নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে। ঠিক সেই সময়েই মুক্তির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নতুন ছবি ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’।

কাঞ্চন মল্লিক
শেষ আপডেট: 22 January 2026 14:02
নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে। ঠিক সেই সময়েই মুক্তির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নতুন ছবি ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’। রাজনৈতিক ময়দান আর ছবির প্রচার—দু’দিক সামলাতে সামলাতে ‘দ্য ওয়াল’-এর মুখোমুখি হয়ে এমন কিছু কথা বললেন কাঞ্চন মল্লিক, যা নিছক তারকার বক্তব্য নয়, বরং, বরং সময়ের অসুখকে তুলে ধরা এক নগ্ন স্বীকারোক্তি।। সম্পর্ক, ট্রোলিং, ইন্ডাস্ট্রি থেকে রাজনীতির যাত্রা—সবকিছু মিলিয়ে তিনি যেন খুলে দিলেন ইন্ডাস্ট্রির অস্বস্তিকর সমীকরণ। (kanchan Mallick, actor kanchan Mallick, MLA Uttarpara kanchan Mallick)
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা ছবির জগতে কাঞ্চন মল্লিক। কখনও কমেডি, কখনও চরিত্রাভিনয়—সমানতালে কাজ করে গিয়েছেন বছরের পর বছর। তাই তাঁকে নিয়ে অনেকের ধারণা, তিনি ‘সব ঘটে কাঁঠালি কলা’। ইন্ডাস্ট্রির উত্থান-পতন, সাফল্য-ব্যর্থতা, প্রশংসা-বিদ্রুপ—সবকিছুর মধ্য দিয়েই হেঁটে এসেছেন তিনি। ট্রোলিং নতুন কিছু নয় তাঁর জীবনে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ট্রোলিংয়ের ভাষা ও মানসিকতা যে ভয়ংকরভাবে বদলে গেছে, সে কথাই স্পষ্ট করে বললেন অভিনেতা।
গত বছরই ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ ছবির চিত্রনাট্যকার জিনিয়া সেন, যিনি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রীও—সোশ্যাল মিডিয়ায় অকথ্য গালাগালের শিকার হন। অভিযোগ ওঠে মেগাস্টার দেবের একাংশ ফ্যান ক্লাবের দিকেও। বিষয়টি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, জিনিয়া ও শিবপ্রসাদ লালবাজারের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেন। তাতেও থামেনি কটাক্ষ, থামেনি বিষবাষ্প। সেই প্রেক্ষাপটেই কাঞ্চনের সামনে প্রশ্ন আসে—যে অভিনেতার ফ্যানদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, সেই দেবের সঙ্গেই যখন তিনি ‘প্রজাপতি ২’-এ কাজ করেন বা দেবের ভক্তদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তোলেন, তখন কি খারাপ লাগে না?
কাঞ্চনের জবাব এক কথায় সোজাসাপ্টা—“দু’হাজার বার লাগে।” কিন্তু সেই কষ্টের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি যে ঘটনা তুলে ধরলেন, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। তাঁর মেয়ের বয়স এখন চোদ্দ মাস। সে যখন মাত্র দশ-এগারো মাসের, তখনই সমাজমাধ্যমে কেউ মন্তব্য করে—“তোর মেয়ের রেট কত?” কাঞ্চন বলেন, তিনি সেই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর মতে, আমরা এমন এক সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে বিকৃত মানসিকতা, আক্রমণাত্মক নোংরামো এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, তা ভয় ধরিয়ে দেয়। তাঁর আশঙ্কা, এই ধরনের মন্তব্য যারা করতে পারে, তাদের মনস্তত্ত্ব এমন পর্যায়ের যে তারা সমাজে খুন পর্যন্ত করতে পারে।
তাঁর ক্ষোভ স্পষ্ট—‘এগুলো শুধু ট্রোলিং নয়, এগুলো নক্কারজনক অন্যায়। পোস্টার ছেঁড়াছেঁড়ি, তর্ক-বিতর্ক তো কালে কালে থাকবেই। কিন্তু এই অশ্লীলতা, এই আক্রমণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করি। কারা এগুলো করে, বা কারা করায়—তা জানি না। তবে এটুকু বিশ্বাস করি, শেষ পর্যন্ত সিনেমা থাকবে, কনটেন্ট থাকবে।’ তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “আমি যদি ২০০ কোটি লিখি, তাতেও কিছু হবে না। আবার ২০ টাকা লিখলেও হবে না (বক্স অফিস কালেকশন)। যারা কনটেন্ট দেখতে সিনেমায় যাবে, তারা যাবেই। ভাল জিনিস থাকলে দর্শক আসবেই।”