শুটিংয়ের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, প্রথম দিন তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং সেই নৌকাতেও উঠেছিলেন। তাঁর কথায়, পরের দিনও একইভাবে চারপাশে একাধিক নৌকা মোতায়েন ছিল। তাঁর মতে, সেই কারণেই ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় নুলিয়া ও অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরা পরে বিস্তারিতভাবে পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করতে পেরেছেন।

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 30 March 2026 19:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তালসারি সমুদ্রতটে শুটিং—তারপরই আচমকা সব শেষ। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর (Rahul Arunodoy Banerjee Death) অকাল মৃত্যু শুধু শোকই নয়, একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে। কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? শুটিংয়ের অনুমতি কি ছিল? নিরাপত্তা ব্যবস্থাই বা কোথায় ছিল? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বাঁচানোর সময় কি ফসকে গেল?
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র পরিচালক শুভাশিষ মণ্ডল জানান, বিকেল পাঁচটা নাগাদ তালসারি বিচে (Talsari Beach) শুটিং চলছিল। দৃশ্য অনুযায়ী, রাহুল সমুদ্রের দিকে মুখ করে গোড়ালি পর্যন্ত জলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শটটি এতটুকুই থাকার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে ধীরে ধীরে আরও গভীর জলের দিকে এগোতে শুরু করেন।
ইউনিটের সদস্যরা বারবার তাঁকে থামতে বলেন—“যেও না, ওটা শটে নেই”—তবু তিনি এগোতেই থাকেন। কিছুটা দূর যাওয়ার পর ইউনিটের যাঁরা সাঁতার জানতেন, তাঁরা পিছন পিছন জলে নামেন। তখন জল কোমর ছুঁয়ে ফেলেছে। সেই সময়ও সহ-অভিনেত্রী শ্বেতার হাত ধরে ছিলেন রাহুল (Rahul Banerjee News )। আশেপাশে ছোট ছোট নৌকাও ছিল।
পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বুঝে ইউনিটের সাত-আটজন এগিয়ে যান, যাতে কোনও সমস্যা হলে সামাল দেওয়া যায়। নৌকাগুলিও কাছে আসতে শুরু করে। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি বদলে গেছে। শ্বেতার হাত ধরে থাকা অবস্থাতেই আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন রাহুল। কখনও ডুবছেন, কখনও ভেসে উঠছেন—এইরকম এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। বেশ কিছু জলও গিলে ফেলেন তিনি।
সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে টেনে তীরে আনা হয়। তখনও তাঁর জ্ঞান ছিল। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিচালক নিজে না গেলেও, তিনি জানান—গাড়িতেও নাকি রাহুলের সেন্স ছিল। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর পরই খবর আসে—সব শেষ।
প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস-এর কর্ণধার ও লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-ও (Leena Gangopadhyay) প্রায় একই বয়ান দিলেন। তাঁর কথায়, “দৃশ্যটা ছিল সমুদ্রের পাড়ে। গভীর জলে যাওয়ার কোনও শটই ছিল না। গল্পে দেখানো হচ্ছিল, রাহুল আর শ্বেতা মধুচন্দ্রিমায় এসেছে, আর রাহুলের চরিত্রটা একটু ভীতু ধরনের। মেয়েটি তাকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়—এইটুকুই।”
শুটিংয়ের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, প্রথম দিন তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং সেই নৌকাতেও উঠেছিলেন। তাঁর কথায়, পরের দিনও একইভাবে চারপাশে একাধিক নৌকা মোতায়েন ছিল। তাঁর মতে, সেই কারণেই ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় নুলিয়া ও অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরা পরে বিস্তারিতভাবে পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করতে পেরেছেন।
কিন্তু তদন্তে উঠে আসছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নাকি নেওয়া হয়নি। এমনকি কোনও পেশাদার লাইফগার্ড বা জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাও নাকি ছিল না। তালসারির জল শান্ত দেখালেও নিচে চোরাবালির মতো বিপজ্জনক স্তর রয়েছে—এমন সতর্কবার্তাও আগে থেকেই ছিল বলে জানা যাচ্ছে।
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬—শুটিং চলাকালীনই এই দুর্ঘটনা ঘটে। ৪৩ বছর বয়সী অভিনেতাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, পৌঁছনোর পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর থেকে গোটা টলিউড স্তব্ধ। কিন্তু শোকের পাশাপাশি বাড়ছে অসংখ্য প্রশ্ন। যদি শটটা অগভীর জলেরই হয়, তবে কেন তিনি গভীরে গেলেন? যদি এত লোক উপস্থিত থাকে, তবে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আগেই কেন থামানো গেল না? যদি নৌকা থাকে, তবে উদ্ধার এত কঠিন হল কেন?আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—যদি নিরাপত্তা থাকত, তবে কি এই মৃত্যু এড়ানো যেত? এই মুহূর্তে উত্তর কম, প্রশ্নই বেশি। আর সেই প্রশ্নগুলোই যেন ঢেউয়ের মতো ফিরে আসছে—বারবার, থামছে না।