সন্দীপন অসম পুলিশ সার্ভিসের সুপারিন্টেন্ডেন্ট (ইন-চার্জ) পদে কর্মরত। জুবিনের মৃত্যুতদন্তে গঠিত অসম সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল তাঁকে গ্রেফতার করে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 October 2025 08:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুবিন গর্গের (Zubeen Garg) মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য আরও জটিল হয়েছে কারণ তাঁর খুড়তুতো ভাইকে (Cousin Brother) গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্দীপন গর্গ জুবিনের সঙ্গে সিঙ্গাপুর সফরে (Singapore Tour) গিয়েছিলেন। আর এই গ্রেফতারি নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রয়াত গায়কের স্ত্রী গরিমা (Garima Garg)। বলেছেন, 'জুবিন ওকে খুবই ভালবাসত।'
সন্দীপন অসম পুলিশ সার্ভিসের সুপারিন্টেন্ডেন্ট (ইন-চার্জ) পদে কর্মরত। জুবিনের মৃত্যুতদন্তে গঠিত অসম সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী (Assam Police SIT) দল তাঁকে গ্রেফতার করে। এই নিয়ে জুবিন গর্গের মৃত্যু তদন্তে মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রথম থেকেই এই ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন জুবিন-পত্নী। সন্দীপন গ্রেফতার হওয়ায় তিনি অবশ্য কিছুটা ভেঙে পড়েছেন।
গরিমা জানিয়েছেন, জুবিন ও সন্দীপনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। জুবিন ওকে নিয়ে ভীষণ গর্ব বোধ করত। তাঁর কথায়, 'সন্দীপন সদ্য পুলিশ সার্ভিসে যোগ দিয়েছিল। তার আগে ও মডেলিং ও অভিনয় করত। জুবিন সবসময় নতুন প্রতিভাকে উৎসাহ দিত, তাই নিজের ভাইকে নিয়েও গর্ব করত।'
তিনি আরও বলেন, “জুবিন বলত, সন্দীপন আমাদের পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা, সবচেয়ে সুন্দর দেখতে। ওকে নিয়ে ও খুব খুশি ছিল।''
এর আগে জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, বাদ্যযন্ত্র শিল্পী শেখরজ্যোতি গোস্বামী, গায়ক অমিতপ্রভ মহন্ত এবং উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবের উদ্যোক্তা শ্যামকানু মহন্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁরা এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
সন্দীপন বর্তমানে কামরূপ জেলার ডেপুটি পুলিশ সুপার হিসেবে বহাল রয়েছেন। কামরূপের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত সন্দীপনকে পুলিশের দাবিমতো ১৪ দিনের হেফাজতে রাখার অনুমতি দিয়েছে।
জুবিনের মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যে বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে। তাঁর ব্যান্ডের সদস্য (Bandmate) শেখর জ্যোতি গোস্বামী বিরাট অভিযোগ করেছেন। দাবি, শিল্পীর ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা ও সিঙ্গাপুরের অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা শ্যামকানু মহান্তই জুবিনকে ‘বিষ’ (Poison) দিয়ে হত্যা করেছেন এবং দুর্ঘটনা বলে সাজিয়ে গোটা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
গোস্বামীর বক্তব্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের (Singapore) প্যান প্যাসিফিক হোটেলে শর্মার আচরণ ছিল সন্দেহজনক। ঘটনার দিন ইয়টে (Yacht) বেড়াতে গিয়ে শর্মা জোর করে বোটের নিয়ন্ত্রণ নেন, ফলে মাঝসমুদ্রে সেটি বিপজ্জনকভাবে দুলতে থাকে। শুধু তাই নয়, তিনি নাকি সিঙ্গাপুরে থাকা অসম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য তন্ময় ফুকনকে জানান - পানীয়ের ব্যবস্থা তিনি নিজেই করবেন, অন্য কাউকে কিছু আনতে হবে না।
তাঁর এও দাবি, জুবিন একজন দক্ষ সাঁতারু ছিলেন, এমনকী তিনিই তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। ফলে তাঁর ডুবে মারা যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।