করিশ্মা বনাম প্রিয়া! চার সন্তান নিয়ে কোটি টাকার সম্পত্তির লড়াই এখন আদালতে। সঞ্জয় কাপুরের রহস্যময় ‘উইল’ ঘিরে নতুন চমক।

সঞ্জয় কাপুরের সম্পত্তি
শেষ আপডেট: 11 September 2025 11:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে বলিউড তারকা করিশ্মা কাপুরের (Karisma Kapoor) দুই সন্তান, অন্যদিকে প্রয়াত শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরের (Sanjay Kapur) বর্তমান স্ত্রী প্রিয়ারও দুই সন্তান। চারটি সন্তান, দুই স্ত্রী আর অগাধ সম্পত্তি— এখন বড় প্রশ্ন, সঞ্জয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ভাগ হবে কীভাবে? এদিকে সঞ্জয়ের বিশাল সম্পত্তি নিয়ে আইনি লড়াই নতুন মোড় নিয়েছে। তার প্রথম স্ত্রী করিশ্মা কাপুরের দুই সন্তান দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছে, যেখানে তারা তাদের বাবার সম্পত্তিতে ভাগ চেয়েছে। এই মামলায় সঞ্জয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়া সচদেবের (Priya Sachdev) আচরণের ওপর গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
কেন মামলা?
সঞ্জয় কাপুরের বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে তার দুই সন্তান, সামাইরা এবং কিয়ান, সম্পত্তি ভাগ, আর্থিক হিসাব প্রকাশ এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর পর প্রিয়া সচদেব সম্পত্তির কোনও নথি বা তথ্য দিতে অস্বীকার করেন এবং গোপনে সম্পত্তি বিক্রি করার চেষ্টা করেন, যা তাদের স্বার্থের পরিপন্থী।
মামলায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, প্রিয়াকে অবশ্যই হলফনামা দিয়ে সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যুর সময় তার সম্পত্তির সঠিক হিসাব এবং তার পরে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হল, সঞ্জয় কাপুরের কথিত 'শেষ উইল'-এর রহস্যময় আবির্ভাব। এই উইলটি ২০২৫ সালের ২১ মার্চ তারিখের। সন্তানদের দাবি, প্রিয়া বারবার বলেছিলেন যে কোনো উইল নেই। কিন্তু বাবার মৃত্যুর সাত সপ্তাহেরও বেশি সময় পর একটি বৈঠকে উইলটি দেখানো হয়, যেখানে তাদের কোনও কপি দেওয়া হয়নি।
মামলায় বলা হয়েছে, এই 'উইল'-এর হঠাৎ প্রকাশ খুবই সন্দেহজনক। আরও সন্দেহজনক বিষয় হলো, প্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত দুজন ব্যক্তি এই নথিটি উপস্থাপন করেছেন।
সন্তানদের দাবি, তাদের বাবার মৃত্যুর পর জানানো হয়েছিল যে সঞ্জয় কাপুরের সমস্ত সম্পত্তি 'আরকে ফ্যামিলি ট্রাস্ট'-এর অধীনে রয়েছে। জুলাই মাসে ট্রাস্টের একটি বার্ষিক সাধারণ সভায় তাদের কিছু নথিপত্রে স্বাক্ষর করার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু পরে কোনো কারণ ছাড়াই তাদের বলা হয় যে উপস্থিত থাকার আর প্রয়োজন নেই।
সন্তানদের বা করিশ্মাকে পারিবারিক ট্রাস্টের বিস্তারিত দলিল বা সম্পত্তির সম্পূর্ণ বিবরণ কখনও দেওয়া হয়নি। এই স্বচ্ছতার অভাবই মামলার কেন্দ্রীয় বিষয়।
মামলায় প্রিয়া সচদেবের আচরণকে 'অত্যন্ত সন্দেহজনক' বলা হয়েছে। বারবার 'কোনো উইল নেই' এমন আশ্বাস দেওয়ার পরেও এত দিন পর একটি 'কথিত উইল'-এর আবির্ভাব প্রমাণ করে যে এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। সন্তানদের দাবি, তাদের বাবার ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর তাদের ন্যায্য অধিকার রয়েছে। আদালত এখন উইলটির বৈধতা, ট্রাস্টের অবস্থা এবং প্রিয়ার পদক্ষেপগুলো খতিয়ে দেখবে, যা এই মামলার ফলাফল নির্ধারণ করবে।