কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ শুক্রবার বলেন, "উত্তর পূর্ব ভারতের সবথেকে নামী কণ্ঠশিল্পী ছিলেন জুবিন গর্গ। উনি আমাদের অহঙ্কার। ওঁর অকাল প্রয়ানে আমরা শোকস্তব্ধ।"

শেষ আপডেট: 10 October 2025 18:31
জুবিন গর্গের মূর্তি বসানো নিয়ে জোর বিতর্ক কোচবিহারে। সম্প্রতি প্রয়াত উত্তর-পূর্ব ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গর্গের নামে কোচবিহার রাসমেলার সাংস্কৃতিক মঞ্চের নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোচবিহার পুরসভা। জানা গেছে, এ বছর থেকেই রাসমেলার মঞ্চের নাম হবে “জুবিন গর্গ মঞ্চ”। কারণ, অতীতে দু’বার রাসমেলায় গান পরিবেশন করেছিলেন এই খ্যাতনামা শিল্পী। একই সঙ্গে শহরে তাঁর একটি মূর্তিও বসানো হবে।
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ শুক্রবার বলেন, "উত্তর পূর্ব ভারতের সবথেকে নামী কণ্ঠশিল্পী ছিলেন জুবিন গর্গ। উনি আমাদের অহঙ্কার। ওঁর অকাল প্রয়ানে আমরা শোকস্তব্ধ। দু-দু'বার জুবিন আমাদের রাসমেলায় গান গেয়ে গেছেন। ওঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আমরা এবার রাসমেলায় সাংস্কৃতিক মঞ্চের নামকরণ ওঁর নামে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওর একটা মূর্তিও বসানো হবে। তবে কোথায়, তা এখনও স্থির হয়নি।"
কোচবিহার শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাজা-মহারাজা ও মনীষীদের একাধিক মূর্তি স্থাপন রয়েছে। শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যই এই কাজগুলি করেছে পুরসভা। তবে এবার নতুন এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, রাসমেলার মঞ্চ জুবিন গর্গের নামে অবশ্যই হওয়া উচিত, কারণ তিনি এখানে গান গেয়েছেন। কিন্তু কোচবিহারে তাঁর মূর্তি বসানো কতটা যুক্তিযুক্ত? কোচবিহারেরই বহু গুণী শিল্পী, মনীষী এবং সমাজসেবীর মূর্তি আজও বসানো হয়নি। তাঁদের উপেক্ষা করে জুবিন গর্গের মূর্তি স্থাপন করা হলে তা যুক্তিসঙ্গত হবে না।
পুরসভার কয়েকজন কাউন্সিলরও দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্ত বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা না করে পুর চেয়ারম্যান এককভাবে নিয়েছেন। তাঁদের কথায়, “এ বিষয়ে আমাদের কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। আমাদের অন্ধকারে রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুর চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।”
এদিন রবীন্দ্রনাথবাবু জানান, প্রায় দু’লক্ষ টাকা ব্যয়ে জুবিন গর্গের মূর্তি তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যেই নবদ্বীপের এক শিল্পীকে সেই কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও ঠিক হয়নি শহরের কোন জায়গায় মূর্তিটি বসানো হবে। কাউন্সিলরদের একাংশের প্রশ্ন, পুরসভার কোষাগার থেকে দু’লক্ষ টাকা খরচ করে বাইরের এক শিল্পীর মূর্তি বসানো কতটা প্রয়োজনীয়, যখন কোচবিহারেরই খ্যাতনামা শিল্পী আব্বাসউদ্দিন আহমেদ, নায়েব আলী টিপু প্রমুখের মূর্তি আজও বসানো হয়নি?
সিঙ্গাপুরে নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়েছিলেন জুবিন। সেখনেই গত ২০ সেপ্টেম্বর সাঁতার কাটার সময়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পীর। বিদেশের মাটিতে অসমের ভূমিপুত্রের আকস্মিক প্রয়াণে অনেকেই ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়েছেন! মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নির্দেশে তাঁর মৃত্যুর তদন্তের জন্য ‘সিট’ও গঠন করেছে অসম সরকার।