পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ ওঠার পর শমীক আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর সঙ্গে মা-বাবাও ছিলেন বলে জানা যায়। কয়েকদিন তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

শেষ আপডেট: 6 February 2026 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে হাজির করানো হলে আদালত অভিযুক্তকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ ওঠার পর শমীক আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর সঙ্গে মা-বাবাও ছিলেন বলে জানা যায়। কয়েকদিন তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দমদম এলাকা থেকে শমীককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার সকালে বেহালা থানা থেকে অলিপুর আদালতে হাজির করা হয়। আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে শমীক দাবি করেন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
২২ বছর বয়সি এক তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বেহালা থানায় এই মামলা রুজু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে সেখানে বন্দি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারিণীর আইনজীবী অভিষেক দে বিশ্বাস জানান, শমীক ওই তরুণীর পরিচিত বন্ধু। বাড়ি বদলের সময় সাহায্য করার অজুহাতে তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠানো হয়। অভিযোগ, এরপরই তরুণীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং সারা রাত ধরে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। কোনওভাবে পরিস্থিতি সামলে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর শমীক ফ্ল্যাট ছেড়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি। সেই সময় থেকেই তাঁর মা-বাবারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
ঘটনাটি নিয়ে আলোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শমীকের সাম্প্রতিক কার্যকলাপও। কয়েকদিন আগেই ‘বাটন’ নামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তাঁকে চাদরে মুখ ঢেকে পুলিশের গাড়িতে তুলতে দেখা যায়।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত শমীক অধিকারীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারিণীর গোপন জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
মামলাটি ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, ‘বাটন’ ভিডিওটি তৃণমূল কংগ্রেসকে লক্ষ্য করেই তৈরি হয়েছিল। শমীক গ্রেপ্তার হওয়ার পর তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। একটি পোস্টে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, অমিত মালব্য অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটরের পক্ষে সওয়াল করছেন এবং অভিযোগকারিণীর বক্তব্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলছেন।
কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগে স্পষ্ট বলা আছে যে ২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘটনাটি ঘটে, প্রায় ১২ ঘণ্টা তরুণীকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরে তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি এফআইআর নথিভুক্ত হয়।
অলিপুর আদালতে শুনানির সময় শমীকের আইনজীবীর বক্তব্যে আংশিক দায়স্বীকার বা দায়স্বীকারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে আদালত সূত্রে খবর। তবে এদিন আদালতে কোনও পক্ষই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা ফাঁসানোর তত্ত্ব তোলে না। দুই পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।