বলিউডে প্রবেশের আগেই পঞ্জাবের প্রকাশ কউরকে বিয়ে করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। তখনও নায়ক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বই পাড়ি দেননি তিনি। সংসারে চার সন্তান—সানি, ববি, বিজেতা আর অজিতা।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 24 November 2025 20:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মেন্দ্র দেওল-- যতদিন বলিউডের ইতিহাস থাকবে, ততদিন থেকে যাবেন তিনি। থেকে যাবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চাও। পর্দায় রোম্যান্টিক নায়কের ভাবমূর্তি, অফ-স্ক্রিনে বেপরোয়া প্রেম—দু’দিকেই সমান জনপ্রিয় ধর্মেন্দ্র। তবে বাস্তবে তাঁর প্রেমজীবন যতটাই উজ্জ্বল, ততটাই বিতর্কে ঘেরা।
বলিউডে প্রবেশের আগেই পঞ্জাবের প্রকাশ কউরকে বিয়ে করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। তখনও নায়ক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বই পাড়ি দেননি তিনি। সংসারে চার সন্তান—সানি, ববি, বিজেতা আর অজিতা। সব মিলিয়ে স্থিতিশীল, ছিমছাম পারিবারিক জীবন। কিন্তু সাতের দশকে আচমকাই সব তছনছ। ছবি করতে গিয়ে দেখা হেমা মালিনীর সঙ্গে। প্রথম কয়েক বছর শুধু কাজ—তারপরই প্রেম। সেই প্রেম এতটাই গভীর যে ধর্মেন্দ্র প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না করেই বিয়ে করে নিলেন হেমাকে। জন্মাল তাঁদের দুই মেয়ে এষা আর অহনা।
বলিউডের চোখে ধরা পড়ল স্বপ্নের জুটি—ধর্মেন্দ্র আর হেমা। অনস্ক্রিন মেলবন্ধন, অফ-স্ক্রিনে গ্ল্যামার—সব মিলিয়ে দর্শকের কাছে তাঁরা হয়ে উঠলেন আদর্শ দম্পতি। কিন্তু বাস্তব ছবি ছিল খানিক আলাদা। প্রেম, অভিমান, দীর্ঘ শুটিং শিডিউল—সবকিছুর আড়ালে দাম্পত্যের টানাপড়েন ছিল চিরকাল। মাঝেমধ্যেই উঠত নানা গুঞ্জন, জল্পনা আর অভিযোগ।

একসময় খবর চাউর হল, ধর্মেন্দ্র নাকি নতুন করে আকৃষ্ট হয়েছেন অন্য এক অভিনেত্রীর প্রতি। তিনি অনিতা রাজ। বয়সে সাতাশ বছর ছোট, সেই সময় বলিউডে অন্যতম ব্যস্ত নায়িকা। গুঞ্জন রটে, অনিতা রজের প্রতি ধর্মেন্দ্রর আকর্ষণ নাকি এতটাই প্রবল হয়েছিল যে সেটেও তা লুকনো যাচ্ছিল না।
বিয়ের দু'বছরের মধ্যেই ধর্মেন্দ্রর এ হেন কাণ্ড কানে পৌঁছয় হেমারও। ব্যাপারটা মোটেও ভালভাবে নেননি তিনি। শোনা যায়, তিনি স্পষ্ট ভাষায় ধর্মেন্দ্রকে নির্দেশ দেন—অনিতা রাজের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ব্যক্তিজীবনের বিতর্ক তিনি কখনও প্রকাশ্যে আনেননি। কিন্তু এই ঘটনার পর নাকি তিনি আরও সতর্ক হয়ে ওঠেন। অচিরেই চাপা পড়ে যায় অনিতা-ধর্মেন্দ্রর প্রেমের গুঞ্জন। শক্ত করে হাত ধরেন হেমাই।
তবু হেমার আচরণে কখনও চোখে পড়েনি প্রকাশ্য ক্ষোভ। সময়ের সঙ্গে তিনি যেন শিখে নিয়েছিলেন নিজের লড়াই নিজের মধ্যেই সামলে রাখতে। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন—জীবন কখনও সহজ ছিল না, কিন্তু শ্রদ্ধা আর ভালবাসা থাকলে সব মানিয়ে নেওয়া যায়। সেই ভালবাসার বন্ধনই ছিন্ন হল আজ। প্রয়াত হলেন ধর্মেন্দ্র।