‘জাস্টিস ফর জুবিন’ স্লোগানে ফেটে পড়ল জনতা! পাঁচ অভিযুক্তকে নিয়ে পৌঁছলে পুলিশের সামনেই বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। গুলি ও টিয়ার গ্যাসে নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 15 October 2025 22:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুবিন গর্গের মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। অনেকেই মনে করছেন, এটি পরিকল্পিত অপরাধ অর্থাৎ খুন। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে এপর্যন্ত গায়ক-ঘনিষ্ঠ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের আজ জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই খবর আগে থেকেই ছিল অনুরাগীদের কাছে। কারাগারে ঢোকানোর পূর্বে বাকসায় বিরাট ঝামেলা হয়। অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য করে নানা কটু কথা বলেন বিক্ষোভকারীরা। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় পুলিশ ভ্যানে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ইভেন্ট অর্গানাইজার শ্যামকানু মহন্ত, গায়কের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, আত্মীয় ও সাসপেন্ড হওয়া এপিএস অফিসার সন্দীপন গর্গ এবং দু’জন পিএসও, যাদের মধ্যে একজন নন্দেশ্বর বোরা। বুধবারই মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
অভিযুক্তদের নিয়ে পুলিশ ভ্যান যখন বকসা জেলা কারাগারে পৌঁছয়, তখনই ভিড় জমায় শতাধিক বিক্ষোভকারী। তাঁরা ‘জুবিনের জন্য বিচার চাই’ স্লোগান দিতে দিতে পাথর ছুড়তে শুরু করেন কনভয়ের দিকে। কয়েকটি গাড়ি, তার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উত্তেজিত জনতা পরে একটি পুলিশ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আধিকারিকরা প্রথমে লাঠিচার্জ করেন, পরে শূন্যে গুলি চালানো হয় এবং ছোড়া হয় টিয়ার গ্যাসের সেল। তাতে ভিড় ছত্রভঙ্গ হলেও এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের জেরে কারাগার চত্বর ও আশপাশের এলাকায় এখন কড়া নজরদারি চলছে। এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল ডেটা পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সংশোধনাগারের আশপাশে জারি করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১৬৩ ধারা।
এছাড়া বর্তমানে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর বাহিনী। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশও নিযুক্ত হয়েছে যাতে আর কোনও নতুন ঝামেলা না হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সমুদ্রে স্নানের সময় আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন জুবিন গর্গ। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকেরা আর বাঁচাতে পারেননি। পরদিনই তাঁর সিঙ্গাপুরের নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করার কথা ছিল।
প্রথমে তাঁর মৃত্যু ‘অ্যাকসিডেন্ট’ বলেই ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে স্ত্রী গরিমা ও বহু অনুরাগী দাবি করেন, এর পিছনে কোনও না কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অসম সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। ইতিমধ্যে ওই টিম পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার বকসার ঘটনাকে 'অত্যন্ত দুঃখজনক' বলে মন্তব্য করেন। দাবি করেন, 'কিছু রাজনৈতিক দল জুবিনের মৃত্যুকে ঘিরে রাজ্যে অশান্তি ছড়াতে চাইছে।' মুখ্যমন্ত্রী শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান এবং সতর্ক করে দেন, যাঁরা হিংসা উসকে দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।