Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

দেশু’তে অনির্বাণকেই রাখছেন দেব! শুভশ্রী বললেন, ‘ও আমাদের গর্ব’

এ বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি হঠাৎ করেই যেন আবহাওয়ার বদল। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে আলোচনার একেবারে কেন্দ্রে ফিরে এলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। গত ১৫ জানুয়ারির পর থেকে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে একটাই নাম ঘুরেফিরে শোনা যাচ্ছে—অনির্বাণ।

দেশু’তে অনির্বাণকেই রাখছেন দেব! শুভশ্রী বললেন, ‘ও আমাদের গর্ব’

অরণ্যা দত্ত

শেষ আপডেট: 21 January 2026 18:12

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি হঠাৎ করেই যেন আবহাওয়ার বদল। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে আলোচনার একেবারে কেন্দ্রে ফিরে এলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban bhattacharya)। গত ১৫ জানুয়ারির পর থেকে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে একটাই নাম ঘুরেফিরে শোনা যাচ্ছে—অনির্বাণ।


কিছুদিন আগেও তিনি ছিলেন প্রায় আড়ালে। অভিনয়জগৎ থেকে খানিক দূরে সরে গিয়ে মন দিয়েছিলেন নিজের ব্যান্ড ‘হুলিগানিজম’-এ। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি পডকাস্টে মুখ খুলতেই বদলে যায় ছবিটা। নিজের পেশাজীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই গায়ক-অভিনেতা। জানান, কীভাবে তাঁকে কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে, কীভাবে ফেডারেশনের রোষে পড়ে তাঁর কেরিয়ারে নেমে এসেছে ‘আজীবন অসহযোগিতা’র অলিখিত নিষেধাজ্ঞা। এতদিন সব সহ্য করলেও এবার যেন সবটাই প্রকাশ্যে আনতে চাইলেন তিনি।


আর ঠিক এই আবহেই টলিপাড়ার অলিগলি জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল এক বিস্ফোরক খবর। শোনা যাচ্ছে, সুপারস্টার দেব তাঁর আসন্ন পুজোর ছবিতে অনির্বাণকে ফিরিয়ে আনতে পারেন। ছবির নাম এখনও ঠিক না হলেও দেব-শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় জুটি—ভক্তদের আদরের ‘দেশু’—ফিরছে, এ কথা মোটামুটি নিশ্চিত। আর সেই ছবিতেই নাকি প্রধান খলনায়কের চরিত্রে দেখা যেতে পারে অনির্বাণকে।



শুনতে যতটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, বাস্তবে বিষয়টা মোটেও তত সহজ নয়। কারণ অনির্বাণের ওপর এখনও কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন সংগঠন। এমন পরিস্থিতিতে দেব যদি সত্যিই তাঁকে ছবিতে নেন, তাহলে তা হবে ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেওয়া। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর বলছে, শেষ মুহূর্তে নাটকীয় বদল না হলে দেব নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে অনির্বাণের নাম ঘোষণা করতে পারেন। আর সেখান থেকেই শুরু হতে পারে টলিউডের ক্ষমতার রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়—এমনটাই মনে করছে অনেকেই।


এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত অবশ্য নতুন নয়। ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (FCTWEI)-এর বিরুদ্ধে বহু আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনির্বাণ। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগও তোলেন তিনি। প্রথম দিকে অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়ালেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সমর্থনের তালিকা ছোট হয়ে এসেছে। বেশিরভাগ শিল্পীই শেষ পর্যন্ত ‘ভুল স্বীকার’ করে ফেডারেশনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে কাজে ফিরেছেন। কিন্তু অনির্বাণ ছিলেন ব্যতিক্রম। কোনও ক্ষমা চাওয়া বা আপসে তিনি রাজি হননি—নিজের অবস্থানে থেকেছেন অনড়।


তাঁর মতোই এখনও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন পরিচালক ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী, সুদেষ্ণা রায় এবং সুব্রত সেন। অন্যদিকে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, রাহুল মুখোপাধ্যায়, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়—এক এক করে অনেকেই সমঝোতার পথে হেঁটেছেন। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ মিটিয়ে তাঁরা কাজে ফিরেছেন। সেই তালিকায় সর্বশেষ নাম পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। আর একেবারে শুরুতেই সেই পথে হাঁটেন সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও অরিন্দম শীল। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে দেবের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তাঁর তরফে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি সে সময়ে। অন্যদিকে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস সংক্ষিপ্তভাবে শুধু বলেন, “সময়ই সব প্রশ্নের জবাব দেবে।”


