সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ননসেন’ নামে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর শমীক অধিকারী অবশেষে জামিন পেলেন। বান্ধবীর করা শারীরিক নির্যাতন ও জোর করে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হওয়ার পর কয়েকদিন জুডিশিয়াল কাস্টডিতে ছিলেন তিনি।

শেষ আপডেট: 12 March 2026 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ননসেন’ নামে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর শমীক অধিকারী অবশেষে জামিন পেলেন। বান্ধবীর করা শারীরিক নির্যাতন ও জোর করে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হওয়ার পর কয়েকদিন জুডিশিয়াল কাস্টডিতে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালত তাঁকে জামিন মঞ্জুর করেছে। (nonsane, Social Media Viral, shamik adhikary)
ঘটনাটি ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় সোশ্যাল মিডিয়া এবং কলকাতার ডিজিটাল কনটেন্ট মহলে। অভিযোগকারিণী, এক ২২ বছরের তরুণী, দাবি করেন যে ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে তিনি শমীকের বেহালার ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানে তাঁকে প্রায় ২০ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়, মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পাশাপাশি জোর করে যৌন সম্পর্কের অভিযোগও তোলেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ শমীক অধিকারীকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই মামলায় একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি পরে যুক্ত হয় ধর্ষণের অভিযোগও, ফলে মামলার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
তবে প্রথম থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন শমীক। তাঁর দাবি, গোটা ঘটনাটিই একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। পরিবারও একই কথা বলেছে। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগের বয়ান ও ঘটনার বিবরণে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে এবং সত্যিটা তদন্তেই সামনে আসবে।
শমীক অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ননসেন’ নামে পরিচিত। রিল ভিডিও, লাইফস্টাইল কনটেন্ট ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর ভিডিও তরুণদের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল। কয়েক লক্ষ অনুসারী নিয়ে তিনি কলকাতার ডিজিটাল কনটেন্ট জগতে একটি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সেই অনলাইন জনপ্রিয়তার আড়াল ভেঙেই হঠাৎ সামনে আসে এই গুরুতর অভিযোগ।
আইনগত লড়াই এখনও শেষ হয়নি। জামিন পেলেও মামলার তদন্ত চলবে এবং আদালতেই নির্ধারিত হবে অভিযোগের সত্যতা। আপাতত জেল থেকে মুক্তি পেলেও শমীক অধিকারীর ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে এই মামলার পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের উপর।