আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া শমীকের মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রমাণ মিলেছে। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁকে আরও ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে মার্চের আগে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই।

শেষ আপডেট: 16 February 2026 19:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমস্যা আরও বাড়ল 'ননসেন' (Nonsane) তথা শমীক অধিকারীর (Shamik adhikary)। বান্ধবীকে শারীরিক নির্যাতন এবং খুনের হুমকির অভিযোগে আগেই এই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার (social media influencer nonsane court order)-কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার সেই জেল হেফাজতের মেয়াদ (nonsane judicial custody tenure) বাড়ল আরও ১৪ দিন।
সোমবার মামলাটি আলিপুর আদালতে (Alipore court) উঠলে বিচারক তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ২ মার্চ আবার আদালতে পেশ করা হবে তাঁকে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া শমীকের মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রমাণ মিলেছে। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁকে আরও ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে মার্চের আগে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই।
এর আগে পুলিশি জেরায় তরুণীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলেই জানা গিয়েছিল। সেই ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের পাশাপাশি বলপ্রয়োগ, জোর করে আটকে রাখা এবং শারীরিক নির্যাতনের ধারাও যুক্ত করেছে বেহালা থানা। নতুন করে ফোন থেকে প্রমাণ মেলায় তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে।
অভিযোগ, সম্পর্কে অশান্তির জেরে শমীক তাঁর প্রেমিকাকে মারধর করে অজ্ঞান করে দেন। নির্যাতিতার দাবি, মারধরের ফলে তাঁর চোখ ফুলে যায় এবং শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্নও ছিল। এমনকি, ঘটনাস্থলে শমীকের মা-বাবা উপস্থিত থাকলেও তাঁরা হস্তক্ষেপ করেননি বলেও অভিযোগ করেন ওই তরুণী। তাঁর বক্তব্য, সাহায্যের জন্য অনুরোধ করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি, কারণ অভিযুক্ত আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছিল।
অন্যদিকে, শমীকের মা-বাবা জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টিকে প্রথমে ব্যক্তিগত বিবাদ বলে ভেবেছিলেন। পরে পরিস্থিতি জটিল হলে তাঁরা এগিয়ে যান এবং তাঁদের ছেলের চড় মারার ঘটনাও স্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, ধস্তাধস্তির সময়ই আঘাত লেগে থাকতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ ওঠার পর শমীক আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর সঙ্গে মা-বাবাও ছিলেন বলে জানা যায়। কয়েকদিন তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে ৫ তারিখ গভীর রাতে দমদম এলাকা থেকে শমীককে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার সকালে বেহালা থানা থেকে অলিপুর আদালতে হাজির করা হয়। আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে শমীক দাবি করেন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
২২ বছর বয়সি এক তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বেহালা থানায় এই মামলা রুজু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে সেখানে বন্দি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি নিয়ে আলোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শমীকের সাম্প্রতিক কার্যকলাপও। কয়েকদিন আগেই ‘বাটন’ নামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।