এই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই ১৯ জানুয়ারি দেব-শুভশ্রীর (Dev, Subhashree ganguly, Desu7, Desu)লাইভ সেশন যেন আগুনে আরও ঘি ঢেলে দেয়। ভক্তদের সামনে সরাসরি প্রশ্ন ওঠে—“আমাদের ছবিতে কি অনির্বাণ থাকছেন?” শুভশ্রীর এমন সোজাসাপটা প্রশ্নে দেব প্রথমে একটু অস্বস্তিতে পড়লেও হেসে জবাব দেন, “অনির্বাণ…”। এরপরই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, অনির্বাণকে কেন কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না? দেবের উত্তর ছিল তাৎপর্যপূর্ণ—“এতটাও নিষ্পাপ নয় তুমি!”


তিনি আরও বলেন, অনির্বাণকে নিয়ে আসলে কী সমস্যা, প্রথমে তা তাঁর জানা ছিল না। পরে বুঝতে পারেন ফেডারেশনের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছে। দেব স্পষ্ট বলেন, তিনি চান ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই সুস্থভাবে কাজ করুক। তাঁর কথায়, “ইন্ডাস্ট্রিতে হিরো নেই, আমি, জিৎদা, বুম্বাদা বাদ দিলে। অঙ্কুশ, আবির, পরমব্রত—সবাই চেষ্টা করছে ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচিয়ে রাখতে। সেখানে একজন হিরোর কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে— প্রায় ১০০ দিনের কাজ বন্ধ যাচ্ছে, এটা মানা যায় না।”


দেব এও জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা পর্যন্ত চেয়েছেন। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর কাছে সম্মানটাই সব। সম্মান চলে গেলে সে কার্যত নিঃস্ব হয়ে যায়। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি দেশু সেভেনের জন্য কাল অবধি চাইছিলাম না, আজ চাইছি অনির্বাণ এই ছবিতে কাজ করুক।” রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে দেব আরও বলেন, রাজনীতিতে দল বদলালেও কেউ প্রকাশ্যে ক্ষমা চায় না—এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়।


শুভশ্রীও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কাউকে ছোট করে বড় হয়ে যাওয়া যায় না।” দেব যোগ করেন, দশ মাস ধরে একজন শিল্পীকে ব্যান করে রাখা হয়েছে, তাঁরও তো সংসার আছে। কেউ বাধ্য হয়ে ব্লগার হয়ে যাচ্ছে, কেউ গান গাইছে—সেখানেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফেডারেশন ও টেকনিশিয়ানদের কাছে তিনি আবেদন জানান, “যদি ক্ষমা চাইতে হয়, আমি চেয়ে নিচ্ছি অনির্বাণ বা অন্য যাঁরা ব্যান হয়ে আছেন তাঁদের হয়ে। আমরা একটা খারাপ উদাহরণ তৈরি করছি।”


প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এক সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে দেব বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে আমরা কী বার্তা দিচ্ছি? একজন অভিনেতা ব্যান হয়ে আছেন, আর আর্টিস্ট গিল্ড নীরব—এটা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর স্পষ্ট মত, সবার কাজ করার অধিকার থাকা উচিত। শেষে দেব সরাসরি বাংলার মানুষের কাছেই প্রশ্ন ছুড়ে দেন—তাঁরা কি পাশে আছেন? অনির্বাণের? দেবের কিংবা শুভশ্রীর?
লাইভ সেশনে এক সময়ে শুভশ্রী এক আবেগঘন মন্তব্যে বলেন, “আমাদের গর্ব—আমাদের কাছে অনির্বাণ আছে।” তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, এই জট অবিলম্বে খোলা দরকার।


আজকের টলিউডে অনির্বাণ তাই আর শুধু একজন অভিনেতার নাম নয়—তিনি যেন এক লড়াইয়ের প্রতীক। দেবের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত একটি কাস্টিং চয়েস নয়, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ। প্রশ্নটা তাই ক্রমশ বড় হচ্ছে—নিষেধাজ্ঞার বেড়া ভেঙে কি সত্যিই ফিরবেন অনির্বাণ? নাকি আবারও অদৃশ্য শক্তির কাছে হার মানবে শিল্পীর স্বাধীনতা?
উত্তরটা আপাতত অজানা। কিন্তু টলিপাড়ার বাতাস বলছে—এই গল্পের শেষ অধ্যায় এখনও লেখা বাকি।


```