বলিউডের কিংবদন্তি আসরানি ৮৪ বছর বয়সে প্রয়াত হলেও, তাঁর স্মৃতি আজও জীবন্ত। শিক্ষক হিসেবে জয়া বচ্চনকে সুযোগ দিয়েছেন, আর অমিতাভ-জয়ার বিয়েতেও কনের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

গোবর্ধন আসরানি
শেষ আপডেট: 21 October 2025 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৮৪ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা গোবর্ধন আসরানি, যিনি 'শোলে' ছবিতে জেলারের আইকনিক চরিত্রে অভিনয় করে আজও অমর। তাঁর মৃত্যুতে সিনে জগতে শোকের ছায়া নেমে এলেও, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু স্মৃতি এখন চর্চায়। বিশেষ করে, অভিনেত্রী জয়া বচ্চনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল শিক্ষাগুরু ও বন্ধুর।
অভিনেতা আসরানি ছিলেন পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এফটিআইআই)-এর একজন প্রশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েট। একসময় কাজ খুঁজতে গিয়ে মুম্বইতে সমস্যায় পড়লে তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য এফটিআইআই-তে অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যান। সেখানেই তিনি স্ক্রিন অ্যাক্টিং কোর্সের ছাত্রী জয়া ভাদুড়িকে অভিনয় শেখাতেন।
এক সাক্ষাৎকারে আসরানি স্মরণ করেন, পরিচালক হৃষিকেশ মুখার্জি যখন 'গুড্ডি' ছবির কাস্টিং করছিলেন, তখন তিনি আসরানির কাছে জয়ার খোঁজ করেন। আসরানির নির্দেশে জয়াকে খুঁজে পেয়েছিলেন পরিচালক। 'গুড্ডি' ছবিটি হিট হওয়ার পর শিক্ষক আসরানি এবং তাঁর ছাত্রী জয়া, দু'জনেই বলিউডে পরিচিতি পান।
শিক্ষক ও ছাত্রীর এই বন্ধন ছিল মনে রাখার মতো। আসরানি জানিয়েছিলেন, জয়া এখনও তাঁকে দেখলেই 'স্যার' বলে সম্বোধন করেন। শুধু তাই নয়, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে জয়া ভাদুড়ির বিয়েতেও আসরানি এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তিনি ফিল্মফেয়ারকে বলেছিলেন, গুলজার, রমেশ বেহল এবং এক কাজিন-এর সঙ্গে তিনিও ছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের পক্ষ থেকে চারজন 'ভাই'-এর একজন। ব্যক্তিগত সেই অনুষ্ঠানে সঞ্জয় গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন।
অভিনয় জগতে তাঁর প্রথম দিকের কঠিন দিনগুলির কথাও স্মরণ করেন আসরানি। তিনি জানান, এফটিআইআই থেকে সার্টিফিকেট নিয়েও মুম্বইয়ে কাজ পাওয়া কঠিন ছিল। একসময় তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পুনেতে এলে, আসরানি ও তাঁর সহকর্মীরা কাজের অভাবের কথা তাঁকে জানান।
আসরানির স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ইন্দিরা গান্ধী মুম্বই এসে প্রযোজকদের এফটিআইআই গ্র্যাজুয়েটদের কাজ দেওয়ার জন্য বলেছিলেন। এর পরেই তাঁরা কাজ পেতে শুরু করেন। 'গুড্ডি' ছবিতে জয়া এবং আসরানি দুজনেই সুযোগ পান এবং ছবিটি সফল হওয়ার পর এফটিআইআই-এর গুরুত্ব বাড়ে।