এর আগে ‘রঘু ডাকাত’-এ একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা। তবে থেকেই টলিপাড়ার অন্দরমহলে একাধিক প্রশ্ন উস্কে যায়, টলিপাড়ায় ‘ব্রাত্য’ অনির্বাণ বলেই কি দেবের ছবিতে বারবার?

শেষ আপডেট: 16 January 2026 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সদ্য শোনা গিয়েছিল আবারও অভিনেতা-সাংসদ দেবের প্রজেক্টে কাজ করতে চলেছেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। ২০২৬-এর সর্বাধিক চর্চিত ছবি দেশু-৭-এ নাকি দেখা যাবে তাঁকে। এর আগে ‘রঘু ডাকাত’-এ একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা। তবে থেকেই টলিপাড়ার অন্দরমহলে একাধিক প্রশ্ন উস্কে যায়, টলিপাড়ায় ‘ব্রাত্য’ অনির্বাণ বলেই কি দেবের ছবিতে বারবার? এই নিয়ে যখন নেটদুনিয়ায় শোরগোল, ঠিক তখনই সবটা পরিষ্কার করে দিলেন অভিনেতা নিজেই। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর পরিকল্পনা ঠিক কী? আদপে কি তিনি কোনও প্রস্তাব অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে দিয়েছেন?
অনির্বাণের কাছে দেশু-৭ ছবির প্রস্তাব যাওয়ার বিষয় তিনি বলেন, ''সম্পূর্ণ ভুয়ো খবর। বরং সত্যি বলতে, আমি বুম্বাদাকে (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) ফোন করেছি। বুম্বাদা এখনও হ্যাঁ বা না কিছুই বলেনি। কিন্তু কাল খবরটা বেরোনোর পর থেকে ভাবনা শুরু করেছি, বিষয়টা হলে ভালই হবে।"
পাশাপাশি ফেডারেশন ও অনির্বাণের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে দেব বলেন, "একজন এত ভাল অভিনেতা, ফেডারেশনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আমি ফেডারেশনকে এটাই বলব যে, এই সংস্থা তো সব টেকনিশিয়ানদের মাথা, আমিও টেকনিশিয়ানের ছেলে। আমার বাবা তো বম্বেতে ক্যাটারিং করত। তার ছেলে আজ হিরো হয়েছে। আমি নিশ্চিত, এখানকার টেকনিশিয়ানরাও চান তাঁদের ছেলে-মেয়েরাও ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হোক। আমি কাউকে ব্যান করে দেওয়ার বিপক্ষে। তার মানে এটা নয় যে আমি ফেডারেশনের বিপক্ষে কথা বলছি। যদি ক্ষমা চাইতে হয় অনির্বাণকে, আমি ওর হয়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ওকে দয়া করে কাজ করতে দিন। ও এমন একজন অভিনেতা, যাকে বাংলার দরকার। ওর অনেক অবদান বাকি আছে।"
এখানেই শেষ নয়, দেব বিষয়টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আনারও চেষ্টা করেন। বলেন, "আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করব বিষয়টা দেখার, যাঁরা এতদিন বাংলাকে আগলে রেখেছেন। আমি স্বরূপ বিশ্বাস এবং অরূপ বিশ্বাসকেও অনুরোধ করব। আমি জানি না দেশু ৭-এ অনির্বাণকে কতটা রাখতে পারব। কারণ ও এত বড় অভিনেতা, স্ক্রিপ্টে ওকে ফিট করানো যাবে কিনা জানি না। ওকে মিসইউজ করতে চাই না। কিন্তু এটা চাই, অনির্বাণ কাজ করুক। আমাদের রাজ্যে ৬ মাস ধরে একজন অভিনেতা ব্যানড হয়ে আছেন, এটা অন্যায়। আমি ৩ বারের সাংসদ, বাংলার ছেলে, ভাই, সুপারস্টার, মেগাস্টার হয়ে ফেডারেশনের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ছেলেটাকে কাজ করতে দিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিদিকেও বলব বিষয়টা দেখতে।"
প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকেলে ইম্পার অফিসে স্ক্রিনিং কমিটির এক বৈঠক হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, স্বরূপ বিশ্বাস, প্রযোজক নিসপাল সিংহ রানে, রানা সরকার, প্রমুখ। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথেই এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন অভিনেতা। গত ২৪ ঘণ্টায় যে খবরে তোলপাড় হয়েছে নেটপাড়া, সেই জল্পনায় জল ঢেলে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করলেন তিনি।