দিব্যা চিরকাল তাঁর এই গোপন ডায়েরি লুকিয়ে রেখেছিলেন সবার থেকে। উত্তমও ছিলেন দিব্যার গোপন অভিসারে।

গ্রাফিক্স দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 10 September 2025 20:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'মোর হৃদয়ের গোপন বিজন ঘরে
একেলা রয়েছ নীরব শয়ন-'পরে
প্রিয়তম হে, জাগো জাগো জাগো॥'
দিব্যা ভারতী নামটা আজও ভারতীয় ছবির দর্শকদের কাছে রোমাঞ্চকর। একদিকে যেমন তিনি ছিলেন বলিউডের সুন্দর মুখের নায়িকা, তেমনই খুব কম বয়সে তাঁর রহস্য মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল সারা ভারতকে। আজও সেসময়ের দর্শকরা ভুলতে পারেনি এমন হিট নায়িকাকে। খুব অল্প দিনেই বিপুল খ্যাতি পেয়েছিলেন দিব্যা।
তবে অনেকেরই অজানা বাংলার মহানায়ক উত্তমকুমারের ভক্ত ছিলেন দিব্যা ভারতী।

নয়ের দশকের প্রথম দিক জুড়ে ছিল দিব্যার সাম্রাজ্য। দিব্যার উত্থান দক্ষিণী ছবি থেকে। এরপর বলিউডে অভিষেক। শোলা অউর শবনম, দিওয়ানা, বিশ্বাত্মা, দিল হি তো দিল, দুশমন জমানা বেশ কিছু ছবি করেছিলেন তিনি। তবে 'দিওয়ানা' ছবির জন্যই বেশি সংখ্যক মানুষ মনে রেখেছে তাঁকে। ফিল্মফেয়ার বেস্ট ডেবিউ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিনি। দিব্যা অনেক ছবি শেষ করে যেতে পারেননি। যেগুলি পরে হিট করে। লাডলা, মোহরা, দিলওয়ালে, বিজয়পথ বেশ কিছু ছবি।
কিশোরীবেলা থেকেই দিব্যার শখ ছিল প্রিয় হিরোদের পেপার কাটিং সংগ্রহ করা। দিব্যার প্যাশন ছিল হ্যান্ডসাম নায়কদের ছবি সংগ্রহ করা। তারজন্য পেপার কাটিং থেকে নানা হিরোদের নানা কার্ড ডায়েরিতে আঠা দিয়ে লাগিয়ে রাখতেন দিব্যা।
দিব্যার প্রিয় হিরোদের তালিকায় ছিলেন যাঁরা ব্র্যান্ডো, বিং-ক্রসবাই, রাজেশ খান্না, অমিতাভ বচ্চন, জেমস ডিন-এর মতো তারকা অভিনেতারা। তবে সবথেকে চমকপ্রদ বিষয় হল, দিব্যা ভারতীর ডায়েরির পাতায় ছিল উত্তমকুমারের ছবি। দিব্যা বাঙালি নন, বাংলা ছবি সেভাবে দেখেননি কিন্তু উত্তমকুমারের মতো সুদর্শন নায়ক তাঁর প্রিয় ছিলেন।

উত্তম তো বম্বেতে 'ছোটি সি মুলাকাত', অমানুষ', 'আনন্দ আশ্রম'-এর মতো ছবি করেছেন। সেখান থেকে যতদূর উত্তমকুমারের ফ্যান হয়ে যান দিব্যা।
দিব্যা চিরকাল তাঁর এই গোপন ডায়েরি লুকিয়ে রেখেছিলেন সবার থেকে। উত্তমও ছিলেন দিব্যার গোপন অভিসারে। কখনও কারও সামনে তিনি আনতে চাননি এই গোপন ডায়েরি।
দিব্যা ভারতীর জীবন তো শান্তির ছিল না। একদিকে হঠাৎ সুপারস্টার হয়ে যাওয়ার চাপ, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন। আজও কিনারা হয়নি তাঁর মৃত্যুর। আত্মহত্যা না সবটাই পূর্বপরিকল্পিত!

বিদ্যা মারা যাবার পর তাঁর ঘর সার্চ করেছিল পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ। ঘর থেকেই হঠাৎ মেলে এই গোপন ডায়েরি। সবাই ভেবেছিল হয়তো থাকবে সুইসাইড নোট! কিন্তু না! পাওয়া গেল স্বপ্নমাখা চোখে এক কিশোরীর প্রথম প্রণয়ের স্পর্শ। একাধিক হিরোদের ছবি। সেখানেই ছিল উত্তমকুমারের ছবি। এই স্বর্গীয় প্রেমকে কে কী বলবেন! 'পাতা ঝরা বৃষ্টি বল কেন এনেছ'!