর জন্ম নেয় তাঁদের দ্বিতীয় মেয়ে অহনা।
সম্পত্তির খতিয়ান
মুম্বইয়ের লোনাভালায় ১০০ একর জমির উপর তৈরি হয়েছে ধর্মেন্দ্রর বিলাসবহুল ফার্মহাউজ। শেষ বয়সে প্রথম স্ত্রী প্রকাশের সঙ্গে সেখানেই থাকতেন তিনি, সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছিলেন ছেলে ববি। ওই ফার্মহাউজের আনুমানিক দাম ১২০ কোটি টাকা। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ি-জমি মিলিয়ে ১৭ কোটি টাকার সম্পত্তির রয়েছে অভিনেতার নামে। পঞ্জাবে চাষের জমি, বিলাসবহুল গাড়ি, দামি বাংলো এবং রিসর্ট-এরও মালিক তিনি।
কে পাবে?
প্রশ্ন হল এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির কতটা পাবেন হেমা মালিনী? বাকিদের ভাগ্যেই বা কী জুটবে? হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ১৯৫৬ অনুযায়ী সম্পত্তির ভাগ হবে। সেক্ষেত্রে তাঁর স্ব-অর্জিত সম্পত্তি মোট সাতটি সমান ভাগে বিভক্ত হবে।প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর এবং ছয় সন্তান (সানি, ববি, বিজেতা, অজীতা, এষা, অহানা) প্রত্যেকে এক ভাগ করে পাবেন। অর্থাৎ প্রত্যেকে পাবেন, ৬৪ কোটির মতো। কিন্তু হেমা মালিনী? হিন্দু ম্যারেজ আইন অনুযায়ী, হেমা মালিনী তাঁর স্ত্রী নন! কারণ আইনত প্রথম স্ত্রী থাকলে হেমা সরাসরি তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে গ্ণ্য হন না। তবে তাঁদের দুই সন্তানের সম্পত্তির প্রতি পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
এর আগে সম্পত্তির বাঁটোয়ারা নিয়ে করিশ্মা কাপুর ও সঞ্জয় কাপুরের বিবাদ প্রকাশ্যে এসেছিল। এখানেও ইতিমধ্যেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ধর্মেন্দ্র ভক্তরা। কী জানি, দেওল পরিবারের অন্দরেও এমন কিছু হবে না তো? একদিকে প্রথম পক্ষের অদ্ভূত নীরবতা অন্যদিকে হেমা মালিনীর এ দিন সকাল থেকেই প্রয়াত স্বামীকে নিয়ে লাগাতার পোস্টা আবার সেই চিন্তাতেই ঘি ফেলেছে। তবে অনেকেই আবার পাল্টা বলছেন, করিশ্মা কাপুরের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা খানিক আলাদা। এক, সঞ্জয় কাপুরের প্রাক্তন স্ত্রী ছিলেন তিনি। দুই, সেভাবে যোগাযোগও ছিল না। যদিও, ধর্মেন্দ্র যদি উইল করে থাকেন তবে তাঁর ইচ্ছেতেই সবটা হবে। যদি না করেন সে ক্ষেত্রে 'টাকা মাটি মাটি টাকা' নাকি 'লেগেছে লেগেছে লেগেছে আগুন'? উত্তর দেবে সময়।