'বাবা কী ভাবে নেত্রী হওয়া যায়?' বাবা বললেন 'এখন অনেকটা হাঁটতে হবে এখন বলতে পারব না। বাড়ি চল।'

শেষ আপডেট: 19 August 2025 17:55
কুমিল্লা কন্যার টলিউড বিজয়ের গল্প। তাঁর জীবন যেন এক সিনেমার মতোই। কুমিল্লা তাঁর দেশ হলেও, কিশোরীবেলা কেটেছিল ঢাকাতে। কিন্তু নিশ্চিন্ত মেয়েবেলায় লাগল দেশভাগের আগুন। প্রাণে বাঁচতে চলে আসতে হল কলকাতা। সুখের জীবনে লাগল অভাবের সংকট। সেখান থেকে পরিবারকে উদ্ধার করতে মেয়ে নামল সিনেমায়। সাবিত্রীরা তো এভাবেই ঘর-সংসার বাঁচায়। আমাদের গল্পের আজ নায়িকা সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়।
'Kolkata Youth Ensemble-এর 'দশে এ দশ' ১০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে সংবর্ধনা জানানো হয় জি ডি বিড়লা সভাঘরে। সেখানেই সাবিত্রী শোনালেন তাঁর কিশোরীবেলার এক মজার গল্প।

জীবনের অপ্রাপ্তি ভুলে জীবনকে হেসেখেলে কাটাতে ভালবাসেন সাবিত্রী। তিনি তাই জীবনের মজার গল্প ভাগ করে নিলেন। কিশোরীবেলায় তিনি ঘটিয়েছিলেন এক মজার কান্ড।
কিংবদন্তি চট্টোপাধ্যায় বললেন ' একটা ছোট্ট গল্প আমি আজ আপনাদের বলব। আমার নিজের জীবনের ঘটনা। আমি একবার বাবার সঙ্গে একটা মিটিংয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে বড় একজন নেত্রী বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তখন আমরা ঢাকায় থাকতাম। ঢাকার রমনা উদ্যানে সেই মিটিং হয়েছিল।এক লক্ষ লোক হয়েছিল। নেত্রী খুব হাত-পা নেড়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। আমার খুব ভাল লাগল।

সেদিন থেকে আমার ইচ্ছে হল আমি নেত্রী হব। বাবাকে বাড়িতে আসতে আসতে বললাম 'বাবা কী ভাবে নেত্রী হওয়া যায়?' বাবা বললেন 'এখন অনেকটা হাঁটতে হবে এখন বলতে পারব না। বাড়ি চল।'
কিন্তু আমার মাথার থেকে সেই ইচ্ছে গেল না। আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নানা ভাবে ভাষণ এটা ওটা দিতে লাগলাম। কিন্তু তাতেও আমার মনের ইচ্ছে পূরণ হল না। কারণ আমি বলছি কেউ তো শুনতে পাচ্ছে না।'
এরপর সাবিত্রী ঐ কিশোরী বয়সে ঘটালেন এক মজার কান্ড। তাঁর কথায় ' দুপুরবেলা বাবা কাজে বেরিয়ে গেলে আমি রাস্তায় বেরিয়ে পড়তাম। আমাদের বাড়িতে তো আর মাইক ছিল না। কলের গান ছিল বাড়িতে। কলের গানের চোঙা নিয়ে পাড়ায় ঘুরে ঘুরে ভরদুপুরে বলতাম 'আপনারা চিন্তা করবেন না। আমি এই দলে যোগদান করেছি। আপনাদের দেখতে চলে এসছি। আমি আপনাদের দেখব, খেতে পরতে দেব', এসব চিৎকার করে বলতে লাগলাম। ঠিক তিনদিন বাদে দেখলাম পাড়ার মহিলারা সব এসে আমাদের বৈঠকখানায় দাঁড়িয়ে আছে। আমি ভাবলাম তারা হয়তো আমার প্রশংসা করতে এসছেন। কিন্তু সবাই আমার দিকে তাকিয়ে মুখ নীচু করে চলে গেল। আমি তো কিছুই বুঝলাম না। বাবা আমাকে ঠাস করে একটা থাপ্পড় মেরে বললেন 'তুমি এগুলো কী আরম্ভ করেছ? তুমি সবাইকে খেতে পরতে দেবে? তুমি কে খেতে দেবার? আমি বাজার করি তবেই তো তুমি খাও।'
পাড়ার মহিলারা বাবার কাছে নালিশ করতে এসেছিল, তারা দুপুরে আমার চিৎকারের ঠেলায় ঘুমোতে পারে না। এই তাদের নালিশ!
যাক গে, আমি সব বন্ধ করে দিলাম। কিন্তু আমার মনেমনে সেই ইচ্ছেটা রয়েই গেল। কিন্তু মানুষ যা ভাবে তা তো হয় না। হতে চাইলাম নেত্রী, হয়ে গেলাম অভিনেত্রী।'
তারপর শুধুই করতালি আর করতালি। কমেডি সাবিত্রী রচনা করে দিলেন দু মিনিটে। এটাই সাবিত্রী জাদু।