অভিনয়ে সার্টিফিকেট থাকার পরও কাজ পাচ্ছিলেন না আসরানি। প্রত্যাখ্যানের পর ইন্দিরা গান্ধীর সহায়তায় খুলে যায় বলিউডের দরজা। তাঁর হাত ধরেই শুরু হয় ‘গুড্ডি’ ছবির সাফল্যের গল্প।

গোবর্ধন আসরানি ও ইন্দিরা গান্ধী
শেষ আপডেট: 21 October 2025 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড সিনেমার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রখ্যাত অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী গোবর্ধন আসরানি গত ২০ অক্টোবর, ৮৪ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। মুম্বইয়ের জুহুতে অবস্থিত আরোগ্য নিধি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ৩৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন।
জীবনের শেষ পর্বে এসে অভিনেতা চেয়েছিলেন তাঁর বিদায় যেন হয় একেবারেই নিঃশব্দে এবং মর্যাদার সঙ্গে। তাঁর স্ত্রী মঞ্জু আসরানিকে বলে গিয়েছিলেন, তাঁর শেষ সময় যেন থাকে জনচক্ষুর আড়ালে।
যদিও আসরানির অভিনয় জীবন এত বর্ণময়, তবে তাঁর তারকাখ্যাতির পথটা কিন্তু সহজ ছিল না। ১৯৬৪ সালে পুণের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (FTII) থেকে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরেও মুম্বইয়ের স্টুডিও পাড়ায় তাঁকে বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হয়।
এক সাক্ষাৎকারে সেই কষ্টের দিনগুলির কথা স্মরণ করে আসরানি বলেছিলেন, "আমি সার্টিফিকেট হাতে ঘুরতাম আর ওঁরা তাড়িয়ে দিত। বলত, 'তুমি ভাবো অভিনয়ে সার্টিফিকেট লাগে? বড় বড় তারকারা তো কোথাও শেখেননি, আর তুমি বিশেষ কেউ? চলে যাও।'"
এই কঠিন সময়ের মধ্যেই তাঁর জীবনে আসে এক অপ্রত্যাশিত মোড়—তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী-র হস্তক্ষেপ। আসরানি স্মৃতিচারণ করেন, "একদিন ইন্দিরা গান্ধী পুণে এলেন। তখন তিনি I&B মন্ত্রী। আমরা তাঁকে বললাম, 'ম্যাডাম, সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও কেউ আমাদের কাজ দেয় না।' এরপর উনি মুম্বই গিয়ে প্রযোজকদের বললেন, 'এই ছেলেমেয়েদের কাজে রাখো।' তারপর থেকেই আমাদের কাজ আসা শুরু হয়।"
ইন্দিরা গান্ধীর এই হস্তক্ষেপের পরেই আসরানি এবং তাঁর সহপাঠী জয়া ভাদুড়ি-কে 'গুড্ডি' (Guddi, ১৯৭১) ছবিতে সুযোগ দেওয়া হয়। ছবিটি হিট হওয়ার পরই এফটিআইআই গ্র্যাজুয়েটদের কাজকে বলিউড গুরুত্ব দিতে শুরু করে।
'গুড্ডি' ছবি থেকেই শুরু হয় আসরানির সফল যাত্রা, যেখানে তিনি সহ-অভিনেতা এবং কৌতুকশিল্পী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। 'হেরা ফেরি' এবং 'ভাগম ভাগ'-এর মতো ছবিতে তাঁর অনবদ্য কমেডি টাইমিং তাঁকে পরবর্তী প্রজন্মেরও প্রিয় শিল্পী করে তোলে।