রূপান্তরকামী অধিকার সুরক্ষা বিল পাস হতেই সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া। মোদি সরকারকে আক্রমণ করে জয়া বচ্চনের বক্তব্য, রূপান্তরকামীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান।

জয়া বচ্চন
শেষ আপডেট: 27 March 2026 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদের দুই কক্ষেই পাস হয়ে গেল রূপান্তরকামী অধিকার সুরক্ষা বিল, আর তার পরই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। মঙ্গলবার প্রায় বিরোধীশূন্য লোকসভায় বিলটি (Transgender Protection Bill) গৃহীত হয়। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে-সহ একাধিক বিরোধী দল আপত্তি জানালেও বুধবার রাজ্যসভাতেও বিলটি অনুমোদন পায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বিতর্কিত আইন আগামী দিনে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। বিলটি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চন (Jaya Bachchan)।
লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়া বচ্চন রূপান্তরকামীদের মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, যাঁদের অধিকার রক্ষার নামে আইন তৈরি করা হচ্ছে, তাঁদের প্রতি এই বিলের ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট সংবেদনশীল নয়। তিনি বলেন, সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের দীর্ঘদিন ধরে শুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ভগবান রামের আশীর্বাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী শুভ কাজে তাঁদের উপস্থিতি কার্যসিদ্ধির প্রতীক, আর সেই কারণেই এখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের ডাকা হয় এবং আশীর্বাদ নেওয়া হয়। তাই তাঁদের প্রতি অসম্মান দেখানো উচিত নয় বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
জয়া আরও বলেন, ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে যেখানে রাজা-মহারাজাদের আমলে নারীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রূপান্তরকামীদের উপরই দেওয়া হত, কারণ তাঁদের নিরাপদ বলে মনে করা হতো। সেই প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের সমস্যাগুলি সরাসরি সংসদে তুলে ধরার জন্য তাঁদের একজন প্রতিনিধিকে মনোনীত করার প্রস্তাবও দেন।
বিরোধীদের এই আক্রমণের জবাবে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়নমন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার জানান, বিলটির উদ্দেশ্য সমাজের প্রান্তিক অংশকে মূলস্রোতে নিয়ে আসা। তাঁর কথায়, জৈবিক কারণে যারা বৈষম্যের শিকার হন, তাঁদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই আইনের লক্ষ্য।
বিলের কোন কোন দিক নিয়ে আপত্তি?
রূপান্তরকামী অধিকার সুরক্ষা বিলের কয়েকটি সংশোধনীই বিতর্কের মূল কারণ হয়ে উঠেছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ‘হিজড়ে’ বা ‘কিন্নর’দের লিঙ্গ নির্ধারণের দায়িত্ব একটি মেডিক্যাল বোর্ডের উপর দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে স্ব-ঘোষণার ভিত্তিতে পরিচয় স্বীকৃতি দেওয়া যেত, সেখানে এই পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি উঠেছে।
এছাড়াও সংশোধিত বিলে ক্যুইয়ার, ট্রান্স-ম্যান ও ট্রান্স-উইম্যানদের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে জোর করে রূপান্তর বা শোষণের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির বিধান রাখা হলেও, আইনের অপব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।