২২ বছর বয়সি এক তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বেহালা থানায় এই মামলা রুজু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে সেখানে বন্দি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 7 February 2026 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার পরিচিত মুখ, সোশ্যাল মিডিয়ায় যাকে হাজার হাজার মানুষ চেনেন ‘ননসেন’ নামে—সেই শমীক অধিকারীকে ঘিরে শহর জুরে শোরগোল। বেহালা থানায় দায়ের হওয়া এক তরুণীর অভিযোগ যেন এক রাতের মধ্যেই বদলে দিয়েছে ছবিটা। যৌন হেনস্থার অভিযোগে তাকে নেওয়া হয়েছে জেল হেফাজতে। শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে হাজির করানো হলে আদালত অভিযুক্তকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
২২ বছর বয়সি এক তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বেহালা থানায় এই মামলা রুজু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে সেখানে বন্দি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারিণীর আইনজীবী অভিষেক দে বিশ্বাস জানান, শমীক ওই তরুণীর পরিচিত বন্ধু। বাড়ি বদলের সময় সাহায্য করার অজুহাতে তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠানো হয়। অভিযোগ, এরপরই তরুণীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং সারা রাত ধরে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। কোনওভাবে পরিস্থিতি সামলে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর শমীক ফ্ল্যাট ছেড়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি। সেই সময় থেকেই তাঁর মা-বাবারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার রাতে শমীক অধিকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে অভিযোগকারিণী গোপন জবানবন্দি দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের সামনেও মুখ খোলেন তিনি।
গোটা ঘটনায় এবার মুখ খুলল শমীকের পরিবার। অভিযোগগুলিকে তাঁরা সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখছেন। তাঁদের দাবি, ওই তরুণী দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের পরিচিত। তিনি ছেলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, বাড়িতে আসা যাওয়া ছিল। এমনকি তাঁরা একসঙ্গে কলকাতার এক হোটেলে সময় কাটিয়ে ছিলেন বলে দাবি করা হয়, তাঁদের বিশ্বাস তার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই।
ঘটনার দিন প্রসঙ্গে পরিবারের বক্তব্য, সত্যিই সেদিন বাড়ি বদল হয়েছিল। মেয়েটি নিমন্ত্রণে এসেওছিল। আলাদা ঘরে কথা বলার সময় দু’জনের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। শমীকের বাবার দাবি অনুযায়ী, কোনও ভুল বোঝাবুঝি থেকেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। তিনি স্বীকার করেন, রাগের মাথায় তাঁর ছেলে একটি চড় মেরেছিল—যা ভুল। তবে গুরুতর মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগ তিনি মানতে নারাজ শমীকের পরিবার।
তাঁরা এও জানান, অভিযোগকারীকে শুশ্রূষা করা হয়, পরেরদিন বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়। ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিকই ছিল সব বলে জানান শমীকের মা-বাবা।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পরে তরুণীর এক বন্ধু ফোন করে হুমকি দেয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগের ভাষা বদলে যায়। সবশেষে শমীকের বাবা দাবি করেন, গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যা তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
যদিও সবটাই এখন তদন্তের ওপর নির্ভরশীল। সত্যি সামনে আসতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। আপাতত ১০ দিনের জেল হেফাজত, এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া দুই পক্ষে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একশ্রেণি ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে, কেউ কেউ আবার রাজনীতির প্রসঙ্গে টেনে ঘটনার উল্টো ছবি দেখছে, এখন কোনটা ঠিক, তার উত্তর সময় দেবে।