হিন্দি ছবির দীর্ঘ সাফল্যের সফর শেষে এবার সম্পূর্ণ নতুন এক ভূখণ্ডে পা রাখলেন শরমন জোশী। পরিচিত ভাষা, চেনা কাজের ধরন কিংবা অভ্যস্ত সংস্কৃতির বাইরে এসে বাংলার সিনেমাজগৎ তাঁর কাছে ছিল একেবারেই অজানা।

শরমন জোশী
শেষ আপডেট: 12 January 2026 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দি ছবির দীর্ঘ সাফল্যের সফর শেষে এবার সম্পূর্ণ নতুন এক ভূখণ্ডে পা রাখলেন শরমন জোশী। পরিচিত ভাষা, চেনা কাজের ধরন কিংবা অভ্যস্ত সংস্কৃতির বাইরে এসে বাংলার সিনেমাজগৎ তাঁর কাছে ছিল একেবারেই অজানা। তবু সেই অচেনাকেই আপন করে নেওয়ার তাগিদ থেকেই প্রথম বাংলা ছবি ‘ভালবাসার মরসুম’-এ অভিনয়ের সিদ্ধান্ত। অভিনেতার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি—এই যাত্রায় তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বাংলা ভাষা, আর সেই ভাষাই ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে তাঁর নতুন শেখার দরজা।
শরমন জানিয়েছেন, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে একেবারে আলাদা। ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রস্তুতির সময় তিনি পুরোপুরি নির্ভর করেছিলেন ইংরেজি ও হিন্দিতে লেখা চিত্রনাট্যের উপর। উচ্চারণ, সংলাপের ছন্দ, আবেগের সূক্ষ্মতা—সবকিছুই ছিল নতুন। তাই শুটিং শুরু হওয়ার আগে প্রতিটি দৃশ্য নিয়ে চলত দীর্ঘ রিহার্সাল। চিফ অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের সঙ্গে বসে সংলাপের মানে, চরিত্রের মুড, আবেগের ওঠানামা—সবটাই ভেঙে ভেঙে বুঝে নেওয়া হতো।
ভাষা মুখে স্বচ্ছন্দে না এলেও আবেগ যেন পর্দা ছুঁয়ে যায়, সেটাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। শরমনের কথায়, ভাষা না জানার সীমাবদ্ধতাকে তিনি ঢাকতে চেয়েছেন মন দিয়ে শোনা আর নিখুঁত প্রস্তুতির মাধ্যমে। ছবিতে তাঁর কণ্ঠে সংলাপ শোনা যাবে না—ডাবিং আর্টিস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। ভাষা তাঁর শক্তির জায়গা নয়, এই সত্য তিনি অকপটে মেনে নিয়েছেন, আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে তাঁর শেখার লড়াই।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় থিয়েটারের শিক্ষা যে তাঁকে ভীষণভাবে সাহায্য করেছে, তা-ও মানছেন অভিনেতা। থিয়েটার তাঁকে শিখিয়েছে প্রতিটি নতুন চরিত্রের সামনে নিজেকে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে—আগের সাফল্য বা অভিজ্ঞতার বোঝা সঙ্গে না নিয়ে। সেই মানসিক প্রস্তুতিই তাঁকে নতুন ভাষা, নতুন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সাহস জুগিয়েছে।
শুধু বড় পর্দাতেই নয়, মঞ্চেও ফিরছেন শরমন জোশী। আগামী ২৫ জানুয়ারি মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর নতুন ইংরেজি নাটক, যেখানে থাকবে দুটি আলাদা গল্প। Dear Sundari—ভাষার ভিন্নতা সত্ত্বেও গড়ে ওঠা এক আন্তঃসাংস্কৃতিক প্রেমের গল্প। আর Goodbye Kiss—একজন অভিনেতা ও থিয়েটারের মধ্যকার আবেগঘন কথোপকথন, যেখানে থিয়েটার নিজেই এক নারীর রূপক।
এর মধ্যেই টলিউডে তাঁর প্রথম ছবির ঘোষণা ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ। বলিউডে ‘রং দে বসন্তী’ থেকে ‘থ্রি ইডিয়টস’—একাধিক হিট ছবির মাধ্যমে দর্শকের মনে পাকাপাকি জায়গা করে নেওয়া শরমন এবার বাংলা ছবিতে। তাঁর বিপরীতে থাকছেন সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘লহ গৌরাঙ্গ’-এ নজর কেড়ে নেওয়া এই তরুণী অভিনেত্রী এবার বড় পরিসরে, বলিউড তারকার সঙ্গে জুটি বেঁধে পর্দায় আসছেন।

ছবির নাম ‘ভালবাসার মরসুম’, পরিচালনায় এম এন রাজ। প্রযোজনায় মেহর এন্টারটেনমেন্ট ভেঞ্চার্স, হিমানি ফিল্মস ও ফ্লোটিং ওয়াটার। গল্পে মিলবে প্রেম, বন্ধুত্ব আর বাংলার আবেগের রঙিন মিশ্রণ। কলেজ জীবনের বন্ধুত্বের উষ্ণতা আর দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন—দু’টি সময়ের সম্পর্কের টান একসঙ্গে ধরা পড়বে ছবিতে। শুধু শরমন-সুস্মিতাই নয়, আর এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকছেন খাইরুল বাসার। দার্জিলিং ও মুর্শিদাবাদে শুরু হবে শুটিং। চরিত্রের প্রয়োজনে ইতিমধ্যেই বাংলা শেখা শুরু করেছেন শরমন।
ভাষা, মাধ্যম, আরামের গণ্ডি পেরিয়ে গল্পের খোঁজেই এগিয়ে চলেছেন শরমন জোশী। প্রশ্ন একটাই—যে বাংলা ভাষা ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সেই ভাষার দর্শকরাই কি তাঁর এই সাহসী যাত্রাকে আপন করে নেবেন?