পাঁচ দিনের মাথায় এক পরিচিত নাম ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এখন ভয়ংকর বাস্তব। সোশ্যাল মিডিয়ার রিল, ক্যামেরার হাসি আর অনলাইন জনপ্রিয়তার আড়াল ভেঙে সামনে এসেছে গুরুতর অভিযোগের ছায়া।

শেষ আপডেট: 9 February 2026 16:43
পাঁচ দিনের মাথায় এক পরিচিত নাম ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এখন ভয়ংকর বাস্তব। সোশ্যাল মিডিয়ার রিল, ক্যামেরার হাসি আর অনলাইন জনপ্রিয়তার আড়াল ভেঙে সামনে এসেছে গুরুতর অভিযোগের ছায়া। যৌন হেনস্থার মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী (Shamik Adhikary, nonsane, sexual harrasement)। যাঁর কনটেন্টে এতদিন হালকা মেজাজ, বন্ধুত্ব আর খোলা কথার ছবি দেখা যেত, সেই মানুষটির নামই এখন পুলিশের নথিতে।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২২ বছরের এক তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলা দায়ের। অভিযোগকারীর বয়ানে উঠে এসেছে এক রাতের আতঙ্ক। সোমবার বিকেলে পরিচিত হিসেবে শমীকের ফ্ল্যাটে যান তিনি। শুরুতে কথাবার্তা ছিল স্বাভাবিকই। কিন্তু রাত গড়িয়ে ন’টা ছুঁতেই বদলে যায় পরিস্থিতি। অভিযোগ, বেরোতে চাইলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। কেন তিনি অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছেন, সেই প্রশ্ন তুলে কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর মোবাইল। কথাকাটাকাটি দ্রুত রূপ নেয় মারধরে। তাঁকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়, দেওয়া হয় খুনের হুমকি। অভিযোগ এখানেই থামে না—বলপূর্বক যৌন হেনস্থার কথাও উঠে এসেছে তাঁর বয়ানে।
আইনি দিক থেকেও পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়েছে। শমীকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৭(২), ১১৫(২), ৭, ৪ এবং ৩৫১(২) ধারায় মামলা ছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ৬৪ ধারা—ধর্ষণের অভিযোগ। ফলে মামলার গুরুত্ব এবং প্রভাব দু’টিই একধাক্কায় অনেকখানি বেড়ে গিয়েছে।
এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই এক অদ্ভুত কাকতালীয়তা চোখে পড়েছে। যেদিন শমীককে গ্রেফতার করা হয়, ঠিক সেই দিনই, ৪ ফেব্রুয়ারি, ‘দ্য ওয়াল’-এ প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর একটি সাক্ষাৎকার। সেই সাক্ষাৎকারের শেষ ভাগে প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি কি সিঙ্গল? উত্তরে হাসিমুখেই শমীক বলেছিলেন, তিনি সিঙ্গল। আরও বলেছিলেন, তিনি ‘লুকিং ফর পার্টনার’। তাঁর কথায় ছিল শূন্যতার সুর—অনেক দিন সিঙ্গল রয়েছেন, আর ভাল লাগছে না, প্রেম করতে ইচ্ছে করছে।
কেমন সঙ্গী চান তিনি? সেই প্রশ্নে শমীক বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ‘অ্যাকসিডেন্টাল ভালবাসা’-য়। তাঁর মতে, প্রেম কোনও পরিকল্পিত ঘটনা নয়। কে কখন কার প্রেমে পড়বে, তা আগে থেকে বোঝা যায় না। হয়তো ছ’সাত মাস কারও সঙ্গে সময় কাটানোর পর হঠাৎ টের পাওয়া যায়, ভালবাসা এসে গিয়েছে। তখন আসে পজেসিভনেস, ইনসিকিওরিটি, সময় লাগে নিজেকে বুঝতে। তিনি স্পষ্টই বলেছিলেন, ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’-এ বিশ্বাস করেন না। প্রথম দেখায় আকর্ষণ হতে পারে, কিন্তু মানুষকে চিনে ভালবাসা একেবারেই অন্য ব্যাপার। সেই সাক্ষাৎকারেই তিনি ভবিষ্যতের কথাও বলেছিলেন। ২০২৬-এর জন্য তাঁর একটাই প্রার্থনা—জীবনে যেন একজন পার্টনার আসে।