এই ঘটনায় শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে আগেই ন্যায় সংহিতার ১২৭(২), ১১৫(২), ৭, ৪ এবং ৩৫১(২) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে ৬৪ ধারা—ধর্ষণের অভিযোগ। ফলে মামলার গুরুত্ব এবং অভিঘাত দুইই বহুগুণে বেড়েছে।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 8 February 2026 16:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী। অনলাইনের রিল থেকে বাস্তবের কঠিন অন্ধকারে নামা যে এতটাই দ্রুত হবে, তা বোধহয় কেউ ভাবেনি।
অভিযোগ ওঠার পরপরই শমীক আচমকাই উধাও হয়ে যান। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা-বাবাও। কয়েকদিন ধরে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর লুকিয়ে থাকা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দমদম এলাকা থেকে শমীককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখান থেকে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার দুপুরে বেহালা থানা থেকে অভিযুক্তকে হাজির করা হয় আলিপুর আদালতে। সেই সময়ই আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে শমীক বলেন, ‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’। (Shamik Adhikary , nonsane, sexual harrasement, assault)
সত্যি কি তাই, তবে কেন শমীকের বয়ানে উঠে আসছে ভিন্ন তথ্য? রবিবার দুপুরে অরিত্র দত্ত বনিক সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে নেন শমীকের বয়ানের একটি অংশ। যেখানে লেখা, শমীক অভিযোগকারিণীর কিছু অস্বস্তিকর ও আপত্তিজনক (কম্প্রোমাইজিং কন্ডিশনে)ছবি তুলে রেখেছিলেন, যা দেখিয়ে শমীক হুমকি দেন ও ব্ল্যাক মেল করেন। বয়ানের সেই অংশের ছবি শেয়ার করে এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিত্র লেখেন, ‘শমীক অধিকারীকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়ার আগে বিচারকের সামনে তার বিভিন্ন স্টেটমেন্ট উপস্থাপনা করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল যে প্রাথমিক প্রশ্নোত্তর পর্বে শমীক নিজে স্বীকার করেন যে তিনি তার বান্ধবীর "কম্প্রোমাইজিং কন্ডিশনে" বেশ কিছু গোপন ছবি তুলে রেখেছেন যা তিনি হুমকির সময়ে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এই স্টেটমেন্ট এর পর পুলিশ হেফাজত দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় বিচারকের কাছে নেই। তদন্তের পরবর্তী ধাপে তার এই স্টেটমেন্ট ডিজিটাল এভিডেন্সের সঙ্গে মিলিয়ে বিস্তারিত ভেরিফিকেশান করা হবে যে কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আদালতের রিমান্ড আবেদন থেকে সেই অংশটি তুলে ধরলাম। সম্পূর্ণ কাগজটি ক্লাসিফায়েড সিকুরিটির কারণে প্রকাশিতব্য নয়। ক্লিক করে পুরো ছবিটি দেখুন।’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২২ বছরের এক তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলা দায়ের হয়।নির্যাতিতার বয়ানে উঠে এসেছে সেই ভয়ঙ্কর রাতের ছবি। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল প্রায় সোয়া পাঁচটা নাগাদ বন্ধু শমীকের ফ্ল্যাটে যান তিনি। প্রথমে স্বাভাবিক কথাবার্তাই চলছিল। কিন্তু রাত ন’টা নাগাদ ফ্ল্যাট থেকে বেরোতে চাইলে পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, তখনই তাঁকে আটকে দেন শমীক। কেন তিনি অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছেন, এই প্রশ্ন তুলে তাঁর মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই কথাকাটাকাটি বদলে যায় মারধরে। তাঁকে জোর করে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়, দেওয়া হয় খুনের হুমকি। অভিযোগ এখানেই শেষ নয়—অনুমতি ছাড়াই তাঁর পোশাক খুলে দেওয়ার চেষ্টা করে বলপূর্বক যৌন হেনস্তা করা হয়।
সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো দাবি, এই সমস্ত ঘটনা ঘটেছে শমীকের অভিভাবকরা ফ্ল্যাটে উপস্থিত থাকাকালীনই। তরুণীর বক্তব্য, বারবার অনুরোধ, কাকুতি-মিনতি করেও কোনও লাভ হয়নি। সারারাত ধরে চলা অত্যাচারের ফলে মুখ, আঙুল-সহ শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়। সকালে উঠে চোখ পর্যন্ত ঠিক করে খুলতে পারছিলেন না তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ২৪ ঘণ্টা তাঁকে সেই ফ্ল্যাটেই আটকে রাখা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবু সমস্ত ভয় পেরিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি পুলিশের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এই ঘটনায় শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে আগেই ন্যায় সংহিতার ১২৭(২), ১১৫(২), ৭, ৪ এবং ৩৫১(২) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে ৬৪ ধারা—ধর্ষণের অভিযোগ। ফলে মামলার গুরুত্ব এবং অভিঘাত দুইই বহুগুণে বেড়েছে।
গ্রেপ্তারির পর থেকেই ঘটনাটি নতুন মোড় নেয় রাজনৈতিক বিতর্কে। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে নানা জল্পনা। সম্প্রতি ‘বাটন’ নামের একটি ভিডিওয় তিনি বাংলার বিরোধী শিবিরের হয়ে প্রচার করেছিলেন বলে দাবি করেন নেটপাড়ার একাংশ। সেখান থেকেই শাসক দলকে টেনে এনে কুৎসা শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই আবহেই প্রথম প্রকাশ্যে কথা বলেন অভিনেতা ও জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার অরিত্র দত্ত বণিক। ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় রাজনৈতিক সরলীকরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। তাঁর দাবি, অভিযোগকারী তরুণীর মেডিকেল রিপোর্ট পেশাগত কারণে দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর, যেখানে শরীরে আঘাতের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।