এই ছবির বড় আকর্ষণ হল একেবারে নতুন মুখ্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাস্ট করা। নির্মাতাদের মতে, এই ছবির মাধ্যমেই ইন্ডাস্ট্রি পেতে চলেছে একঝাঁক নতুন প্রতিভা। নতুন কাস্ট এবং নতুন গল্প—দুটো মিলিয়েই ‘ব্ল্যাক কফি’কে ঘিরে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হচ্ছে।

শেষ আপডেট: 20 March 2026 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ফণিবাবু ভাইরাল’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় যাত্রা শুরু করেছিলেন অভিনেতা রাজু মজুমদার। প্রথম কাজেই নজর কাড়ার পর এবার তিনি তৈরি তাঁর দ্বিতীয় ফিচার ফিল্ম ‘ব্ল্যাক কফি’ নিয়ে। এটি একটি ক্রাইম থ্রিলার, যার প্রযোজক আদিত্য অশোক, আদিকা প্রোডাকশনস।
এই ছবির বড় আকর্ষণ হল একেবারে নতুন মুখ্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাস্ট করা। নির্মাতাদের মতে, এই ছবির মাধ্যমেই ইন্ডাস্ট্রি পেতে চলেছে একঝাঁক নতুন প্রতিভা। নতুন কাস্ট এবং নতুন গল্প—দুটো মিলিয়েই ‘ব্ল্যাক কফি’কে ঘিরে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হচ্ছে।
গল্পের পটভূমি কলকাতার উপকণ্ঠ। সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এক উপনগরীর জীবন, সম্পর্ক এবং রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এগোয় কাহিনি। ক্ষমতা দখল, প্রতিশোধ এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষ থেকে শুরু হয় খুনোখুনি। এই আবহেই উঠে আসে প্রলয় ঘোষ—এক সাধারণ পরিবারের ছেলে, যে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে শক্তিশালী জমি মাফিয়া।
তার ছেলে রন বাবার সাম্রাজ্যের অন্যতম সহযোগী। প্রভাব এবং ক্ষমতার কারণে তাদের অনেক শত্রু তৈরি হয়। বারবার তাদের শেষ করার চেষ্টা হলেও তারা প্রতিবারই বেঁচে যায় বুদ্ধি এবং শক্তির জোরে। প্রলয় ও রন ক্রমশ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এই সময়েই রনের জীবনে আসে প্রিয়া। তাকে ভালোবেসে রন অন্ধকার জগৎ ছেড়ে দেয়। দু’জনে পাহাড়ে গিয়ে বিয়ে করে এবং সাধারণ জীবন শুরু করে। তারা একটি কফি শপ খোলে, যার নাম দেয় ‘ব্ল্যাক কফি’।
কিন্তু গল্পে মোড় আসে হঠাৎই। শত্রুপক্ষ প্রলয়কে খুন করে। বাবার মৃত্যুর পর রনের মধ্যে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে। সে আবার ফিরে যায় পুরনো জীবনে, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। এর ফলে তার সঙ্গে প্রিয়ার সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়। এরপর কীভাবে রন একে একে প্রতিশোধ নেয়? সে কি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে? প্রিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক কি ঠিক হয়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই তুলে ধরবে ‘ব্ল্যাক কফি’।
পরিচালক রাজু মজুমদারের কথায়, এই ছবি শুধু ক্রাইম থ্রিলার নয়, বরং বাস্তব জীবনের কিছু কঠিন সত্য তুলে ধরার চেষ্টা। ‘ফণিবাবু ভাইরাল’-এর পর এই ছবি তাঁর কাছে আরও বড় এবং ব্যক্তিগত প্রজেক্ট। তিনি এই ছবিতে আরও তীব্র এবং বাস্তবধর্মী গল্প বলতে চেয়েছেন, যা দর্শককে একই সঙ্গে উত্তেজিত এবং চিন্তায় ফেলবে।
নতুন মুখদের মুখ্য চরিত্রে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি স্পষ্ট। তাঁর বিশ্বাস, নতুন প্রতিভাকে সুযোগ দেওয়াই ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ গড়ার পথ।
প্রযোজক আদিত্য অশোক এবং আদিকা প্রোডাকশনস-এর সঙ্গে মিলেই তিনি এই ছবির মাধ্যমে নতুন প্রতিভা তুলে ধরতে চাইছেন। সব মিলিয়ে ‘ব্ল্যাক কফি’ শুধু অপরাধের গল্প নয়—এটি মানুষ, সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত এবং তার ফলাফল নিয়ে তৈরি একটি ছবি। যেমন এক কাপ ব্ল্যাক কফি—তীব্র, সরাসরি এবং প্রভাব ফেলার মতো—তেমনই হতে চলেছে এই ছবির অভিজ্ঞতা।